Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ২৪ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ১১ ১৪৩২

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৮:৫১, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

দুর্গা মন্দিরের চাঁদার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রাজঘাট চা বাগানের নবনির্মিত দুর্গা মন্দির। ছবি: আই নিউজ

রাজঘাট চা বাগানের নবনির্মিত দুর্গা মন্দির। ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রাজঘাট চা বাগানের দুর্গা মন্দির নির্মাণের জন্য চা শ্রমিকদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ৩৪ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগের পঞ্চায়েত কমিটির কাছে একাধিকবার হিসাব চাওয়া হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এরই প্রেক্ষিতে বর্তমান পঞ্চায়েত উপদেষ্টা কমিটির উদ্যোগে সাধারণ চা শ্রমিকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে রাজঘাট চা বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, দুর্গা মন্দিরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দেয়ালে প্লাস্টার ও রঙের কাজ কিছুটা বাকি থাকলেও সিঁড়ির রেলিং, দরজা-জানালা স্থাপনসহ অন্যান্য কাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

রাজঘাট চা বাগানের পঞ্চায়েত উপদেষ্টা কমিটির বর্তমান সভাপতি অবাঞ্চিত তাঁতী অভিযোগ করে বলেন, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মন্দির নির্মাণের জন্য প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি শ্রমিকের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এভাবে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। আগের পঞ্চায়েত কমিটি মন্দির নির্মাণ শুরু করলেও দায়িত্ব ছাড়ার সময় কোনো আর্থিক হিসাব বর্তমান কমিটির কাছে হস্তান্তর করেনি। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তারা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আগের কমিটির সভাপতি পলাশ তাঁতী ও সাধারণ সম্পাদক অনিল তাঁতী রাজঘাট চা বাগানের মূল সড়কের পাশে অবস্থিত জগন্নাথ মন্দিরের দেয়ালে টাঙানো একটি ব্যানারে উল্লেখ করেন মন্দির নির্মাণে মোট আয় হয়েছে ৭৩ লাখ ৬০ হাজার ৬০ টাকা, আর ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭৯ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ টাকা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় শ্রম দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের দুইজন প্রকৌশলী মন্দির নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্দির নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ টাকা। অতিরিক্ত কিছু খরচ যোগ করে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। পঞ্চায়েত উপদেষ্টা কমিটির দাবি, অবশিষ্ট টাকা ফেরত চেয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও আগের কমিটির সদস্যরা টাকা ফেরত দিচ্ছেন না এবং আলোচনাতেও বসছেন না।

পঞ্চায়েত উপদেষ্টা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পলাশ বুনার্জী বলেন, “মন্দির নির্মাণের নামে যেসব ব্যয়ের খাত দেখানো হয়েছে, তা অত্যন্ত হাস্যকর। চা বাগান কর্তৃপক্ষ বালু সরবরাহ করেছে, প্রতিটি শ্রমিক পরিবার একটি করে বাঁশ দিয়েছে এবং অনেক শ্রমিক বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দিয়েছেন। এরপরও মনগড়া হিসাব দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।”

চা শ্রমিক কল্পনা বাউড়ি বলেন, “আমরা কষ্ট করে মজুরি পাই। সেই টাকায় মন্দির হবে এটাই ছিল আমাদের আশা। যদি আমাদের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ হয়ে থাকে, তাহলে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রশাসনের কাছে দাবি, টাকা উদ্ধার করে শ্রমিকদের ফেরত দেওয়া হোক।”

অভিযোগের বিষয়ে রাজঘাট চা বাগানের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনিল তাঁতী তা অস্বীকার করে বলেন, “মন্দির নির্মাণে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হয়েছে। কিছু মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। জেলা পরিষদের প্রকৌশলীরা আমাদের সঙ্গে কথা না বলেই ব্যয়ের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। আমরা কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি; বরং এখনো আমাদের পাওনা রয়েছে।”

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, “রাজঘাট চা বাগানের মন্দির নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে অবগত হয়েছি। শ্রম দপ্তর, চা বাগান কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়