ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭

জিএম ইমরান হোসেন, শাবি

প্রকাশিত: ০০:৪১, ১৯ মে ২০২০
আপডেট: ০১:০৪, ১৯ মে ২০২০

বাংলাদেশের বুকে ভয়ঙ্কর যত ঘূর্ণিঝড়

প্রাকৃতিক দূর্যোগগুলোর মধ্যে এক আতঙ্কের নাম ঘূর্ণিঝড়। কেননা, এ দুর্যোগে মানুষের প্রাণহানিসহ ক্ষতিকরক প্রভাব বয়ে বেড়াতে হয় যুগ যুগ ধরে। আর ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশকে এ ধরণের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় কয়েক বছর পর। আর, বাংলাদেশের বুকে আঘাতহানা উল্লেখযোগ্য কিছু ঘুর্ণিঝড় নিয়ে আজকের এ আয়োজন।

ঘূর্ণিঝড় কি?

ভয়ঙ্কর সব ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে জানার আগে আমারা জেনে নেই ঘূর্ণিঝড় কি? ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘সাইক্লোন’ গ্রিক শব্দ ‘কাইক্লোস’ (Kyklos) থেকে এসেছে। কাইক্লোস শব্দের অর্থ কুন্ডলী পাকানো সাপ। ঘূর্ণিঝড়ের উপগ্রহ চিত্র থেকে এমনতর নামকরণের যথার্থতা বোঝা যায়। ব্রিটিশ-ভারতীয় বিজ্ঞানী ও আবহাওয়াবিদ হেনরী ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত সামুদ্রিক দুর্যোগ বিষয়ক পুস্তক The Sailor’s Horn-book for the Law of Storms -এ প্রথমবারের মতো সাইক্লোন শব্দটি ব্যবহার করেন।

ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলী ঝড় বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে এটি সংঘটিত হয়। এটি সাধারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সমূহের একটি। ঘূর্ণিঝড় হলো গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় (Tropical cyclone) বা বায়ুমন্ডলীয় একটি উত্তাল অবস্থা যা বাতাসের প্রচন্ড ঘূর্ণায়মান গতির ফলে সংঘটিত হয়।

উল্লেখযোগ্য ঘূর্ণিঝড় সমূহ

ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায় যে, ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঘণ্টায় ৫৪ কিমি-এর বেশি গতিবেগসম্পন্ন ১৭৪টি ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ঘূর্ণিঝড়গুলির সবকটিই বাংলাদেশে আঘাত হানে নি। আঘাত হানা উল্লেখযোগ্য কিছু ঘূর্ণিঝড় হল-

১৫৮৪ সালের ঘূর্ণিঝড়:

১৫৮৪ সালে বাকেরগঞ্জ এবং পটুয়াখালী জেলায় আঘাত হানে। বজ্রবিদ্যুৎসহ হারিকেনের বৈশিষ্ট্য সম্বলিত এ ঝড় পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল; কেবল উঁচু স্থানে স্থাপিত মন্দিরগুলি ছাড়া সমস্ত ঘরবাড়ি নিমজ্জিত হয় এবং বহু নৌযান ডুবে যায়। মানুষ ও গৃহপালিত জীব মিলিয়ে প্রায় ২০,০০,০০০ প্রাণহানি ঘটে।

১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড়:

১৯৬০ সালে (৯-১০ অক্টোবর) মেঘনার মোহনার পূর্বাঞ্চলে (নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর এবং পটুয়াখালী) ঘণ্টায় ২০১ কিমি বেগে বায়ু প্রবাহিত হয় এবং সর্বোচ্চ ৩.০৫ মিটার জলোচ্ছ্বাসসহ তীব্র ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয় চর জববার, চর আমিনা, চর ভাটা, রামগতি, হাতিয়া এবং নোয়াখালীতে। প্রায় ৩,০০০ মানুষের মৃত্যু, ৬২,৭২৫টি বাড়িঘর ধ্বংস এবং প্রায় ৯৪,০০০ একর জমির ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট ও হাজার হাজার গবাদিপশু মারা যায়।

১৯৬০ সালের ঘূর্ণিঝড়:

১৯৬০ সালে (৩০-৩১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বাকেরগঞ্জ, ফরিদপুর, পটুয়াখালী এবং মেঘনা মোহনার পূর্বাঞ্চলে ঘণ্টায় ২১০ কিমি বায়ুপ্রবাহ ও ৪.৬ মিটার থেকে ৬.১ মিটার জলোচ্ছ্বাসসহ তীব্র ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এতে ৫,৬৮,১৬১টি বাড়িঘর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, বিশেষত হাতিয়া দ্বীপের ৭০% ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। দুটি বৃহৎ সমুদ্রগামী জাহাজ তীরে আছড়ে পড়ে, কর্ণফুলি নদীতে ৫-৭টি জাহাজ নিমজ্জিত হয় এবং মোট প্রায় ১০,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

১৯৬১ সালের ঘূর্ণিঝড়:

