Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, বুধবার   ০৭ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ২৪ ১৪৩২

শ্রুতি দে সৃষ্টি

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ৫ জানুয়ারি ২০২৬

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথধামের রহস্যময় পাতালকালী মন্দির

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথধামের রহস্যময় পাতালকালী মন্দির। ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথধামের রহস্যময় পাতালকালী মন্দির। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত চন্দ্রনাথধাম শুধু একটি তীর্থস্থান নয় এর গহিনে লুকিয়ে আছে রহস্য, পৌরাণিক বিশ্বাস আর ভয়মিশ্রিত ভক্তির এক অনন্য ইতিহাস। এই পাহাড়ধামেরই গভীর খাদে অবস্থিত এক অলৌকিক ও আরাধনীয় কালী বিগ্রহ উল্টা পাতালকালী।

ভক্তি, পৌরাণিক কাহিনি ও অজানা ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন

​​চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পাহাড়শ্রেণির অন্তর্গত চন্দ্রনাথধাম বহু শতাব্দী ধরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। এই পাহাড়ধামেরই গভীর খাদে, জনবসতি থেকে বহু দূরে, অবস্থিত এক রহস্যময় ও বিপদসংকুল উপাসনাস্থল পাতালকালী মন্দির, যা স্থানীয়ভাবে ‘উল্টা পাতালকালী’ নামেও পরিচিত।

​​​​পাথরের শিলাখণ্ডে খোদাইকৃত এই কালী বিগ্রহটি উল্টো অবস্থায় স্থাপিত। ভক্তদের বিশ্বাস, এটি কোনো মানবসৃষ্ট মূর্তি নয়; বরং স্বয়ং প্রকাশিত দেবীমূর্তি। দুর্গম পাহাড়ি পথ, আঁকাবাঁকা গিরিখাত ও প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে থাকা বিপদের মধ্য দিয়েই পৌঁছাতে হয় এই পাতালপুরীতে। তাই এখানে যাওয়া শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দৃঢ়তা ও বিশেষ অনুমতিরও দাবি রাখে।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, পাতালকালী মন্দিরটি প্রায় ৫০ হাজার বছর পুরোনো আদি সত্যযুগের একটি পবিত্র স্থান। বিশ্বাস করা হয়, এই স্থানটি চন্দ্রনাথধাম মন্দিরের ঠিক নিচে অবস্থিত এবং একসময় পাতালপতি অহিরাবণের পুত্র মহীরাবণ এখানে রামচন্দ্রকে বলি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে দেবী ভদ্রকালী উল্টো পাতালকালী রূপে আবির্ভূত হয়ে মহাবীর হনুমানকে নির্দেশ দেন, এবং হনুমান মহীরাবণকে বধ করেন এই স্থানেই।

পুরাণকথায় আরও বলা হয়, সত্যযুগে অসুর দমনের জন্য চণ্ডীযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে দেবতারা মানুষের বলি দিয়ে পূজা করতেন। সেই যজ্ঞের স্মৃতিচিহ্ন বহন করে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই রহস্যময় মন্দির।

পাতালপুরীর ভেতরে রয়েছে অত্যন্ত হিম শীতল এক ঝিরি, যার পানি বিরলভাবে ঠান্ডা প্রকৃতির এক বিস্ময়। এছাড়া এখানে বিশাল পাথরের বোল্ডার কেটে নির্মিত একাধিক শিবলিঙ্গ দেখা যায়। ইতিহাসসূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে একসময় মহামুনি ভার্গবের আশ্রম ছিল। ধারণা করা হয়, ভগবান শ্রীরামচন্দ্র তাঁর বনবাসকালে এই স্থানে পদার্পণ করেছিলেন।

উল্টা পাতালকালী ছাড়াও এই এলাকায় রয়েছে হরগৌরী, অষ্টবসু, মন্দাকিনী গোপেশ্বর শিবসহ আরও কয়েকটি দেবদেবীর প্রাচীন মন্দির। তবে গন্তব্যপথ অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ায় সাধারণ দর্শনার্থীরা সহজে এই পথে যাওয়ার সাহস করেন না।

ভক্তি, ভয়, রহস্য আর পৌরাণিক কাহিনির আবরণে মোড়া সীতাকুণ্ডের পাতালকালী মন্দির আজও দাঁড়িয়ে আছে অগণিত অজানা প্রশ্ন আর বিশ্বাসের সাক্ষী হয়ে যার দর্শন সকলের ভাগ্যে জোটে না।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়