ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২,   মাঘ ১৩ ১৪২৮

সীমান্ত দাস, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:২১, ৫ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ১৮:৪৯, ৫ জানুয়ারি ২০২২

এবাদত হোসেন চৌধুরী: নিউজিল্যান্ডের সাত উইকেট গুড়িয়ে দিয়েছেন মৌলভীবাজারের ছেলে

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে সাত উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন যে বোলার তিনি হলেন এবাদত হোসেন চৌধুরী। নিজের ২৮তম জন্মদিনের দুইদিন আগে পাওয়া দলের জয়ের পেছনে তার ছিল প্রধান ভূমিকা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই রেকর্ড গড়া জয়ের নায়ক এবাদত হোসেন চৌধুরী চায়ের দেশ মৌলভীবাজার জেলার সন্তান। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা থেকে উঠে এসেছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য এবাদত হোসেন চৌধুরী।

মাউন্ট মঙ্গাইনুয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক এবাদত হোসেন চৌধুরী। আগের দিন ৪ উইকেট পেয়েছিলেন এবাদত। তার বলে আউট হন- উইল ইয়াং, ডেভন কনওয়ে, হেনরি নিকোলস ও টম ব্লান্ডেল। আজ প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে রস টেলরকে বোল্ড করেন। এরপর নেন কাইল জেমিসনের উইকেট। সব মিলিয়ে ৪৬ রানে তার শিকার ৬ উইকেট। তার হাত ধরে প্রায় ৯ বছর ও ৪৭ ম্যাচ পর টেস্টে ৫ উইকেট পেলেন বাংলাদেশের কোনো পেসার। শাহাদাত হোসেন, রবিউল ইসলাম ও মঞ্জুরুল ইসলামের পর চতুর্থ পেসার হিসেবে টেস্টে ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন এই পেসার।

এবাদতের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ নিল বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই। টম লাথামের দলকে ৮ উইকেটে হারাল মুমিনুল বাহিনী। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ অব দ্য ম্যাচ এবাদত হোসেন চৌধুরী।

রেকর্ড গড়া জয়ের পর যা বললেন এবাদত হোসেন চৌধুরী

ম্যাচ জয়ের প্রতিক্রিয়ায় এবাদত বলেন, প্রথমে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। দ্বিতীয়ত, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে, আমারা গত ২১ বছরে জয় পাইনি। আমরা এবার একটা লক্ষ্য স্থির করেছি। আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করেছি। নিউজিল্যান্ডকে আমাদের হারাতেই হবে। নিজেদের মাটিতে তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়ন, আমরা পারলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও তাদের হারাতে পারবে।

এবাদত আরও বলেন, গত দুই বছরে, আমি ওটিস গিবসনের সাথে অনুশীলনে ঘাম ঝরিয়েছি। আমাদের ঘরের কন্ডিশন সবসময়ই ফ্ল্যাট থাকে। আমরা এখনও শিখছি কিভাবে বোলিং করতে হয় এবং দেশের বাইরের কন্ডিশনে রিভার্স সুইং করতে হয়। আমি স্টাম্পের উপরে আঘাত করার চেষ্টা করছি। সফলতার জন্য ধৈর্য ধরে বল করে গেছি। আমি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একজন সৈনিক তাই স্যালুট করতে জানি। ভলিবল থেকে ক্রিকেটে আসা দীর্ঘ একটি গল্প । আমি ক্রিকেট উপভোগ করছি, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করছি।

ক্রিকেটার নয়, ভলিবল খেলোয়াড় ছিলেন এবাদত

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ক্রিকেটার বা বোলার হিসাবে পরিচিতি পেলেও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই সদস্য কিন্তু খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন ভলিবল খেলোয়াড় হিসাবে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিতে গিয়ে সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাবে এবাদত হোসেন বলেছেন, ''আমার ভলিবল থেকে ক্রিকেটে আসার গল্পটা অনেক লম্বা। তবে আমি ক্রিকেট উপভোগ করছি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ও বিমান বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করাটাও।''

মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে নিউজিল্যান্ডের উইল ইয়াংকে বিদায় করার পর নিজের স্টাইলে স্যালুট জানিয়ে উদযাপন করছেন এবাদত হোসেন

মৌলভীবাজারের ছেলে এবাদত হোসেন চৌধুরী ২০১২ সালে বিমান বাহিনীতে সৈনিক হিসাবে যোগ দেন। সেখানেই চাকরির পাশাপাশি বিমান বাহিনীর নিয়মিত ভলিবল খেলতে শুরু করেন।