১৯৬১ সালে (৯ মে) ঘণ্টায় ১৬১ কিমি বায়ুপ্রবাহ ও ২.৪৪-৩.০৫ মিটার জলোচ্ছ্বাসসহ তীব্র ঘূর্ণিঝড় বাগেরহাট ও খুলনা সদরের উপর দিয়ে বয়ে যায়। নোয়াখালী-হরিনারায়নপুরের রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং চর আলেকজান্ডারে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। মোট ১১,৪৬৮ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫,০০০ গবাদিপশু ধ্বংস হয়।

১৯৬২ সালের ঘূর্ণিঝড়:

১৯৬২ সালে (২৬-৩০ অক্টোবর) ঘণ্টায় ১৬১ কিমি বায়ুপ্রবাহ ও ২.৫-৩.০ মিটার জলোচ্ছ্বাসসহ তীব্র ঘূর্ণিঝড় ফেনীতে আঘাত হানে। প্রায় ১,০০০ জনের মৃত্যু এবং বহু গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটে।

১৯৬৩ সালের ঘূর্ণিঝড়:

(২৮-২৯ মে) তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ উপকুলবর্তী দ্বীপ কুতুবদিয়া, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, মহেশখালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চট্টগ্রামে ৪.৩-৫.২ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস সংঘটিত হয়। সর্বোচ্চ বায়ুপ্রবাহ ছিল ঘণ্টায় ২০৩ কিমি এবং কক্সবাজারে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬৪ কিমি। এ দুর্যোগে বিপুল সম্পদ বিনষ্ট হয়; কমপক্ষে ১১,৫২০ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে, ৩২,৬১৭ গবাদিপশু মারা যায়, বাড়িঘর ধ্বংস হয় ৩,৭৬,৩৩২টি, ৪,৭৮৭টি নৌযান নিমজ্জিত হয় এবং বহু ফসল বিনষ্ট হয়।

১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়:

১৯৭০ সালে (১২-১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বেশি প্রাণ ও সম্পদ বিনষ্টকারী ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। হারিকেনের তীব্রতা নিয়ে প্রচন্ড বাতাস দু’দিন ধরে বারবার আঘাত হানে চট্টগ্রামে এবং সে সঙ্গে বরগুনা, খেপুপাড়া, পটুয়াখালী, চর বোরহানউদ্দিন-এর উত্তরাঞ্চল, চর তজিমুদ্দিন, মাইজদির দক্ষিণাঞ্চল ও হরিণঘাটায়। স্মরণকালের সর্বাপেক্ষা বেশি জীবন, সম্পদ ও ফসলের ধ্বংস সাধন হয় এ দুর্যোগে। সরকারি হিসাব মোতাবেক ৫,০০,০০০ মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল এবং ৩৮,০০০ সমুদ্রনির্ভর মৎস্যজীবী ও ৭৭,০০০ অভ্যন্তরীণ মৎস্যজীবী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক হিসাবে দেখা যায় যে ৪৬,০০০ জন অভ্যন্তরীণ মৎস্যজীবী ঘূর্ণিঝড় চলাকালে মাছ ধরার সময় মৃত্যুবরণ করে। মোট ২০,০০০ এর অধিক মাছ ধরার নৌকা ধ্বংস হয়। সম্পদ ও ফসলের ক্ষতির পরিমাণ বিশাল; দশ লক্ষেরও অধিক গবাদিপশুর মৃত্যু হয়; ৪,০০,০০০ ঘরবাড়ি এবং ৩,৫০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭০ সালের এ ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২২২ কিমি এবং জলোচ্ছ্বাসের সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল প্রায় ১০.৬ মিটার। সমুদ্রে ভরাজোয়ারের সময় ঘূর্ণিঝড়টি সংঘটিত হওয়ায় এমন প্রলয়ঙ্করী জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছিল।

১৯৮৮ সালের ঘূর্ণিঝড়:

১৯৮৮ সালে (২৪-৩০ নভেম্বর) যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, উপকূলবর্তী দ্বীপসমূহ এবং খুলনা-বরিশালের চরাঞ্চলের উপর দিয়ে ঘণ্টায় ১৬২ কিমি বেগে বায়ুপ্রবাহসহ তীব্র ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। মংলায় ৪.৫ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস সংঘটিত হয়। এতে ৫,৭০৮ ব্যক্তি নিহত হয় এবং ৬৫,০০০ গবাদিপশু মারা যায়। বহুসংখ্যক বন্য পশু মারা যায় - তার মধ্যে হরিণ ১৫,০০০ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার ৯; এবং ফসল বিনষ্ট হয় প্রায় ৯৪১ কোটি টাকার।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়:

নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে এই ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ১২-২২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের প্রবল ঘূর্ণিঝড়টিতে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ২২৫ কিলোমিটার।

১৯৯১ সালের ২৯-৩০শে এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড়কে আখ্যা দেয়া হয় 'শতাব্দীর প্রচণ্ডতম ঘূর্ণিঝড়' হিসেবে যাতে ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় বলে জানা যায়। যদিও বেসরকারি সংগঠনের দাবি অনেক মাছধরার ট্রলার সাগরে ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন আরও অনেকে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক কোটি মানুষ।

