ঢাকা, রোববার   ২৯ নভেম্বর ২০২০,   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৭

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১২:৪৪, ১৬ নভেম্বর ২০২০

কাঞ্চনজঙ্ঘা: যেন বৈচিত্রময় সৌন্দর্যের এক গিরিবধূ

কাঞ্চনজঙ্ঘা, প্রকৃতির শেত শুভ্র অপার এক সৌন্দর্যের নাম। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা থেকে বছর বেশ পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে প্রকৃতির এই গিরিবধূকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাওয়ার ছবি পোস্ট করছেন।

যে কিনা চর্মচোখ দিয়ে কখনোই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখেনি তার প্রথম বার কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনে প্রথম প্রেমে পড়ার মতো মনে হতে পারে। কেননা রূপ, লাবণ্য আর ইতিহাসে কাঞ্চনজঙ্ঘা এমনই অনুপম সুন্দর এক পর্বতশৃঙ্গ।

সারাদিন তাকিয়ে থাকলেও কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপদর্শনে কখনোই বিরক্তি আসে না। বরং সৌন্দর্যের বৈচিত্রতায় দর্শকের চোখ জুড়িয়ে রাখে কাঞ্চনজঙ্ঘা। দিনের মধ্যভাগে মনে হয় যেন এক খন্ড প্রকান্ড মেঘ উত্তরের আকাশটা দখল করে দাঁড়িয়ে আছে। সারাদিনে কোন নড়চড় নেই। বিকেলে যেন বরফ লজ্জায় রাঙ্গা হতে শুরু করে। আর গোধূলি বেলায় পুরো কাঞ্চনজঙ্ঘা আবীরখেলায় মেতে ওঠে চপল কিশোরীর মত।

কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ, যার উচ্চতা ২৮ হাজার ১৬৯ ফুট। তবে ১৮৫২ সালের আগেও কাঞ্চনজঙ্ঘাকে পৃথিবীতে হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্ঘ ভাবা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে  ১৮৪৯ সালে ভারতের বৃহৎ ত্রিকোণমিত্রিক জরীপে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেল যে পিক XV বলে পরিচিত মাউন্ট এভারেস্টই হচ্ছে পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ। আরো কিছু পুনঃনিরীক্ষণ করার পর ১৮৫৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় যে কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ।

সেতো গেলো কাঞ্চনজঙ্ঘার উচ্চতার হিসেব। কিন্তু যেই কাঞ্চনজঙ্ঘা ঠাই নিয়েছে অনেক সাহিত্যিকের সাহিত্য উপমায় তার অন্য এক সৌন্দর্যও রয়েছে। আর তাহল কাঞ্চনজঙ্ঘার অনুপম সৌন্দর্য এবং টাইগার হিলের চিত্তাকর্ষক সূর্যোদয় দেখার জন্য প্রতিবছর হাজারো পর্যটক ভিড় করেন।