আই নিউজ প্রতিবেদক
আদালতে হাজিরা দিতে হবে না ড. ইউনূসের
বাংলাদেশী নোবেলজয়ী ড. ইউনূস
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার পর তাঁকে ব্যাক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। এর ফলে অভিযুক্ত ড. ইউনূসকে আর আদালতে হাজিরা দেয়া লাগবে না।
ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের আবেদনে শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা এ আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে গত ৬ জুন বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি থাকার কারণে ব্যাক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির দেওয়ার জন্য আবেদন করেন ড. ইউনূস। ওই আবেদনে বলা হয়, তিনি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই তার মামলায় ব্যাক্তিগত উপস্থিতি থেকে অব্যাহতির জন্যে আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হলো। মঙ্গলবার (৬ জুন) ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক বেগম শেখ মেরিনা সুলতানা এ আদেশ দেন।
লেবার আইনের ৪ এর (৭) এবং (৮) ধারায় শ্রমিকদেরকে স্থায়ী করা হয়নি এবং ১১৭ জনকে আনলিভ দেওয়া হয়নি আর ২৩৪ ধারা অনুযায়ী তাদের মুনাফার ৫ শতাংশ দেওয়া হয়নি। এ কারণে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।
তথ্য নিশ্চিত করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন আরো জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়া মামলায় অপর তিন বিবাদী হলেন গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান।
ড. ইউনূসের ১২শ’ কোটি টাকা কর ফাঁকির শুনানি ৩০ জুলাই
অপরদিকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পাঁচ বছরে প্রায় ১২শ কোটি টাকা কর ফাঁকি ও ইনকাম ট্যাক্স বিষয়ক ১৩টি মামলার শুনানি আগামী ৩০ জুলাই হবে বলে ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১১ জুন) সকালে বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল শুনানির ৩০ জুলাই দিন ধার্য করেন। সেই সঙ্গে ১৬ আগস্ট ও ২০ আগস্টও এ মামলাগুলোর শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন দ্রুত শুনানির আবেদন করেন তবে আদালত শুনানির জন্য নির্দিষ্ট শিডিউল দেখে এ তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে ৬ জুন নতুন এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি।
গত ৫ জুন বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের দ্বৈত বেঞ্চ জানান কনিষ্ঠ বিচারপতি এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেছিলেন কাজেই তারা এটি শুনতে পারবেন না। পরে নথি পাঠানো হয় প্রধান বিচারপতির কাছে।
গত ৭ মে হাইকোর্টকে এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয় ২০১২-১৭ এ পাঁচ বছরে ১১শ’ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এর আগে, ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় সাড়ে ১১শ’ কোটি টাকার আয়কর রিটার্নের মামলা চালুর জন্য হাইকোর্টে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে-সরকারের পাওনা অর্থগুলোর মধ্যে একটি হলো গ্রামীণ কল্যাণ ৫৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ৫৭ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। গ্রামীণ কল্যাণের আরেকটিতে ৩৫৪ কোটি ৭৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৭ টাকা এবং গ্রামীণ টেলিকমের একটিতে সরকারের পাওনা ২১৫ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ মোমেন্টেস এর তথ্যমতে জানা যায়, এরই মধ্যে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ও তার প্রতিষ্ঠিত ৯টি প্রতিষ্ঠানের কর সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে এনবিআরের কাছে চিঠিও দিয়েছিল দুদক। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআরের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট সার্কেল এবং জরিপ দপ্তরকে মৌখিক নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।
কর ফাঁকি ও অর্থ নিয়ে যা বলছে ইউনূস পক্ষ
এদিকে আদালতে যখন ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি নিয়ে গুঞ্জন চলছে তখন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অর্থ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইউনূস সেন্টার। গণমাধ্যম ও আদালতে ড. ইউনূসের যে অর্থের কথা বলা হয়েছে তা পুরোটাই ড. ইউনূসের নিজের অর্জন করা বলে জানিয়েছে এই সেন্টার।
শুক্রবার ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়- উপার্জনের সূত্র হিসেবে ড. ইউনূসের বক্তৃতার উপর প্রাপ্ত ফি, বই বিক্রির টাকা এবং পুরস্কারের টাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এর প্রায় পুরো টাকা বিদেশে অর্জিত টাকা। এই টাকা বৈধভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা হয়েছে। কর বিভাগ তা অবহিত আছে। কারণ সব টাকার হিসাব তাঁর আয়কর রিটার্নে উল্লেখ থাকে।
বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি জীবনে কোনো সম্পদের মালিক হতে চাননি। তিনি মালিকানামুক্ত থাকতে চান। কোথাও তাঁর মালিকানায় কোনো সম্পদ নেই (বাড়ি, গাড়ি, জমি, শেয়ার ইত্যাদি)। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁর উপার্জনের টাকা দিয়ে তিনি দুটি ট্রাস্ট গঠন করবেন। তিনি তাই করলেন।
একটি ট্রাস্ট করলেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ট্রাস্ট এবং অল্প কিছু টাকা দিয়ে (মোট টাকার ৬%) উত্তরসূরীদের কল্যাণের জন্য করলেন ইউনূস ফ্যামিলি ট্রাস্ট। ফ্যামিলি ট্রাস্টের মূল দলিলে এই রূপ বিধান রেখে দিলেন যে তাঁর পরবর্তী এক প্রজন্ম পরে এই ট্রাস্টের অবশিষ্ট টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল ট্রাস্টে ফিরে যাবে। তিনি এটি করেন যাতে তাঁর বর্তমানে এবং অবর্তমানে টাকাটা ট্রাস্টিদের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে থাকে এবং তাঁরা ট্রাস্ট দুটির লক্ষ্য বাস্তবায়নে তৎপর থাকে।
ড. ইউনূসের কর ফাঁকি দেয়ার প্রশ্ন ওঠে না দাবী করে ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়- কর দিতে হবে কিনা এ ব্যাপারে তাঁর (ইউনূস) পক্ষ থেকেই আদালতের সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হয়েছিল। আদালতে সরকার যায়নি, প্রফেসর ইউনূস গিয়েছেন। কর বিভাগ কোনো পর্যায়ে বলেনি যে প্রফেসর ইউনূস কর ফাঁকি দিয়েছেন। এখানে কর ফাঁকি দেওয়ার কোনো প্রশ্ন উঠেনি। প্রশ্ন ছিল আইনের প্রয়োগ যোগ্যতা নিয়ে। এখন প্রফেসর ইউনূস বিবেচনা করবেন তিনি কর পরিশোধ করবেন নাকি উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত চাইবেন। করের আইন যদি এক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য না হয় প্রফেসর ইউনূস তাহলে সে টাকাটা জনহিতকর কাজে ব্যবহার করার সুযোগ পাবেন। এই হলো কর নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবার জন্য নয়।
আই নিউজ/এইচএ
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

