২০০৭ সালের ঘূর্ণিঘড় ‘সিডর’:

শ্রীলংকান শব্দ 'সিডর' বা 'চোখ'-এর নামের এর নাম করণ করা হয়েছে। এটির আরেকটি নাম ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ০৬বি (Tropical Cyclone 06B) ২০০৭ সালে (১৫-১৭ নভেম্বর) ঘূর্ণিঝড় ‘সিডর’ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিধ্বসের মাধ্যমে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে যাতে প্রায় তিন সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানী ঘটে।

২০০৮ সালের ঘূর্ণিঘড় ‘নার্গিস’:

"নার্গিস" একটি উর্দু শব্দ ৷ এর অর্থ হল "ডেফোডিল" নামক ফুল ৷ ২০০৮ সালে (৩ মে) ঘুর্ণিঝড় ‘নার্গিস’ উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্টি হয়। যা মায়ানমারের উপকূলে আঘাত হানে। এতে প্রায় ১,৩৮,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

২০০৮ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘রেশমি’:

২০০৮ সালে (২৭ অক্টোবর) ঘুর্ণিঝড় ‘রেশমী’ বাংলাদেশের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে। বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৮০ কিমি এবং প্রচুর ঝড়বৃষ্টিতে জাহাজ ও মৎস্যশিল্পের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়।

২০০৯ সালের ঘুর্ণিঝড় ‘বিজলি’:

"বিজলী" শব্দের আভিধানিক অর্থ তড়িৎ, বৈদ্যুতিক শক্তি। ২০০৯ সালের (১৯-২১ এপ্রিল) ঘূর্ণিঝড় ‘বিজলি’ বাংলাদেশে মৃদুভাবে আঘাত হানে এবং এই ঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলে কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া তেমন বৃহত্তর কোন ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’:

ঘূর্ণিঝড় আইলা'র নামকরণ করেন মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা। 'আইলা' শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী। নামটি এই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারণ করেন জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা 'ইউএন এস্কেপ'-এর (UN Escape) বিজ্ঞানীরা।

২১ মে ২০০৯ তারিখে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড় আইলার এবং উপকূলভাগে আঘাত হানে ২৫ মে তারিখে। এর ব্যাস ছিলো প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, যা ঘূর্ণিঝড় সিডরের থেকে ৫০ কিলোমিটার বেশি। সিডরের মতোই আইলা প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় নিয়ে উপকূল অতিক্রম করে, তবে পরে বাতাসের বেগ ৮০-১০০ কিলোমিটার হয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি, সিডরের তুলনায় তুলনামূলক কম হয়েছে।

২০১৩ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’:

ঘূর্ণিঝড় ভিয়ারু যা প্রথমে ঘূর্ণিঝড় মহাসেন (ইংরেজি: Cyclone Mahasen) নামে পরিচিত। মহাসেন নামকরণ নিয়ে শ্রীলঙ্কার জাতীয়তাবাদী এবং সরকারী কর্মকর্তাদের মাঝে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। তারা দাবী করছেন যে, তৃতীয় শতকের সিংহল রাজার নাম থেকে এ নামকরণ হয়েছে। তিনি এ দ্বীপে সমৃদ্ধি আনয়ণ করেছেন। তাই, প্রকৃতির ধ্বংসাত্মক রূপের মাধ্যমে ধারণা করা হয় যে রাজা হয়তোবা রুষ্ট হয়েছেন। কিন্তু সরকারী কর্মকর্তাগণ একে নামবিহীন ঘূর্ণিঝড়রূপে উপস্থাপন করেছেন।

ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ ২০১৩ সালের ১৬ মে নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে। এটির গতি ছিল ১০০ কিলোমিটার।

২০১৫ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’:

ঘূর্ণিঝড় কোমেন ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে আঘাত হানে। বাতাসের গতি ছিল ৬৫ কিলোমিটার। কোমেনের তাণ্ডবে মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

২০১৬ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’:

এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তর ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেলের তালিকা অনুযায়ী এ ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রোয়ানু’। মালদ্বীপ এ নামটি প্রস্তাব করেছিল। রোয়ানু শব্দটিও মালদ্বীপের। এর অর্থ নারিকেলের ছোবড়ার তৈরি দড়ি।

রোয়ানু একটি ছোট ঘূর্নিঝড়, যা ২০১৬ সারে ২১ মে বাংলাদেশের উপকূল অঞ্চলে এবং ভারতে আংশিক আঘাত হানে। ধারনা করা হয় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ব্যাপ্তি ছিল দুটি বাংলাদেশের সমান আকৃতির।

২০১৭ সালের ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’:

থাইল্যান্ডের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে 'মোরা'। 'মোরা' শব্দটি একটি থাই শব্দ। এর ইংরেজি হচ্ছে- 'স্টার অব দ্য সি'। বাংলা করলে শব্দটির অর্থ 'সাগরের নক্ষত্র' বা 'সাগরের তারা'

জিএম ইমরান হোসেন/শাবি প্রতিনিধি/ আইনিউজ

 

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়