Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২১ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:১০, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

চা বাগান থেকে গ্রামের আঁকাবাঁকা পথঘাটে পরিবর্তনের বার্তা

নীরব প্রচারণায় মানুষের আস্থা কুড়াচ্ছেন এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ। ছবি: আই নিউজ

নীরব প্রচারণায় মানুষের আস্থা কুড়াচ্ছেন এনসিপি প্রার্থী প্রীতম দাশ। ছবি: আই নিউজ

চা বাগান আর গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ঘুরে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ। বড় গাড়িবহর বা শোরগোল ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে তিনি চালাচ্ছেন ব্যতিক্রমী নির্বাচনী প্রচারণা।

গত রোববার সকাল ৯টায় একটি নোহা গাড়ি নিয়ে শ্রীমঙ্গল থেকে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রীতম দাশ। অন্যান্য প্রার্থীদের মতো তাঁর সঙ্গে ছিল না কোনো মোটরসাইকেল কিংবা গাড়ির বহর। সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি পৌঁছান রাজঘাট চা বাগান এলাকায়। সেখানে শ্রমিক কলোনিতে ঘুরে ঘুরে জনসংযোগ করেন। এরপর হরিণছড়া চা বাগানের মা মারিয়া তীর্থস্থানে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে মির্জাপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। ইছামতি চা বাগানের মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরেও জনসংযোগ করেন। বিকেলে হরিনাকান্দি গ্রাম ও রাজঘাট চা বাগানে আয়োজিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে অংশ নেন এনসিপি প্রার্থী।

এর আগে গত শুক্রবার সারাদিন তাঁর সঙ্গে মাঠে ছিলেন এই প্রতিবেদক। সেদিন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়া, ভাড়াউড়া, সোনাছড়া, জাগছড়া, কালাছড়া (গারো লাইন), মাইজদিহি ও নারায়ণছড়া চা বাগানে মাত্র দুইজন কর্মী নিয়ে চা শ্রমিকদের সঙ্গে জনসংযোগ করেন প্রীতম দাশ। কাজের ফাঁকে শ্রমিকরা এগিয়ে এসে তাঁদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই রাস্তায় তাঁকে জড়িয়ে ধরেন, হাত মেলান।

চা শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রীতম দাশ বলেন, “আপনারা বড় বড় নেতা দেখেছেন, যারা বড় গাড়ি নিয়ে আসে। কিন্তু ভোটের পর আপনাদের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে? আমি ক্ষমতায় না থেকেও আপনাদের আন্দোলন-সংগ্রামে পাশে ছিলাম। যদি আমাকে বিজয়ী করেন, আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আর বিজয়ী না হলেও আমি আপনাদের পাশে থাকব।”

চা শ্রমিক অনিল রবিদাশ বলেন, “ভোটের আগে সবাই আসে, পরে কাউকে পাই না। প্রীতম দাশকে আমরা চা বাগানের মানুষ চিনি। তিনি অনেক আগ থেকেই আমাদের জন্য আন্দোলন করেছেন। তাই আজ তাঁকে আশীর্বাদ করলাম।”

দুপুরে নিশ্চিন্তপুর গ্রামে শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৮তম জন্মমহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রীতম দাশ। বিকেলে তিনি ভৈরবগঞ্জ বাজারের সাপ্তাহিক হাটে লিফলেট বিতরণ ও জনসংযোগ করেন।

নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গে প্রীতম দাশ বলেন, “আমার নির্বাচনী আসন দেশ-বিদেশে পরিচিত। প্রতিদিন পর্যটক আসে, অথচ পর্যটনের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হয়নি। একজন এমপি টানা সাতবার নির্বাচিত হয়েছেন চা শ্রমিকদের ভোটে, কিন্তু চা শ্রমিকদের জীবনমান বদলায়নি। রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, বেকার যুবকের সংখ্যা বাড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ অপার সম্ভাবনার জনপদ হলেও সেই সম্ভাবনা আজ অবরুদ্ধ। পর্যটন আছে, কিন্তু স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান নেই। চা বাগান আছে, কিন্তু শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে, কিন্তু পরিকল্পিত উন্নয়ন নেই। যুবসমাজ আছে, কিন্তু সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নেই।”

শেষে তিনি বলেন, “আমি এই এলাকার মানুষ। সমস্যা জানি, সমাধানের পথও জানি। দীর্ঘ এক যুগ ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। এখন সময় এসেছে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে পরিবর্তনের। আমি আশাবাদী, এখানকার মানুষ আমাকে তাদের উন্নয়নের জন্য বিজয়ী করবেন।”

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮ জন। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের ১৬৩টি ভোটকেন্দ্রে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়