ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৪ ১৪২৮

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:০৫, ৪ জুন ২০২১
আপডেট: ১৫:০৫, ৫ জুন ২০২১

অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিকার

করোনা মহামারীর কারণে শিশুরা গৃহবন্দি। বাইরে যাওয়া বন্ধ থাকায় খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না তারা। তাই টিভি, স্মার্টফোন আর কম্পিউটারের সাথে সময় কাটছে তাদের। এমন সময়ে অনেক শিশুই টেলিভিশনের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। আর এমন অভ্যাস শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

শিশুরা যত বেশি সময় টেলিভিশনের সঙ্গে কাটাবে ততোই তার মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাঁধাগ্রস্ত হবে। কেননা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য টিভির পর্দা নয়, প্রয়োজন খেলার মাঠ। এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে অভিভাবকদেরকে।

অতিরিক্ত টেলিভিশন দেখলে শিশুদের যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়:

১. অতিরিক্ত টেলিভিশন শিশুকে আত্মকেন্দ্রিক, অসহনশীল ও অসামাজিক করে।

২. শিশুর বুদ্ধির বিকাশে বাধা দিয়ে সৃষ্টিশীলতা নষ্ট করে দেয়।

৩. শিশুর শারীরিক খেলাধুলার সময় কেড়ে নেয়। এতে শিশুরা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

৪. শিশুর শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে দেয়। এতে ওজন বাড়ে।

৫. পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে বন্ধন কমিয়ে দেয়।

৬.  সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।

৭. শিশুর স্বাভাবিক আচার-ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলে।

৮. শিশুর মাথাব্যথা, চোখব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়াসহ চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে।

৯. শিশুকে ধূমপান, মদ্যপানসহ মাদকে আসক্ত করে।

১০. অতিরিক্ত টেলিভিশন শিশুর ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোকসহ নানা জটিলতা বাড়ায়।

প্রতিকার:

১. শিশুরা অনুকরণপ্রিয়, তাই আপনাকে আগে টিভি দেখা কমাতে হবে এবং অতিরিক্ত টিভি দেখার কুফল শিশুকে বোঝাতে হবে।

২. শিশুকে প্রতিদিন আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার বেশি টিভি দেখতে দেবেন না।

৩. শিশুর ঘুমানোর ঘরে টিভি রাখবেন না।

৪. শিশুর খাওয়ার সময় টিভি দেখাতে দেখাতে শিশুকে খাবার খাওয়াবেন না।

৫. টিভির বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করুন। শিশুর জন্য যাতে টিভির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমে।

৬. সপ্তাহে একদিন শিশুকে টিভি দেখা থেকে বিরত রাখুন।

৭. বাসার পড়াশোনা বা হাতের কাজ করার সময় শিশুকে টিভি দেখতে দেবেন না।

৮. মা-বাবা সবাই ব্যস্ত, শিশুটি তাদের কাজে বিঘ্ন বা জ্বালাতন করছে, এ অবস্থায়ও শিশুদের টিভি দেখাতে বসিয়ে এ বিষয়ে আসক্ত করবেন না।

আইনিউজ/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়