ঢাকা, সোমবার   ১৬ মে ২০২২,   জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

সীমান্ত দাস

প্রকাশিত: ১২:৩৬, ১৭ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১২:৪০, ১৭ জানুয়ারি ২০২২

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল আপনার উল্লেখযোগ্য একটি শারীরিক বৈশিষ্ট্য। ছোটবেলায় এর গুরুত্ব সহজে ধরতে পারা না গেলেও, বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুল যে মানুষের 'অমূল্য সম্পদ' সেটা ভালোভাবেই টের পাওয়া যায়। চুল অনেকক্ষেত্রে আপনার ব্যক্তিত্বকে উপস্থাপন করে, আপনার সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তুলে, মাথার ত্বক ঢেকে রাখে, সুন্দর একটা ফেসকাট উপহার দেয়।

বিভিন্ন কারণে মানুষের চুল পড়া শুরু হতে পারে। চুল পড়ার সমস্যায় নারী-পুরুষ উভয়েই ভোগেন। তবে পুরুষরা যেহেতু বেশিরভাগ সময়ই ঘরের বাইরে সময় কাটান, তাই তাদের চুল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কম বয়সে অনেক পুরুষই চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন। কারও কারও মাথায় চুল পড়ে টাক হয়ে যায়। আর মাথার চুল কমে গেলে আত্মবিশ্বাসও কমে যেতে থাকে। নিজের কাছেই নিজেকে 'অসুন্দর' মনে হয়, যদিও সৌন্দর্য্য ব্যাপারটা 'আপেক্ষিক'।

আইনিউজের এ প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন চুল পড়ার কারণ, কিভাবে চুল পড়া বন্ধ করবেন, চুল পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়, চুল পড়া বন্ধ করার ঔষধ,  চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার, চুলের যত্ন, চুল পড়া বন্ধ করতে চিকিৎসকের পরামর্শ ইত্যাদি।

চুল পড়ার কারণ

১। চুল পড়ার প্রধান কারণ হল বংশগত। যদি কোন পুরুষ অথবা মহিলার একটি নির্দিষ্ট বয়সের পরেই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয় এবং তাদের বংশে সেই বিষয়টি বিদ্যমান থাকে তবে এটিকে বংশগত রোগ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।

২। চুল পড়ার অন্যতম কারণ হল প্রোটিনের স্বল্পতা। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হলে বা ক্যালরি বহুল খাবার বাদ দিলে অনেক ধরনের পুষ্টি উপাদান বাদ পড়ে যায়। শরীরের প্রতি কেজি ওজনের ভিত্তিতে প্রোটিন গ্রহণ করতে হয়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। কারণ চুলের গোড়া প্রোটিন দিয়ে তৈরি।

৩। ভিটামিন বি-১২ ও ডি’য়ের স্বল্পতার কারণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। এই দুই উপাদান চুলের বৃদ্ধিতে ও মাথার ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। মাংস ও দুধের তৈরি খাবারে ভিটামিন বি পাওয়া যায়

৪। নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় জন্ম বিরতিকরণ পিল বা বড়ি ব্যবহার বা পরিবর্তন চুলের ওপর প্রভাব রাখে। অধিকাংশ বড়িতে প্রোজেস্টেরন থাকে যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। তাই এই ধরনের ওষুধ নির্বাচনের আগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫। অনেক সময় সন্তান জন্মের পরে মহিলাদের চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এধরনের সমস্যা দেখা দেয়।

৬। চুল রিবন্ডিং করা, কালার করা, বিভিন্ন স্টাইলিংয়ের মাধ্যমে চুলের স্বাভাবিক ধরনের পরিবর্তন করা চুল পড়ার এরেকটি অন্যতম কারণ। চুলে যতটা সম্ভব কম রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা উচিত।

৭। কোনরকম অসুস্থতা কিংবা অপারেশনের পরে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে চুল যে পরিমাণ ঝরে যায় তার সাথে পাল্লা দিয়ে চুলের বৃদ্ধি ঘটে না। তবে শরীর সুস্থ হয়ে গেলে এই সমস্যাটির সমাধান হয়ে যেতে পারে।

