Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ১৬ ১৪৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২২, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ২১:৩৭, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

গল্ফ মাঠ খুঁড়ে চা ও রাবার গাছ রোপণ

কমলগঞ্জে পর্যটন কেন্দ্র রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: আই নিউজ

ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র শমশেরনগর চা বাগানের গল্ফ মাঠ ধ্বংসের আশঙ্কায় স্থানীয় ছাত্র ও যুব সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ডানকান ব্রাদার্সের মালিকানাধীন শমশেরনগর চা বাগান কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্বঘোষণা বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই গল্ফ মাঠ ও আশপাশের টিলা খুঁড়ে চা ও রাবার গাছ রোপণের কাজ শুরু করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শমশেরনগর গল্ফ মাঠ মৌলভীবাজার জেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক এখানে এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। তবে হঠাৎ করে মাঠের একটি অংশ খনন করায় পরিবেশের ভারসাম্য ও পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় স্থানীয় ছাত্র ও যুবকদের উদ্যোগে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শমশেরনগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পঞ্চমোহনা এলাকায় এসে এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একটি প্রতিষ্ঠিত পর্যটন কেন্দ্র এভাবে ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন হলেও চা বাগান কর্তৃপক্ষ তা না নিয়েই কাজ শুরু করেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

পর্যটক নজমুল ইসলাম বলেন, “চা বাগান কর্তৃপক্ষ যে কার্যক্রম শুরু করেছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র ধ্বংস করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে? চাইলে তারা টিকিটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত পর্যটন চালু করে গল্ফ মাঠ সংরক্ষণ করেও আয় বাড়াতে পারত।”

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ ও এস এম এ মোহিন বলেন, “একটি পর্যটন স্পট ধ্বংস করা মানে পরিবেশ ধ্বংস করা। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাগানের এক কর্মকর্তা জানান, “এ এলাকাটি চা বাগানের নিজস্ব জমি। অবাধ পর্যটক প্রবেশের কারণে গল্ফ মাঠ ও চা বাগানের ক্ষতি হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে।”

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। চা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। অবাধ পর্যটক প্রবেশের কারণে সমস্যার কথা তারা জানিয়েছে। তবে সব দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়