ঢাকা, রোববার   ০১ আগস্ট ২০২১,   শ্রাবণ ১৭ ১৪২৮

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৭, ২০ জুলাই ২০২১
আপডেট: ০০:৪২, ২১ জুলাই ২০২১

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে ১৫৫ রান ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ উইকেটের জয়ে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল সফরকারীরা। তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ২৯৯ রানের বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে জয়ের স্বপ্নই দেখছিল স্বাগতিকরা।

কিন্তু জিম্বাবুয়েকে সান্ত্বনার জয়ও পেতে দিল না টাইগাররা। হারারেতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বড় লক্ষ্য পাড়ি দিয়ে জিম্বাবুয়েকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ।

ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করে রেগিস চাকাবা, সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্লের হাফ সেঞ্চুরিতে ২৯৮ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯ বল থাকতেই ৩০২ রান করে ৫ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ। 

২৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাবলীল ব্যাটিং করে দলীয় অর্ধশত তুলে নিয়েছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। চাতারার শর্ট বল পুল করে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা হাঁকান তামিম। পরের বলটি অনড্রাইভে চার। ওভারের শেষ বলটি ডিপ কভার দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি। শেষ ৩ বলে ১৪ রানের আগে ওভারের প্রথম দুই বলে আসে ৫ রান। তাতে চাতারার করা অষ্টম ওভারে বাংলাদেশ পেয়ে যায় ১৯ রান। একই সঙ্গে ৮ ওভারে দলীয় ৫০ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।  

সিকান্দার রাজার ১৭তম ওভারের তৃতীয় বল লং অনে পাঠিয়ে এক রান নিলেন তামিম। এই সিঙ্গেলে বাংলাদেশের দলীয় রান ১০০ স্পর্শ করে। বিশাল লক্ষ্য তাড়া রকতে নেমে বাংলাদেশ দারুণ জবাব দিচ্ছে জিম্বাবুয়েকে। কোনো ঝুঁকি না নিয়েই রান তুলছেন ব্যাটসম্যানরা।

দুই ওপেনার তামিম ও লিটন ৮৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। এ সময়ে তামিম তুলে নেন ফিফটি। তবে লিটন ৩২ রানের বেশি করতে পারেননি। মাধভেরের বল সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন। তামিম ৫২তম ওয়ানডে ফিফটি পেয়েছেন ৪৬ বলে। এজন্য ৪টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। তামিমের নতুন সঙ্গী দ্বিতীয় ম্যাচের নায়ক সাকিব।

স্পিনার মাধভেরের বল এগিয়ে এসে কভার দিয়ে ছক্কা হাঁকালেন তামিম। ৪৭ থেকে তামিম ও সাকিবের জুটির রান ৫৩। তাদের জুটির ১৬তম ফিফটি এটি। তাদের জুটির তিনটি সেঞ্চুরির ইনিংসও রয়েছে।

পথের কাঁটা সাকিব আল হাসানকে ফিরিয়ে আনন্দে মাতল জিম্বাবুয়ে। পেসার লুক জংওয়ের অফস্টাম্পের বাইরের লেন্থ বল কাট করতে গিয়েছিলেন সাকিব। টাইমিং মেলাতে পারেননি। বল যায় চাকাবার হাতে। জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের জোরালো আবেদেন আম্পায়ার সাড়া দেন। সাকিব অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন! মনে হচ্ছিল আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে একদমই খুশি নন তিনি। তামিমের সঙ্গে ৬৮ বলে ৫৯ রানের জুটি গড়ে সাকিব ফিরলেন সাজঘরে। জুটিতে তার অবদান ৩০ রান।  

চাতারার লেন্থ বল লং অন দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠালেন তামিম। ৯৬ থেকে তার রান পৌঁছে গেল ১০০তে। ১২ ইনিংস পর তামিম ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি পেলেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার ১৪তম সেঞ্চুরি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যা চতুর্থ। ৮৭ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছেন তামিম। ওয়ানডেতে এটি তার দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১০ সালে ৯৪ বলে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি।

দ্বিতীয় বিরতির পর জোড়া সাফল্য পায় জিম্বাবুয়ে। তামিম ও মাহমুদউল্লাহ ফিরলেন টিরিপানোর এক ওভারে। ডানহাতি পেসারের অফস্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা মারতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তামিম। পুরো ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা তামিম মনোযোগ হারিয়ে আলগা শট খেললেন।  ৯৭ বলে ১১২ রান করে তামিম ফেরেন সাজঘরে। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় তামিম সেঞ্চুরির ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন। 

তামিম আউট হবার পরের বলেই সাজঘরের পথ ধরেন মাহমুদউল্লাহ। ডানহাতি ব্যাটসম্যান টিরিপানোর ভেতরে ঢোকানো বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। ক্যারিয়ারের ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নেমে গোল্ডেন ডাককে সঙ্গী করলেন মাহমুদউল্লাহ। 

মোহাম্মদ মিঠুন ও নুরুল হাসান সোহানের জুটিতে পরপর দুই বলে তামিম ও মাহমুদউল্লাহকে হারানার ধাক্কা ভালোই সামাল দিয়েছে বাংলাদেশ। হয়ে গেছে ইনিংসের চতুর্থ অর্ধশত জুটি।

সাড়ে চার বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা সোহানের দারুণ ব্যাটিংয়েই মূলত এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এক ইনিংসে চারটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি এই নিয়ে চারবার পেল বাংলাদেশ। আগের তিনবার ছিল ২০১৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফতুল্লায়, ২০১৮ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে মিরপুরে ও ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ডাবলিনে।

শুরু থেকে একটুও স্বস্তিতে খেলতে পারছিলেন না মোহাম্মদ মিঠুন। তবু লড়াই করে টিকে ছিলেন। কিন্তু হুট করেই আত্মঘাতী শট খেলে বসলেন। সমীকরণ যখন খুব সহজ, ৩১ বলে প্রয়োজ ৩১ রান, মাধেভেরের বলে বেরিয়ে এসে উড়িয়ে মারলেন মিঠুন। টাইমিং করতে পারেননি। লং অফে ক্যাচ নেন চাতারা। ৫৭ বলে ৩০ রান করে শেষ হলো মিঠুনের অস্বস্তিময় ইনিংস। সোহানের নতুন সঙ্গী আফিফ হোসেন।

আইনিউজ/এসডিপি 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়