নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:৫৯, ২ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপি-জামায়াতে আশ্রয় পাচ্ছেন আ.লীগ নেতাকর্মীরা: মোস্তফা ফিরোজ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোস্তফা ফিরোজ। ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য আশ্রয় গ্রহণ নিয়ে। বৃহস্পতিবার ‘ভয়েস বাংলা’ নামে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোস্তফা ফিরোজ।
ভিডিওতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মী বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। নির্বাচনী রাজনীতির চাপে তারা নতুন করে রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। কেউ ভোটার হিসেবে সক্রিয় হতে চান, কেউবা সরাসরি ভিন্ন দলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির পক্ষ থেকে আশ্বাসের সুর শোনা যাচ্ছে “তোমরা আমাদের কাছে এসো, তোমাদের সমস্যা হবে না।”
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই আশ্রয়ের রাজনীতিতে আদর্শ ও ন্যায়বিচারের ভারসাম্য কতটা রক্ষা পাবে? বিশ্লেষকের মতে, আওয়ামী লীগের ভেতরে যারা সত্যিকার অর্থে দুর্নীতি, অপকর্ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা যদি দলবলে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে ঢুকে পড়েন, তাহলে সেই দলগুলোর রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা মূলত শান্তি ও স্থিতিশীলতার বার্তা। কিন্তু বাস্তবে যেসব গোষ্ঠী মব তৈরি করে সহিংসতা চালাচ্ছে ছায়ানট, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার কিংবা আওয়ামী লীগের বাসাবাড়িতে হামলার ঘটনা তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও অস্থির করে তুলছে। এই প্রবণতা আদর্শিক রাজনীতিকে বিপন্ন করছে।
নির্বাচনের সময় রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়। আত্মরক্ষার তাগিদে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী ভিন্ন দলে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু গণহারে এই প্রবেশ যদি ঘটে, তবে সংশ্লিষ্ট দলগুলো অপরাধীদের রক্ষাকবচে পরিণত হবে কি না, সে আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জামায়াতের কোনো কোনো নেতার বক্তব্যে ‘প্রটেকশন’ দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন, রাজনীতিতে প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচারই হওয়া উচিত মূল ভিত্তি। নিরীহ ও অপরাধে জড়িত নন এমন মানুষদের শুধুমাত্র আদর্শগত পরিচয়ের কারণে যেন হয়রানি করা না হয়। তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার থাকতে হবে। অন্যদিকে, যারা সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধী, তাদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
সবচেয়ে বড় ভয়টা হলো এই প্রক্রিয়ায় আদর্শিক রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। নির্বাচন এলেই যদি দলগুলো আদর্শ বিসর্জন দেয়, তবে বিএনপি বা জামায়াত কতদিন নিজেদের ঘোষিত নৈতিক অবস্থানে অটল থাকতে পারবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। যেমনটি ফজলুর রহমান বলেছেন, সবাইকে গ্রেপ্তার করা যেমন সমাধান নয়, তেমনি দুর্নীতিবাজদের আবার ছাড় দেওয়াও চলবে না।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়, রাজনৈতিক দলগুলো কি এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে? নাকি নির্বাচনী বাস্তবতায় আদর্শ আবারও হার মানবে ক্ষমতার রাজনীতির কাছে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।
ইএন/এসএ
- বাংলাদেশে শিশু শ্রম: কারণ ও করণীয়
- পনেরো আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক দ্বন্ধ
মোশতাক বললেও মন্ত্রীদের কেউ সেদিন বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে যায়নি! - ২০২৩ সালে কী সত্যিই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আসছে?
- করোনা যেভাবে চিকিৎসকদের শ্রেণীচ্যুত করলো
- চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সমস্যা এবং সম্ভাবনা
- ফিলিস্তিনে প্রাণ হারাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কুকুর স্থানান্তরকরণ ও ভবিষ্যৎ
- শরীফার গল্প পড়তে আমাদের এতো কেন সমস্যা?
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী গণমাধ্যমের ভূমিকা
- রেমডেসিভির একটি অপ্রমাণিত ট্রায়াল ড্রাগ

