৮। শরীরে হঠাৎ হরমোনের পরিবর্তন হলে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন গর্ভাবস্থায়, প্রসব বা মাসিক বন্ধ হওয়ার পর বা অত্যধিক জন্মনিয়ন্ত্রণ বরি খেলে চুল ওঠার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৯। থাইরয়েড, অ্যালোপিয়া অথবা মাথার তালুতে দাদ এর মত রোগ হলে সে ক্ষেত্রে চুল পড়ার সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। মূলত মাথার ত্বক সংক্রমিত হলে এই সমস্যা লক্ষ্য করা যায়।

১০। ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, বাত, হৃদপিন্ডের সমস্যা বা মানসিক কোন চাপের কারণে কোন ওষুধ দীর্ঘদিন খেলেও চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১১। চুল বাঁধার উপায় আসলেই চুল পড়ার একটি বড় কারণ। এটিও মূলত নারীরাই বেশি মোকাবেলা করে থাকেন। নারীদের লম্বা চুল নানা ভাবে বেঁধে রাখা যায়। কিন্তু সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক নানা ক্ষেত্রে অনেক নারীই নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা উপায়ে চুল বাঁধেন। কিন্তু সেই বাধার উপায় যদি অস্বাভাবিক হয় তবে দীর্ঘমেয়াদে তা চুল পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়সমূহ

খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

চুলের বৃদ্ধিতে খাদ্যাভাস অনেক বড় ভূমিকা রাখে। চুলের ফলিকলগুলো মূলত কেরাটিন (keratin) নামক এক ধরনের আমিষ দ্বারা গঠিত। ২০১৭ সালের একটি গবেষণা মতে দেখা গিয়েছে যে, চুল পড়া সমস্যায় ভোগা অনেকেরই পুষ্টিজনিত সমস্যা ছিল। যদিও আমিষ জাতীয় খাদ্য খাওয়াটাই একমাত্র সমাধান নয়। তবে চুলের বৃদ্ধিতে আমিষ জাতীয় খাদ্য কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে। এছাড়াও ভিটামিন ‘এ’ জাতীয় খাবারও চুলের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। শুধু চুলের বৃদ্ধি নয় বরং মাথার ত্বকের পুষ্টি যোগাতেও ভিটামিন ‘এ’ কার্যকরী।

সুন্দর চুল আপনাকে দেবে অন্যরকম আত্মবিশ্বাস। 

ডিম

চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় সবচেয়ে সহজলভ্য খাদ্যটি সম্ভবত ডিম। ডিম আমাদের নিত্যদিনের খাদ্য তালিকার অংশ। ডিম একটি আমিষ জাতীয় খাদ্য। চুলের ফলিকলগুলো আমিষ দ্বারাই গঠিত। তাই চুলের বৃদ্ধিতে ডিম ভূমিকা রাখে।

পালং শাক

দৈনন্দিন খাদ্যাভাসে আরেকটি সহজলভ্য জিনিস হলো পালং শাক। সবুজ এই শাকটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ মনে হলেও এতে রয়েছে ফোলেট (ফলিক এসিড), লৌহ, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’। ভিটামিন ‘এ’ এর ফলে মাথার ত্বক পুষ্টিবান হওয়ায় চুলের বৃদ্ধি আরো বাড়ে। শুধু তাই নয় পালং শাকে থাকা লৌহ বা আয়রন শরীরের মেটাবলিজমকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে চুলের বৃদ্ধিও ঠিক হয়।

তৈলাক্ত মাছ

মাছকে বলা হয় সর্বোৎকৃষ্ট আমিষ এবং মাছের তেলে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড চুল পড়া কমায় ও চুলের বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, তেলযুক্ত মাছগুলোতে রয়েছে আমিষ, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি ও ডি৩। তাই চুলের যত্ন চাইলে আমিষের উৎস হিসেবে মাছকে বেছে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