ভলিবল দিয়ে ক্রীড়া জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি ক্রিকেট খেলার প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ২০১৪ সালে সিটি ক্লাবের হয়ে ঢাকায় প্রথম বিভাগ ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান।

এবাদত হোসেন চৌধুরীর উত্থান

তিনি প্রথমে নজরে আসেন ২০১৬ সালে রবি পেসার হান্ট প্রতিযোগিতার মাধ্যম। সেই সময় তার দ্রুত গতির বলের জন্য তিনি 'স্পিড স্টার' পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের হাই পারফর্মেন্স ক্যাম্পে ডাক পান।

সেই বছর ওই ক্যাম্পে আরও ডাক পেয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, সাদমান ইসলামের মতো তরুণরা, যারা এখন জাতীয় দলে খেলছেন।

সেই সময় হাই পারফর্মেন্স ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দিতে আসা আকিব জাভেদের প্রশংসাও কুড়ান এবাদত হোসেন।

সেই সময় বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার ছিলেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

এবাদতের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেছেন,

এবাদত দারুণ সমালোচনার মুখে ছিল অনেকদিন। কারণ ওর বোলিং এভারেজ ভালো একজন বোলারের সাথে যায় না। সেটা নিয়ে অনেক সমালোচনা ছিল। কিন্তু সেটার পরেও ওর মধ্যে ভালো করার যে জেদ ছিল, ভালো করার চেষ্টা ছিল, সেটাই তার সবচেয়ে বড় সম্পদ বলে আমার মনে হয়।

এবাদত হোসেনের বোলিংয়ের অনেক পরিবর্তন তিনি দেখতে পেয়েছেন বলে বলছেন মি. আবেদীন।

রিসেন্টলি আমি দেখলাম, ওর বোলিংয়ের মধ্যে কিছু পরিবর্তন এসেছে। অনেক ডিসিপ্লিনড মনে হয়েছে, টেকটিক্যালি ইমপ্রুভড মনে হয়েছে ওকে। সেটার জন্য তাকে কঠোর অনুশীলন করতে হয়েছে।

ক্রিকেটে এবাদতের সাফল্য

২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের হয়ে খেলতে নেমে নয় ওভারে ১৯ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন এবাদত। তিনটি ওভার ছিল মেডেন।

এরপর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) সিলেট সিক্সার্সের হয়ে মাঠে নেমে আলোচিত হয়ে ওঠেন এবাদত। সিলেট সিক্সার্সের শেষ ম্যাচে মাত্র ১৭ রানে চার উইকেট নিয়ে দলের জয়ের নায়কে পরিণত হন। এছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগে (বিসিএল) পাঁচ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে তিনি নির্বাচকদের নজরে আসেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এবাদত হোসেনের প্রথম অভিষেক ঘটে ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। তাসকিন আহমেদ ইনজুরিতে থাকায় নিউজিল্যান্ড সফরে তিনি জাতীয় টেস্ট দলের হয়ে খেলার ডাক পান। তেসরা মার্চ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই তার আন্তর্জাতিক খেলা এবং টেস্টে অভিষেক হয়।

কিন্তু বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে বরাবরই সমালোচনার মধ্যে থেকেছেন এবাদত হোসেন। ১০টি টেস্ট খেললেও তার বোলিং গড় ছিল প্রায় ১০০। মোট উইকেট ছিল ১১ টি।

কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের মাটিতেই হারিয়ে ম্যাচ সেরা হয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নাম খোদাই করে ফেললেন এবাদত হোসেন চৌধুরী।

আইনিউজ/এসডি

দেখুন আইনিউজের ভিডিও খবর

মাইকে ঘোষণা দিয়ে মৌলভীবাজারের সরকার বাজারে শতশত মানুষের সংঘর্ষ

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাগাবালায় পুননির্বাচন চান আওয়ামী লীগসহ তিন প্রার্থী

রাজনগর উপজেলার তাহার লামুয়া নতুন ভোট কেন্দ্র, ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে হবে মেডিকেল কলেজ : মন্ত্রী

গ্রিসে পাঁচ বছরের ভিসা পাবে বাংলাদেশিরা

ঘুরে আসুন মৌলভীবাজারের পাথারিয়া পাহাড়

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়