Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০৭ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ২৪ ১৪৩২

মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ইউকে

প্রকাশিত: ২০:৪১, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ২০:৫১, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

৭৮ বছরে ছাত্রলীগ: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের আলোকবর্তিকা

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুদীর্ঘ ৭৮ বছরের ইতিহাস কোনো দুর্বৃত্ত বা ষড়যন্ত্রের কাছে জিম্মি হওয়ার নয়। শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী এই সংগঠন বাঙালি জাতির প্রতিটি ঐতিহাসিক সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক একজন ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে গভীর আবেগ ও দায়িত্ববোধ থেকে এই শুভেচ্ছা ও বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

স্কুলজীবন থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ধাপে ছাত্রলীগের মিছিলে সক্রিয় অংশগ্রহণ, যৌবনে যুবলীগ এবং পরবর্তীতে প্রবাসে থেকেও আওয়ামী লীগের আদর্শিক ব্যানার বহনের মধ্য দিয়ে লেখকের রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছাত্রলীগকেন্দ্রিক। ১৯৮৪ সালে স্কুলে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতির প্রথম পাঠ শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগের মাধ্যমে। প্রথম মিছিল, প্রথম দেয়াল লিখন, প্রথম মাইকিং, কলেজ জীবনের প্রথম নবীন বরণ, সবকিছুতেই ছিল ছাত্রলীগ।

১৯৯০-এর গণআন্দোলনে জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের সংগঠক হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে এসে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন ও যুবলীগে দায়িত্ব পালন করেন। আজও প্রবাসের মাটিতে আওয়ামী লীগের আদর্শিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

তবে বর্তমান সময়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাস্তবতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লেখায় উল্লেখ করা হয়, আজ ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছেন না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছেন না, স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। মিথ্যা মামলা, গণগ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয় আইনের শাসনের নামে নির্যাতন ও প্রহসন চলছে। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অন্ধকার যত গভীরই হোক, আলো আসবেই। কারণ সত্য কখনো মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না।

লেখায় ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়- বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মানেই ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন।

ছাত্রলীগ মানেই মুক্তি, শক্তি, শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি এটি কোটিকোটি মানুষের আবেগ ও আত্মপরিচয়ের নাম। এই সংগঠন কোনো ভুঁইফোড় সংগঠন নয় যে প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিষিদ্ধ করা যাবে। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করার চেষ্টা মানে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গৌরবময় অধ্যায় মুছে ফেলার অপচেষ্টা।

এখানে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছিল, অথচ সেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগই স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল বাংলাদেশকে ১৭ হাজার ছাত্রলীগ কর্মীর রক্তের বিনিময়ে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বারবার বলেছিলেন, “ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস।”

লেখায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দমন-পীড়ন, মব সন্ত্রাস, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের অবনতির কঠোর সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

পরিশেষে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেবল একটি সংগঠন নয় এটি একটি আদর্শ, একটি চেতনা, একটি ইতিহাস। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই অনুভূতি বহমান থাকবে। নিষিদ্ধ করেও ছাত্রলীগকে দমিয়ে রাখা যাবে না। যতবার আঘাত আসবে, ততবারই আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে ছাত্রলীগ।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত সকল সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের প্রতি জানানো হয় আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মুজিবীয় অভিনন্দন এই প্রত্যয়ে যে, অন্ধকার পেরিয়ে আলোর সূর্য আবারও উদ্ভাসিত হবেই।

মোহাম্মদ মকিস মনসুর, লেখক ও সাংবাদিক, ইউকে

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়