অ্যালমন্ড

চুলের প্রতি বিশেষ ভাবে যত্নবান হলে আপনার উচিত হবে বাদাম খাওয়া। তবে সকল বাদামে একই ধরনের পুষ্টিগুণ নেই। উদাহরণস্বরুপ আ্যলমন্ড (Almond) এক প্রজাতির বাদাম। এর বাজারদর বেশ চড়া। তবে মাত্র ২৮ গ্রাম আ্যলমন্ড বাদামই আপনার শরীরের দৈনিক ভিটামিন ‘ই’ চাহিদার ৩৭% মেটাতে পারে।  তার পাশাপাশি আ্যলমন্ডে আছে ভিটামিন বি, জিংক সহ আরো নানা প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড৷ তাই এর পুষ্টিগুণের কারণে শুধু চুলের স্বাস্থ্য নয় বরং হৃৎপিন্ডের স্বাস্থ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ঘরোয়াভাবে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

১। চুল পড়ার সমস্যা সমাধানে ভিটামিন ই চুলের গোড়ায় ব্যবহার করুন। ভিটামিন ই মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। ফলে চুলের ফলিকল উত্পাদনশীল থাকে। এছাড়াও ভিটামিন ই চুলের স্বাস্থ্যকর রং বজায় রাখে।

২। ঘরোয়া উপায়ে চুল পড়া বন্ধ করতে ব্যবহার করতে পারেন রসুন, পেঁয়াজ বা আদার রস। এই উপাদানগুলোর রস রাতে মাথার ত্বকে ব্যবহার করুন। সারারাত রেখে সকালে চুল পরিষ্কার করে ফেলুন। এক সপ্তাহ নিয়মিত এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ফলাফল পাবেন হাতেনাতে।

৩। কখনও ভেজা চুল আঁচড়াবেন না। অনেক পুরুষই হয়তো এ বিষয়টি মানেন না। ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া নরম থাকে। ফলে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর সময় চুল পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৪। নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা জরুরি। এতে চুলের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা সহজেই দূর হয়। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়। মনে রাখবেন, চুল অপরিষ্কার থাকলে খুশকি ও মাথার ত্বকে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়।

৫। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন হলে বা শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল পড়ে। তাই খাদ্যতালিকায় চর্বিযুক্ত, মাংস, মাছ, সয়াসহ প্রোটিন রাখুন। এগুলো চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে ও চুল পড়া বন্ধ করে।

৬। শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হলেও চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে গেলে বুঝবেন আপনার শরীরে হয়তো পানিশূন্যতা হয়েছে। তাই দৈনিক অন্তত ২-৩ লিটার পানি অবশ্যই পান করুন।

৭। গ্রিন টি ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যা কমে। এজন্য এক কাপ পানিতে দু’টি গ্রিন টি ব্যাগ মিশিয়ে নিন। তারপর তা ঠান্ডা করে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ব্যবহার করুন। ঘণ্টাখানেক পর ধুয়ে ফেলুন। ৭-১০ দিন একটানা ব্যবহারে চুল পড়ার সমস্যা সমাধান হবে।

৮। ধূমপান ও মদ্যপানের কারণেও চুল পড়তে পারে। ধূমপান করলে মাথার ত্বকে প্রবাহিত রক্তের পরিমাণ কমে যায়। ফলে চুলের বৃদ্ধি বাঁধাগ্রস্ত হয়। তাই ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

মেথি ব্যবহার

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে ও চুল বৃদ্ধির জন্য মেথি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে । এটি সহজেই পাওয়া যায়। কমবেশি সকলের রান্নাঘরেই এই উপাদানটি উপস্থিত থাকে। এটি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। খুব শীঘ্র নতুন চুল গজাতে চাইলে কিংবা চুলের বৃদ্ধি করাতে চাইলে মেথি একটি উপযোগী উপাদান। এটি ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকে চুলের দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়।

চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন মেথিতে উপস্থিত থাকে যা মাথার ত্বকের রক্ত চলাচলকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়াও মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং আয়রন ও পটাশিয়াম। যা চুলের বৃদ্ধি ঘটায় ও অকালপক্কতা রোধ করতে সাহায্য করে এবং চুলকে মসৃণ এবং ঘন করে তোলে।

