ঢাকা, মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০,   অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭

নোয়াখালি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:০০, ২২ অক্টোবর ২০২০

৬ সহযোগীকে নিয়ে মাকে পাঁচ টুকরা করে ছেলে

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামে ৭ অক্টোবর নুরজাহান নামে এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নোয়াখালী জেলা পুলিশের সভাকক্ষে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

আনোয়ার হোসেন বলেন, নৃশংস এ হত্যার পরদিন তার ছেলে হুমায়ুন কবির (২৮) বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে পুলিশ তদন্তে নামলে হত্যায় সরাসরি সন্তানের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তার ৬ সহযোগী মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এমনটাই নিশ্চিত হয় পুলিশ। ইতোমধ্যে সাত আসামির মধ্যে হুমায়নসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুইজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহতের ছেলের বন্ধু নিরব ও কসাই নুর ইসলামের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি, বালিশ, কোদাল, ভিকটিমের ব্যবহৃত কাপড় উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তির তথ্য দিয়ে পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, নূর জাহানের আগের ঘরের সন্তান বেলাল ৪ লাখ টাকা ঋণ করে মারা যায়। ওই ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে নূর জাহানের সঙ্গে তার বর্তমান স্বামীর ঘরের সন্তান হুমায়ুন কবিরের প্রায়ই ঝগড়া হতো। তার জের ধরে হুমায়ুন ছয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ৬ অক্টোবর রাতে মাকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহকে পাঁচ খণ্ড করে টুকরোগুলো পাওনাধারদের ধান খেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখে।

পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, নিহত নারীর ছেলে তার সহযোগীদের নিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আগের সংসারের ছেলে বেলাল তার মা নুরজাহানকে জিম্মায় রেখে এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা সুদের ওপর ঋণ নেয়। ঋণ রেখে দেড় বছর আগে বেলাল মারা যায়। এরপর বেলালের ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য সৎ ভাই হুমায়নকে পাওনাদাররা চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। হুমায়ন তার মাকে এ বিষয়ে অবহিত করে। নুরজাহান হুময়ানকে তার ১৩ শতক জমি বিক্রি করে এ ঋণ পরিশোধ করার জন্য বলে। অন্যদিকে মায়ের মালিকানাধীন ১৪ শতক ও বেলালের স্ত্রীর মালিকানাধীন ১০ শতক জমি বিক্রি করে বেলালের ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দেয় হুমায়ন। এতে তার মায়ের অসম্মতি ছিল। হুমায়নের মামাতো ভাই কালাম ও মামাতো বোনের স্বামী সুমন ভিকটিমের ওপর রুষ্ট ছিল। এ ছাড়া ভিকটিমের বাড়ির পাশের প্রতিবেশী ইসমাইল ও হামিদের বেলালের জমির প্রতি লোভ ছিল। তাই তারাও হুমায়নকে এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করে।

পুলিশ জানায়, হুমায়ন জবানবন্দিতে জানান বেলালের স্ত্রীর জমি থেকে ২ শতাংশ হামিদকে এবং বাকী ৮ শতাংশ ইসমাইলকে দেওয়া হবে বলে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত— হয়েছে। তারপর মায়ের জমি সমান ৫ভাগে ভাগ করে হুমায়ন, নোমান, সুমন, কালাম ও কসাই নুর ইসলামকে দেওয়া হবে। এ প্রতিশ্রুতিতে সসবাই মিলে ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে একটি ব্রিজের ওপর বসে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে হুমায়ন, কালাম, সুমন ও অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় ওই রাতের কোনো এক সময়ে ঘরের মধ্যে বালিশ চাপা দিয়ে নুরজাহানকে হত্যা করে বটি, চাপাতি, কোদাল দিয়ে পাঁচ খণ্ড করে পাওনাদারদের ধান খেতে শরীরের পাঁচ টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখে তারা। 

নিহত নুরজাহান বেগম উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামের মৃত আবদুল বারেকের স্ত্রী। তিনি আট ছেলে ও এক মেয়েসহ ৯ সন্তানের জননী ছিলেন।

৭ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের উত্তর জাহাজ মারা গ্রামের একটি ধান খেত থেকে ওই গৃহবধূর টুকরো টুকরো মরদেহের সন্ধান পায়। এর আগে ছেলে হুমায়ন কবির জানিয়েছিল, বুধবার ভোর থেকে তার মা নিখোঁজ ছিল। পরে স্থানীয় এক নারী বিকেলে ধানখেতের আইলে শামুক খুঁজতে এসে টুকরো টুকরো মরদেহ দেখতে পান। পরে হুমায়ন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মায়ের মরদেহ শনাক্ত করে।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়