আই নিউজ ডেস্ক
নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেবো না: সুশীলা কারকি
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি।
নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেবো না- এমন দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান সুশীলা কারকি। তরুণ আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের মুখে সরকারের ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
সোমবার ‘ভয়েস বাংলা’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিওতে সুশীলা কারকির বক্তব্য বিশ্লেষণ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোস্তফা ফিরোজ। তিনি বলেন, “সুশীলা কারকির ‘নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেবো না’ এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।”
মোস্তফা ফিরোজের মতে, সুশীলা কারকি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে যেভাবে রাজনৈতিক দল ও তরুণ সমাজের একাধিক চাপের মুখে সরকার কার্যত বেসামাল অবস্থায় পড়েছে, নেপালেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সুশীলা কারকি তাঁর সরকারের ওপর রাজনৈতিক দল ও তরুণ প্রজন্মের ক্রমাগত চাপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘আকস্মিক ঝড়’-এর সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিনিয়ত সরকার ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে, আর তথাকথিত জেনজি তরুণদের একটি অংশ প্রতিদিনই সরকারকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দিচ্ছে।
সুশীলা কারকি বলেন, “সরকার ছাড়ার অর্থ কী? কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পরই এখন সরে দাঁড়ানোর কথা বলে আমাদের অপমান করা হচ্ছে।” তিনি আক্ষেপ করে জানান, তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিয়ত কটূক্তি ও গালিগালাজ শুনতে হচ্ছে। নিজেদের অবস্থানকে তিনি ‘পেন্ডুলাম’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, একদিকে ধাক্কা, আবার অন্যদিকে ধাক্কা সবকিছু সহ্য করেই ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।
তিনি আরও জানান, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন জেনজি তরুণ একেকজন একেক ধরনের দাবি নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যেখানেই যাওয়া হোক, শান্তি মিলছে না। তাঁর অভিযোগ, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। দফায় দফায় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মোস্তফা ফিরোজ বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে বাংলাদেশের প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী আরও দুর্বল হয়েছে। মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং দুর্নীতি আরও গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ নয়, সেনাবাহিনী নামাতে হচ্ছে যা রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।
তিনি সুশীলা কারকিকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সুশীলা কারকি একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি হিসেবে বাস্তবতা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন। সে কারণেই তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ছয় মাসের বেশি তিনি ক্ষমতায় থাকবেন না। অন্যদিকে, ড. ইউনূস শুরুতে তরুণদের সমর্থনের ওপর ভরসা করে রাজনৈতিক দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা করেছিলেন, যার ফল এখন বাংলাদেশে স্পষ্ট।
মোস্তফা ফিরোজের ভাষায়, “নেতৃত্বহীন ও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য ছাড়া যে কোনো অভ্যুত্থান শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয় বাংলাদেশ তার বড় উদাহরণ।”
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন মোস্তফা ফিরোজ। তিনি বলেন, দেশে আদৌ কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তাঁর মতে, আগে এক ধরনের ফ্যাসিবাদ ছিল, এখন আরেক ধরনের নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে। এখন গান, নাচ, নাটক কিংবা মুক্তভাবে কথা বলার ক্ষেত্রেও নানা বাধা তৈরি হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বললেই অনেককে রাজনৈতিক দোসর বা বিদেশি প্রভাবের তকমা দেওয়া হচ্ছে। দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি ‘পরিবর্তনের’ ভয়াবহ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোস্তফা ফিরোজ বলেন, “আগে কোনো অন্যায় হলে শেখ হাসিনাকে দায়ী করা যেত। এখন দায়ী করা হবে কাকে? সরকারই বলছে সবাই মিলে তো এই সরকার। ভয়ংকর এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
এই বাস্তবতা থেকেই নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান সুশীলা কারকি আগেভাগেই সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে তিনি স্পষ্ট করেছেন নেপালকে বাংলাদেশ হতে দেবো না।
এখন প্রশ্ন একটাই শেষ পর্যন্ত সুশীলা কারকির এই কঠোর অবস্থান সফল হবে, নাকি বাংলাদেশে ড. ইউনূসের মতো তিনিও একই বাস্তবতার মুখোমুখি হবেন? সময়ই দেবে সেই উত্তর।
ইএন/এসএইচএ
- বাংলাদেশে শিশু শ্রম: কারণ ও করণীয়
- পনেরো আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক দ্বন্ধ
মোশতাক বললেও মন্ত্রীদের কেউ সেদিন বঙ্গবন্ধুর লাশের সঙ্গে যায়নি! - ২০২৩ সালে কী সত্যিই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আসছে?
- করোনা যেভাবে চিকিৎসকদের শ্রেণীচ্যুত করলো
- চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সমস্যা এবং সম্ভাবনা
- ফিলিস্তিনে প্রাণ হারাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কুকুর স্থানান্তরকরণ ও ভবিষ্যৎ
- শরীফার গল্প পড়তে আমাদের এতো কেন সমস্যা?
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী গণমাধ্যমের ভূমিকা
- রেমডেসিভির একটি অপ্রমাণিত ট্রায়াল ড্রাগ

