  • ২/৩ চামচ মেথি একটি বাটিতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন সাথে লেবুর রস দিয়ে রাখুন। সকালে পানি ফেলে ভালো ভাবে মিশ্রন তৈরী করে চুলের মধ্যে মিশ্রণটি লাগিয়ে নিন। ৩০-৪০ মিনিট রাখার পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এরপর নারিকেল তেলের মধ্যে মেথি বীজ ফুটিয়ে উষ্ণ তেল চুলের গোড়ায় লাগাতে পারেন।
  • এটি চুলের বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং চুলের খুশকির সমস্যা দূর করবে। এছাড়াও অকালপক্কতা দূর করে চুলকে আরো ঘন এবং কালো করে তোলে। সপ্তাহে অন্তত একদিন করলেই এক মাসে মধ্যেই ফলাফল বুঝতে পারবেন। 

নিমপাতা দিয়ে স্থায়ীভাবে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

নিমের পাতায় উচ্চমাত্রায় ফ্যাটি অ্যাসিড থাকার কারণে তা মাথার ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কারন মাথার ত্বক সুস্থ থাকলেই চুলের বৃদ্ধি ভালোভাবে হবে। যারা পাতলা চুল অথবা টাক পড়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য নিম পাতা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাথার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন বন্ধ করে চুলের গোড়াকে শক্ত করতে সাহায্য করে নিম পাতা।

  • নিম পাতা গুলি বেটে নিয়ে মিশ্রণটি চেপে চেপে নিম পাতার নির্যাস বা রস বের করে নিন। তারপর নারকেল তেল এর সাথে মিশিয়ে সেটি মাথার ত্বকে এবং পুরো চুলে ৩০-৪৫ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। এছাড়াও চুলে অতিরিক্ত খুশকি থাকলে চুলের পরিমাণ অনুযায়ী নিম পাতা নিয়ে পানিতে ফুঁটিয়ে নিমপাতা গুলিকে বেটে মাথার ত্বকে লাগাতে পারেন।
  • এটি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান হিসেবে মাথার ত্বকে কাজ করে থাকে। এছাড়াও নিমপাতার মিশ্রনের সাথে সমান পরিমাণ অলিভ অয়েল, আমন্ড অয়েল বা নারকেল তেল মিশিয়ে হালকা গরম করে মাথায় লাগাতে পারেন। চুল নরম এবং মসৃণ করার জন্য নিম পাতা বেটে তার মধ্যে মধু মিশিয়েও চুলে লাগাতে পারেন। লাগিয়ে রাখার পর যে কোন শ্যাম্পু ব্যবহার করেন সেটি দিয়ে চুল ধুয়ে নিবেন।

পেঁয়াজের রস 

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে ও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে অন্যতম উপাদান হল পেঁয়াজের রস। পেঁয়াজের রসের মত অন্য কোন উপাদান এত দ্রুত চুল পরিচর্যায় সহায়তা করতে পারে না। পেঁয়াজের রসে থাকা উপাদান চুলকে আরো ঘন করে তোলে। এছাড়াও এরমধ্যে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান থাকায় এটি চুলে আরো পুষ্টি যোগায়।

  • একটি বড় পেঁয়াজ ৪ ভাগ করে ব্লেন্ডারে পেঁয়াজ টি মিশ্রিত করে নিন। পেঁয়াজের মিশ্রণটি থেকে কোন নরম কাপড়ের সাহায্যে পেঁয়াজের রস আলাদা করে নিন। এরপর পেঁয়াজের রস সরাসরি মাথার ত্বকে এবং চুলে লাগান।
  • পেঁয়াজের রস মাথায় লাগানোর সময় মাথায় আঙ্গুল দিয়ে হালকা মাসাজ করবেন। পেয়াজের রস লাগানোর পর ঘণ্টা খানেক পর শাওয়ার ক্যাপ লাগিয়ে চুলটা অমনি ভাবেই রেখে দেবেন।
  • এরপর শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু দিয়ে ওয়াস করে নিন। এভাবে মাসে ৩/৪ বার লাগলেই পরিবর্তন বুঝতে পারবেন।

চুল পড়া বন্ধে আমলকির তেল

পুষ্টিকর একটি ফল আমলকী। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফলটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া চুল পড়া বন্ধে আমলকীর তেলের জুড়ি নেই। চুলের বৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি চুল ঝলমলে করতেও অতুলনীয়।

আমলকির তেল আপনি চাইলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি করতে পারেন। ঘরে তৈরি এই তেল কাচের বয়ামে ভরে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে তৈরি করবেন আমলকির তেল-

