Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শনিবার   ১০ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ২৭ ১৪৩২

রুপম আচার্য্য

প্রকাশিত: ০৯:৫১, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

নীল-কালো আকাশের নিচে ধলালেজ চুনিকণ্ঠীর মিষ্টি ডাক

ধলালেজ চুনিকণ্ঠী পাখির ছবিটি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার খোকন থৌনাওজাম।

ধলালেজ চুনিকণ্ঠী পাখির ছবিটি তুলেছেন বার্ডফটোগ্রাফার খোকন থৌনাওজাম।

বাংলার প্রকৃতিতে রঙ ও সুরের এক অনন্য মেলবন্ধনের নাম ধলালেজ চুনিকণ্ঠী। ছোট্ট এই গীতিকার পাখিটি শুধু সৌন্দর্যেই নয়, তার মধুর কণ্ঠের জন্যও পাখিপ্রেমী ও প্রকৃতিবিদদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।

ধলালেজ চুনিকণ্ঠী (ইংরেজি: White-rumped Shama) সাধারণত গাঢ় নীল-কালো দেহ, উজ্জ্বল কমলা-বাদামি বুক এবং লম্বা সাদা আভাযুক্ত লেজের জন্য সহজেই আলাদা করে চেনা যায়। পুরুষ পাখিটি তুলনামূলক বেশি রঙিন ও লেজও দীর্ঘ হয়, যেখানে স্ত্রী পাখির রঙ কিছুটা ম্লান।

বাংলাদেশের বনাঞ্চল, বাঁশঝাড়, ঘন ঝোপঝাড় ও গ্রামসংলগ্ন সবুজ এলাকায় এই পাখির বিচরণ চোখে পড়ে। বিশেষ করে সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বনভূমিতে ধলালেজ চুনিকণ্ঠীর উপস্থিতি বেশি। ভোর কিংবা গোধূলিবেলায় এদের সুরেলা ডাক প্রকৃতিকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত।

এই পাখির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার অনুকরণ ক্ষমতা। ধলালেজ চুনিকণ্ঠী অন্য পাখির ডাকও নিখুঁতভাবে নকল করতে পারে। তাই অনেক সময় একাধিক পাখির ডাক মনে হলেও বাস্তবে তা হতে পারে একটিমাত্র চুনিকণ্ঠীর কণ্ঠস্বর।

খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে এরা মূলত পোকামাকড়ভোজী। গাছের নিচে মাটি খুঁড়ে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকা পোকা, লার্ভা ও ছোট কীটপতঙ্গ খুঁজে খায়। এতে প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে এই পাখি।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস ও অবৈধ খাঁচাবন্দি করার কারণে ধলালেজ চুনিকণ্ঠীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। বিশেষ করে তার সুমধুর গানের লোভে অনেকেই এই পাখিকে বন্দি করে রাখছে, যা প্রকৃতির জন্য এক অশনিসংকেত।

প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করেন, ধলালেজ চুনিকণ্ঠীর মতো গীতিকার পাখিদের রক্ষা করতে হলে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। খাঁচায় নয়, খোলা আকাশেই এই পাখির গান প্রকৃত অর্থে আমাদের মন ছুঁয়ে যায়।

সবুজ প্রকৃতির নীরব সুরকার ধলালেজ চুনিকণ্ঠী তাই শুধু একটি পাখি নয়, এটি আমাদের জীববৈচিত্র্যের এক অমূল্য সম্পদ।

ইএন/এসএইচএ
 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়