নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০:০৫, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
হিমাগার নেই, মাঠেই পচে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
প্রতীকী ছবি
সবুজ মাঠ, টমেটোর লাল আভা আর কৃষকের নিরলস পরিশ্রম এই তিনের মিলনেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘কৃষি ভাণ্ডার’। প্রতি বছর এখানে রেকর্ড পরিমাণ আলু, টমেটো ও নানা ধরনের মৌসুমি শাকসবজি উৎপাদন হয়। কিন্তু উৎপাদনের সেই সাফল্য বেশিদিন টেকে না। একমাত্র হিমাগারের অভাবে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
ফসল ঘরে তোলার মৌসুম এলেই শুরু হয় কৃষকদের দুশ্চিন্তা। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে আসায় হুড়মুড়িয়ে পড়ে যায় দাম। সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই কৃষকদের কম দামে বিক্রি করতে হয় কষ্টার্জিত ফসল। অনেক ক্ষেত্রেই বিক্রি না হওয়ায় মাঠেই পচে যায় টন টন সবজি।
কৃষকদের ভাষায়, হিমাগার শুধু একটি স্থাপনা নয় এটি ন্যায্যমূল্য, ঋণমুক্ত জীবন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রতীক। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে কমলগঞ্জে প্রতিবছরই মাঠে মাঠে পচে যাবে কৃষকের ঘাম আর স্বপ্ন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কমলগঞ্জের আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, ইসলামপুর, মুন্সীবাজার, পতনঊষার, কমলগঞ্জ সদর ও রহিমপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভা এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়। এর মধ্যে টমেটো এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ফসল। অথচ এত বড় উৎপাদন অঞ্চলে পচনশীল ফসল সংরক্ষণের জন্য নেই কোনো হিমাগার।
টমেটো চাষি আব্দুল মতিন বলেন, “হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফসল ফলাই। কিন্তু রাখার জায়গা না থাকায় পানির দরে বিক্রি করতে হয়। একটা কোল্ড স্টোরেজ থাকলে ঋণ করে সংসার চালাতে হতো না।”
একই কথা জানান আরেক চাষি আব্দুল মন্নান। তিনি বলেন, “মৌসুমে বাজারে ফসলের চাপ বেশি থাকায় দাম পড়ে যায়। হিমাগারে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে কৃষক বাঁচত, বাজারও স্থিতিশীল থাকত।”
আলু চাষিরাও রয়েছেন ভিন্ন সংকটে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, বীজ সংরক্ষণের জন্য তাদের পাশের উপজেলার হিমাগারের ওপর নির্ভর করতে হয়। কমলগঞ্জে নিজস্ব হিমাগার থাকলে বীজ সংরক্ষণ সহজ হতো, উৎপাদন খরচ কমত এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে সরকারি পর্যায়ে হিমাগার নির্মাণের জন্য জায়গা নির্বাচন ও প্রাথমিক প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। তবে সেগুলো এখনো ফাইলবন্দী অবস্থায় রয়েছে। কৃষকদের দাবির মুখে আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, “টমেটোসহ বিভিন্ন পচনশীল শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সরকারিভাবে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, “হিমাগার স্থাপনের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের পরপরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।”
ইএন/এসএইচএ
- দুলাভাইয়ের ধর্ষণের শিকার শ্যালিকা
- মৌলভীবাজারের রাজনগরে
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল বিধবা রুবির বিউটি পার্লার - `প্রধানমন্ত্রীর কথা বলে আমাদের ধোকা দেওয়া হচ্ছে`
- রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে কমলগঞ্জে রাস উৎসব শুরু
- কমলগঞ্জে মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
- মেয়ের বাড়িতে ইফতার: সিলেটি প্রথার বিলুপ্তি চায় নতুন প্রজন্ম
- দেশের চতুর্থ ধনী বিভাগ সিলেট
- অবশেষে ক্লাস করার অনুমতি পেল শ্রীমঙ্গলের শিশু শিক্ষার্থী নাঈম
- শ্রীমঙ্গল টু কাতারে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালি নেটওয়ার্ক
মৌলভীবাজারে অনলাইন জুয়ায় রাতারাতি কোটিপতি সাগর - এসএসসির ফলাফলে বিভাগে ৩য় স্থানে মৌলভীবাজার

