  • আমলকি ধুয়ে শুকনা কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে নিন। ছুরি দিয়ে শাঁস আলাদা করে কেটে ভেতরে থাকা বিচি ফেলে দিন। কারি পাতা ও সিকি কাপ নারকেল তেল দিয়ে মিহি করে ব্লেন্ড করে তৈরি করুন মিশ্রণ।
  • চুলায় মোটা তলযুক্ত প্যান বা কড়াই চাপিয়ে দিন। দুই থেকে তিন কাপ নারকেলের তেল বা তিলের তেল দিয়ে আমলকির মিশ্রণ দিয়ে দিন। কম আঁচে অনবরত নাড়তে থাকুন।
  • ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট পর রঙ বদলে গেলে নামিয়ে ঢেকে রাখুন ৮ ঘণ্টা। এরপর স্ট্রেইনারের উপর একটি পাতলা কাপড় বিছিয়ে ছেঁকে নিন।

চুল পড়ার আধুনিক চিকিৎসা

প্রথমে বের করতে হবে চুল কেন পড়ছে। এটি কী বংশগত নাকি অ্যালার্জিজনিত, অপুষ্টি নাকি চুল পরিচর্যার ভুল টেকনিক অবলম্বন করার জন্য। পিআরপি অর্থাৎ প্লাটিলেট রিচড প্লাজমা চুল গজানোর আধুনিক চিকিৎসা। আমাদের রক্তে তিন ধরনের কণিকা আছে। এর মধ্যে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট আমাদের দেহের ক্ষয় পূরণ ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পিআরপিতে রোগীর দেহ থেকে রক্ত নিয়ে সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের সাহায্যে এই তিন ধরনের কণিকা পৃথক করা হয়। ডায়াবেটিসে ব্যবহৃত ইনসুলিন সিরিঞ্জের সাহায্যে এ প্লাটিলেট চুল পড়ে যাওয়ার স্থানে ইনজেকশন আকারে দেয়া হয়। এটি বিশ্বব্যাপী কার্যকরী ও আধুনিক চিকিৎসা। আমাদের মাথায় প্রায় এক লাখ চুল আছে।

প্রতিদিন ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। এর চেয়ে বেশি পড়লে তা অস্বাভাবিক। কীভাবে বুঝবেন আপনার চুল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পড়ছে। দুই আঙ্গুল দিয়ে ৪০ থেকে ৬০টি চুল ধরে হাল্কা টান দিলে যদি ৫ থেকে ৭টি চুল উঠে আসে তাহলে বোঝা যায় আপনার চুল পড়ার হার বেশি।

এক ধরনের ক্যামেরা চুলের গোড়ায় বসিয়ে মনিটর দিয়ে দেখা হয় চুল পড়ার হার স্বাভাবিক কী না। পিআরপি থেরাপি সাধারণত ৬টি সেশন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ১২টি সেশন করলে চুলগুলো স্টাবেল হয়। খরচ হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টেশনের তুলনায় কম। এটি শতভাগ নিরাপদ। ১২ সেশনের পরও ৫-১০ ভাগ রোগীর মেইনটেনেন্স থেরাপি হিসেবে বছরে ১ থেকে ২ বার পিআরপি আবার করা যেতে পারে।

চিকিৎসা যদি যথাযথভাবে করা যায় তাহলে পিআরপি করলে সাফল্য আসে। এতে চুলের গ্রোথ বুস্টআপ করা হয়। এর সঙ্গে মুখে খাওয়া ও লাগানোর ওষুধও ব্যবহার করতে হয়। যদি এতেও কাজ না হয় তবে হেয়ার ট্রান্সপ্লানটেশন করা হয়। রোগীর শরীর থেকেই ১-২ মিলিমিটার চুল নিয়ে যেখানে চুল নেই সেখানে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই চুল রোগীর সারা জীবনই থাকে। পড়ে যায় না। পূর্ণ ফলাফল পেতে ৬-১৮ মাস সময় লাগে।

