নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:৫৩, ২১ এপ্রিল ২০২১
শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশের অর্থ দিয়েছিলো বিএনপি-জামায়াত
২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশে শাপলা চত্বর (সংগৃহীত ছবি)
২০১৩ সালের ৫ মে। রাজধানীর মতিঝিলে সরকার পতনের উদ্দেশ্যে হেফাজতের যে সমাবেশ হয়েছিলো সেই সমাবেশে অর্থের যোগান দিয়েছিলো বিএনপি। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন কথা বলেছেন হেফাজত ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির তৎকালীন প্রচার সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম।
গত সোমবার (১৯ এপ্রিল) মুখ্য মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন।
স্বীকারোক্তিতে মুফতি ফখরুল ইসলাম আরও জানিয়েছেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সরাসরি হেফাজতের কর্মসূচীতে ঢুকে জ্বালাও পোড়াও করে সরকারের পতন ঘটাতে চেয়েছিল।
মুফতি ফখরুলের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। শাপলা চত্বরের সমাবেশের ঠিক এক সপ্তাহ আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন জুনায়েদ বাবুনগরী। বিএনপির পক্ষ থেকে ওই আন্দোলনে জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
মুফতি ফখরুল বলেছেন, ‘২০১৩ সালের ৫ মে আমি কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকার ৮/১০ হাজার হেফাজত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে লালবাগ-চকবাজার হয়ে নয়াবাজারে আসি। জোহরের নামাজ পর্যন্ত আমরা ৮/১০ হাজার লোকসহ এখানেই ছিলাম। জোহরের নামাজ আদায়ের পর দুপুর ২টার দিকে হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ সাহেব ফোন দিয়ে সবাইকে নিয়ে শাপলা চত্বরে যাওয়ার জন্য বলেন। শাপলা চত্বরে যাওয়ার সময় গোলাপশাহ মাজারের (গুলিস্তান) সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেয়।'
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তারা সেখানে ছত্রভঙ্গ হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। দুপুর ৩টার দিকে তার নেতৃত্বে ৫/৭ হাজার লোক নিয়ে তিনি শাপলা চত্বরে পৌঁছান। সেখানে মাওলানা মাঈনুদ্দীন রুহী তাকে বলেছেন, আন্দোলন ও সহিংসতার বিষয়ে দু’জন বিএনপি নেতা এবং একজন জামায়াত নেতা তাদের অর্থ সহযোগীতা করছে। এছাড়া ওই বছরের ২৮ এপ্রিল বাবুনগরীর সঙ্গে খালেদা জিয়ার গোপন বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে হেফাজতের প্রোগ্রাম শাপলা চত্বরে স্থায়ী হলে বিএনপি ও জামায়াতও যোগ দেবে বলে আলোচনা হয়েছে। ওই দিন দুপুর থেকেই বিএনপি-জাময়াতের কর্মীরা রাস্তায় বাধা সৃষ্টি ও আগুন দেওয়া শুরু করে।’
জবানবন্দিতে মুফতি ফখরুল বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে’র সেই সহিংসতায় তৎকালীন বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক শীর্ষ নেতা অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন। সহিংসতায় অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও।
উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল লালবাগ এলাকা থেকে মুফতি ফখরুলকে গ্রেফতারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড শেষে সোমবার (১৯ এপ্রিল) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকেই জুনায়েদ বাবুনগরী বিএনপি-জামায়াত ঘেঁষা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আহমদ শফীর জন্য আগে তেমন সুবিধা করতে পারেননি।
গোয়েন্দারা জানায়, আহমদ শফীর মৃত্যুর পর বাবুনগরীর আমীর নির্বাচিত হলে হেফাজত পুরোপুরি ‘অ্যান্টি গভর্নমেন্ট অ্যাক্টিভিটিজ’ শুরু করেছে। এরই ফলশ্রুতিতে গত বছরের শেষের দিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে বিরোধিতা শুরু করে চলতি বছরে মোদী বিরোধী আন্দোলনের নামে সহিংসতা শুরু করে।
এদিকে গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব রিসোর্টে নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে আলোচিত নেতা মামুনুল হকও।
জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক বলেছেন, ২০১৩ সালে বিএনপির পেছনে থেকে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখতেন তারা। হেফাজত নেতারা মনে করতেন, হেফাজতই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে আর বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলে তাদের পেছনে থাকবে।
এমনকি রিমান্ডে নেওয়ার পরও মামুনুল হক মনে করতেন, তার দলের নেতাকর্মীরা ডিবি অফিসে হামলা চালিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে।
রোববার (১৮ এপ্রিল) মামুনুলকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বিস্তারিত...
মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁও জোনের মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে সারাদেশের উত্তাপে উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেছিলেন মামুনুল হক। বিস্তারিত...
তিনি বলেন, ‘আমরা নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম জেলার ২৩টি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। আমাদের তদন্তের ভালো একটি সেটাপ রয়েছে। আমাদের সাইবার এক্সপার্ট, ডিএনএ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ রয়েছে। তারা ভিডিও ফুটেজগুলো দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে যে, কারা কারা এর সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।’
এসময় সিআইডি প্রধান হেফাজতের শীর্ষ নেতাদেরও আইনের আওতায় আনার ইঙ্গিত দেন। বিস্তারিত...
গতকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১১টার পর মামুনুলকে রাজধানীর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে (সিএমএম আদালত) নেওয়া হয়। সেখানে পুলিশের আবেদনে মামুনুল হকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বিস্তারিত...
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম কর্তৃক সারাদেশে ঘটে যাওয়া ভাঙচুর, হামলা ও ক্ষয়ক্ষতিতে বিভিন্ন সময় দায়ের করা ২৩টি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডি। বিস্তারিত...
আইনিউজ/এসডি
- বেইলি রোডে আগুন : ৩ জন আটক
- এই নৌকা নূহ নবীর নৌকা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী
- 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' গঠনের ঘোষণা
- কাল থেকে যেসব শাখায় পাওয়া যাবে নতুন টাকার নোট
- এক বছরেই শক্তি, ক্ষিপ্রতা জৌলুস হারিয়ে 'হীরা' এখন বৃদ্ধ মৃত্যুপথযাত্রী
- ওয়াহিদ সরদার: গাছ বাঁচাতে লড়ে যাওয়া এক সৈনিক
- ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ইতিকথা (প্রথম পর্ব)
- এবার ভাইরাস বিরোধী মাস্ক বানিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো বাংলাদেশ
- মায়েরখাবারের জন্য ভিক্ষা করছে শিশু
- ২৫ কেজি স্বর্ণ বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
























