Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২৯ ১৪৩২

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ০০:৪৬, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মৌলভীবাজার-৪ আসন

চা-শ্রমিকদের ভোটে আজ নির্ধারিত হবে প্রার্থীদের ভাগ্য

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে পাতি তুলছেন এক নারী চা-শ্রমিক। ছবি: আই নিউজ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে পাতি তুলছেন এক নারী চা-শ্রমিক। ছবি: আই নিউজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনের বহুল আলোচিত ভোটগ্রহণ। এ আসনে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের সমীকরণ অনেকাংশেই নির্ভর করছে চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকার ভোটারদের ওপর। কয়েক দশক ধরে চা-শ্রমিকদের ভোটই এ আসনের নির্বাচনী ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫৮টি চা-বাগান রয়েছে। এসব বাগানে বসবাসরত হাজারো চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একটি বড় ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। ফলে নির্বাচনের শুরু থেকেই সব প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চা-বাগান এলাকা।

নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, আবাসন সংকট নিরসন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেউ কেউ চা-শ্রমিকদের ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণ ও স্থায়ী জীবনমান উন্নয়নের আশ্বাসও দিয়েছেন। তবে ভোটারদের একটি বড় অংশের বক্তব্য, প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তবায়নই তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

চা-শ্রমিকদের অনেকেই জানিয়েছেন, বছরের পর বছর অবহেলিত থাকার পর এবার তাঁরা সচেতনভাবে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত সংসদ সদস্য চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন এবং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাবেন।

এই দুই উপজেলায় অর্ধশতাধিক চা-বাগান থাকায় সাধারণত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ে চা-শ্রমিকদের মধ্যেই। এ ছাড়া রয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন ভোটার। তাই বিশেষ করে চা-বাগান এলাকা ও নতুন ভোটারদের প্রতি বাড়তি নজর রেখেছিলেন প্রার্থীরা। অনেক ক্ষেত্রেই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে তাঁদের নির্ণায়ক হিসেবে দেখা হয়। অতীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী শহর ও গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম ভোট কাস্ট হলেও চা-বাগানগুলোতে ৮০ শতাংশ থেকে প্রায় শতভাগ পর্যন্ত ভোট পড়ার নজির রয়েছে। ফলে প্রার্থীদের শেষ ভরসা হয়ে উঠেছেন চা-শ্রমিকরাই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয়জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন- বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি বিদ্রোহী মো. মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রীতম দাশ (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙ্গল) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মো. আবুল হাসান (মই)।

চা-বাগান অধ্যুষিত জেলা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৭ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ২ জন। এদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ভোটারই চা-শ্রমিক।

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে দুটি পৌরসভা এবং ১৮টি ইউনিয়ন-শ্রীমঙ্গলে ৯টি ও কমলগঞ্জে ৯টি ইউনিয়ন।

সব মিলিয়ে, মৌলভীবাজার-৪ আসনের নির্বাচনে আজ চা-শ্রমিকদের ভোটই হয়ে উঠেছে মূল নিয়ামক। ব্যালট বাক্সে তাঁদের রায়েই নির্ধারিত হবে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের পরবর্তী সংসদ সদস্য কে হচ্ছেন।

ইএন/এসএইচএ

 

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়