Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ৬ ১৪৩২

ইয়ানূর রহমান, যশোর

প্রকাশিত: ২০:০৯, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

যশোরে হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে রাখা ১০ কোটি টাকার ওষুধ!

হাসপাতালের ষ্টোররুমে জায়গা না থাকায় এভাবেই পরিত্যক্ত ভবনে রাখা হয়েছে ওষুধ। ছবি- আই নিউজ

হাসপাতালের ষ্টোররুমে জায়গা না থাকায় এভাবেই পরিত্যক্ত ভবনে রাখা হয়েছে ওষুধ। ছবি- আই নিউজ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের স্টোরে জায়গা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় পরিত্যক্ত ভবনে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে ১০ কোটি টাকার বেশি দামের ওষুধ সামগ্রী। নতুন স্টোর রুম নির্মাণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগে একাধিকবার চিঠি চালাচালি হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের স্টোর কিপার সাইফুল ইসলাম জানান, পরিত্যক্ত ভবনে রাখা কোটি কোটি টাকার ওষুধ সামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে,  স্টোরে ওষুধ সামগ্রী রাখার জায়গা নেই। অনেকটা বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনের বিভিন্ন কক্ষে মালামাল রাখা হয়েছে। যা বর্তমানে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা মালামালের চাপে যে কোন সময় পরিত্যক্ত দ্বিতল ভবনটি ঢসে দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া ভবনটি নির্জন স্থানে হওয়ায় মালামাল চুরির সম্ভাবনা রয়েছে।

সুত্রটি আরও জানায়, বর্তমানে জায়গা সংকুলান হওয়ায়  ২০২২-২৩ অর্থবছরে টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয় করা ওষুধ সামগ্রী রাখার কোনো সুব্যবস্থা নেই। ফলে অস্ত্রোপচার কক্ষের পাশে দ্বিতীয় তলার ছাদে নতুন স্টোর রুম তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জায়গার অভাবে পরিত্যক্ত ভবনের সাবেক গাইনী ওয়ার্ড, মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডসহ কয়েকটি কক্ষের মেঝেতে বিভিন্ন প্রকারের চিকিৎসা সামগ্রীর স্তূপ। চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে ওষুধসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী রাখা রয়েছে। এসব মালামাল নষ্টের আশংকা আছে।

স্টোর কিপার সাইফুল ইসলাম আরো জানান, পরিত্যক্ত ভবনে ১০ কোটি টাকার বেশি ওষুধ সামগ্রী রাখা রয়েছে। স্টোরে মালামালের চাপে কোনো জায়গা না থাকায় সেখানে রাখতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি আরও জানান, নতুন স্টোর রুম নির্মার্ণের যৌক্তিক কারণ হলো পরিত্যক্ত ভবনে মালামাল রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে সিকিউরিটি গার্ড না থাকায় জনশূন্য এলাকা থেকে মালামাল চুরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অতিবৃষ্টিতে পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ে চিকিৎসা সামগ্রী নষ্ট হয়। ফলে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। চিকিৎসা সামগ্রী বিভিন্ন স্থানে রাখার কারণে ওয়ার্ডে মালামাল সরবরাহের সময় ইনচার্জ সেবিকাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে তাদের সেবা কাজে বিঘ্ন ঘটে।

তিনি জানান, নতুন স্টোর তৈরির দাবিতে তিনি হাসপাতালের কর্মকর্তাদের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, অস্ত্রোপচার কক্ষের পাশে দ্বিতীয় তলার ছাদে নতুন স্টোর রুম নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত স্টোরের সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।

গণপূর্ত বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।

হাসপাতালে দায়িত্বরত গণপূর্ত বিভাগ যশোরের প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন জানান, নতুন স্টোর রুম তৈরি করার জন্য হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের একাধিক চিঠি পেয়েছি। এরপর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এক প্রশ্নে তিনি জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এখনো অর্থ বাজেট আসেনি। তারপরেও গণপূর্তের অর্থায়নে স্টোরের সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা চলছে।

আই নিউজ/এইচএ 

ঘুরে আসুন আই নিউজ ইউটিউব চ্যানেল

নীচের ভিডিও দেখতে Watch on YouTube অপশনে ক্লিক করুন

এক চা শ্রমিকের লেখাপড়ার গল্প চোখে পানি এনে দেয়

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়