ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ১৮ মে ২০২১
আপডেট: ২৩:৫৮, ১৮ মে ২০২১

‘সাংবাদিককে হেনস্তা করে দেশের ভাবমূর্তি অনেক বেশি ক্ষুণ্ন হয়েছে’

সরকারি নথি সরানো ও নথির ছবি তোলার অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলায় পুলিশের রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। 

রোজিনাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও লেখক আনিসুল হক।

তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা বজায় রাখতে এই মামলা প্রত্যাহার এবং রোজিনার হেনস্তাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। 

মঙ্গলবার (১৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সিএমএম কোর্ট) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।

আনিসুল হক বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একটি পবিত্র জায়গায় আমাদের সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা করা হয়েছে। তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বলা হচ্ছে, তিনি (রোজিনা ইসলাম) যে তথ্য নেবেন সেগুলো দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। আজকে একজন সাংবাদিককে হেনস্তা করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অনেক বেশি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তিনি ওই তথ্য নিয়ে গেলে প্রথম আলোর মতো পত্রিকা যাচাই-বাছাই না করে এবং সকলের বক্তব্য ছাড়া প্রকাশ করতো না। এটা কোনো রাষ্ট্রবিরোধী, সরকাবিরোধী বা গণবিরোধী তৎপরতা নয়। সংবাদ মাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এর ওপর তো আস্থা রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে সংবাদপত্রকে দেশের শত্রু বলা হচ্ছে, সাংবাদিকতাকে তথ্য চুরি বলা হচ্ছে, এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু হতে পারে না।

আনিসুল হক বলেন, ‘সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশে মামলা তুলে নিতে পারে। আমরা জানি, আদালত আমাদের ন্যায় বিচার দেয়। অতীতেও ন্যায়বিচার পেয়েছি। আজকেও পেয়েছি। রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে, সেটা নামঞ্জুর করা হয়েছে। পরশু দিন আমরা আবার জামিন আবেদন করবো। এই মামলার কোনো মেরিট নাই। জামিন না হওয়ার কারণ নেই। সেই আস্থা আছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে মামলাটা হবে কেন? আমি একজন নাগরিক। তথ্য জানা আমাদের অধিকার। আমাদের একজন সাংবাদিক সেই তথ্য আনতে গেছে। সেটা প্রথম আলো যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করবে অথবা প্রকাশ করবে না। সব যে প্রকাশ করে, তাও না। এমনও হয়েছে আমরা অনেক তথ্য শুধু প্রকাশ থেকেই বিরত থাকিনি, রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়েছি যে, এটা আপনারা নেন। সেনসেটিভ (স্পর্শকাতর) বিষয়ে আপনারা ব্যবস্থা নেন। এটাতে আমাদের কিছু করার নেই।’

‘আমাদের ওপর তো আস্থা রাখতে হবে। বাংলাদেশের কোটি কোটি পাঠক ওপর প্রথম আলোর ওপর আস্থা রাখে। করোনাকাল চলছে, আমরা টিকা পেয়েছি। আমরা লিখেছি, টিকার ব্যবস্থাপনা অপূর্ব। আমরা যেখানে ভালো হচ্ছে, বলছি। যেখানে সমালোচনা আছে, সেটাও বলি।’

আনিসুল হক বলেন, ‘একজন যদি বলে এই নিয়োগের জন্য এক কোটি এখন পাবেন, আরও একটি কোটি পরে পাবেন। এই তথ্য আমাদের কাছে থাকলে আমরা প্রকাশ করবোই। তাতে কেউ কেউ তো বেজার হবেই। রোজিনা এ ধরনের রিপোর্ট করেছে, আমরা জানি। সচিবালয় তাকে ভয় পায়। তার স্বাধীন সংবাদিকতা তাদের দুর্নীতিকে বাধাগ্রস্ত করে। আর এটা যে একটা আক্রোশের মামলা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’

উল্লেখ্য, সোমবার (১৭ মে) পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় মামলা হয়।

আইনিউজ/এসডিপি

সংশ্লিষ্ট খবর

সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে সাংবাদিককে থানায় হস্তান্তর

অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন নাকচ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করলেন সাংবাদিকরা

‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে’

সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তা: ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

সাংবাদিক রোজিনাকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ

সাংবাদিক রোজিনার জামিন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যের ব্রিফিং বর্জন

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়