চুলের যত্ন

ত্বকের ভালো যত্নের জন্য যেমন প্রাকৃতিক উপাদানের প্রয়োজন তেমনি চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান এর প্রয়োজন। চুল আমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তাই আমরা নিজেদের চুল সব সময় সুন্দর রাখতে চাই। কিন্তু অনেক সময় পুষ্টির অভাবসহ নানা কারণে চুলে সমস্যা দেখা দেয়। চুল পড়তে শুরু করে, রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে যায়, বৃদ্ধি কমে যায়, খুব দ্রুত সাদা হয়ে যায়, খুশকি হয়। দেখা দেয় আরো নানা সমস্যা। এসব সমস্যা থেকে চুলকে রক্ষা করতে হলে চুলের যত্ন নিতে হবে।

চুলের যত্নে নানাধরণের প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। প্রাকৃতিক উপাদানগুলো চুলের প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি যোগাতে সহায়তা করবে।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা 

অনেকেরই রোদে চুল পুড়ে লালচে রঙের হয়ে যায়। চুলের ঝলমলে কালো রঙ আনতে চুলের যত্নে অ্যালোভেরা ব্যবহার করুন। এতে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি প্রপার্টি যা আমাদের চুলের রঙ কালো করতে সাহায্য করে।

এছাড়াও অ্যালোভেরা চুল পড়া কমায় ও চুল দ্রুত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল পূর্ণ অ্যালোভেরা চুলের ফলিকলকে পরিপুষ্ট করে চুল পড়া কমায়।

অ্যালোভেরা

চুল ব্রাশ বা আচড়ানো

চুল নিয়মিত ২-৩ বার ব্রাশ করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে চুল ব্রাশ করতে হবে এতে চুলের উপকার হবে। হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে হবে চুলের ধরন বুঝে। তবে ঘন ঘন হেয়ার প্যাক লাগানো উচিত নয়।

চুলকে কড়া রোদ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। কড়া রোদের কারণে চুল পড়া শুরু হয়, আবার চুলের রঙ লালচে হয়ে যায়। তাই কড়া রোদে ছাতা, স্কার্ফ বা ক্যাপ দিয়ে চুল ঢেকে বাহির হবেন। ভেজা চুল ব্রাশ করা উচিত নয়। কারণ ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়ায় নরম থাকে। তখন ব্রাশ করলে চুল ছিঁড়ে আসার সম্ভাবনা থাকে।

চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহার করতে হবে। তেল চুলের গোড়া মজবুত করে। এতে চুল পড়া বন্ধ হয়। এছাড়া চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান গুলো আমাদের খুব উপকারে আসে। প্রাকৃতিক উপাদান গুলো আমাদের চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ছেলেদের চুলের যত্ন

চুলকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে ছেলেদেরও চুলের যত্ন নিতে হবে। তাদের সেই শ্যাম্পু ক্রয় করা উচিত যা তাদের চুলের জন্য উপযোগী। বিভিন্ন ধরনের চুলের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু। তাই ভালো শ্যাম্পু বাছাই করে কিনতে হবে। 

ছেলেদের ও মেয়েদের চুলের যত্ন করার প্রক্রিয়া তেমন আলাদা নয়

ছেলেরা চুলে কন্ডিশনার এর বদলে লেবুর রস লাগালে বেশি উপকার পাবে। এক মগ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে চুল ধুলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। আর কন্ডিশনার যদি ব্যবহার করেন তাহলে খেয়াল রাখতে হবে এটি যেন চুলের গোড়ায় ও মাথার ত্বকে না লাগে। অর্থাৎ কন্ডিশনার শুধু মাত্র চুলে ব্যবহার করতে হবে। মাথার ত্বকে বা চুলের গোড়ায় লাগলে চুল পড়া শুরু হয়ে যাবে।

এছাড়া ছেলেদের ও মেয়েদের চুলের যত্ন করার প্রক্রিয়া তেমন আলাদা নয়। তাই সকলেই উপরের চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পারবে।

আইনিউজ/এসডি

দেখুন আইনিউজের ভিডিও-

মানসিক চাপ কমাবেন যেভাবে

চিনির কারণে প্রতিবছর সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটে

বয়স পঞ্চাশের আগেই বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা

যেসব দেশে যেতে বাংলাদেশিদের লাগবে না ভিসা

সাজেক: কখন-কীভাবে যাবেন, কী করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়