Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, শুক্রবার   ০৯ জানুয়ারি ২০২৬,   পৌষ ২৬ ১৪৩২

কাজল হাজরা

প্রকাশিত: ১৩:৫৩, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

চা শ্রমিকদের বঞ্চনা: উন্নয়নের নামে দায়হীনতার দীর্ঘ ছায়া

বাগান থেকে পাতি তুলে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছেন নারী চা-শ্রমিক। ছবি: আই নিউজ

বাগান থেকে পাতি তুলে মাথায় করে নিয়ে যাচ্ছেন নারী চা-শ্রমিক। ছবি: আই নিউজ

বিভিন্ন এনজিও চা শ্রমিকদের দুর্দশাকে পুঁজি করে তথাকথিত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের নামে দান-দক্ষিণার ছবি ও প্রচারণা দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, এমন অভিযোগ নতুন নয়। অথচ বাস্তবতা হলো, এসব অর্থের সিংহভাগ কখনোই প্রকৃত চা শ্রমিকদের হাতে পৌঁছায় না। উন্নয়নের ঝলমলে প্রতিবেদন আর বাস্তব জীবনের চিত্রের মধ্যে রয়ে গেছে গভীর বৈপরীত্য।

আজও একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। এই সামান্য আয়ে একটি পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এই মজুরি চা শ্রমিকদের জন্য নিছক টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

শত শত বছর ধরে নিরীহ চা শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। এই বঞ্চনার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে তাদের সন্তানদের ওপর। পর্যাপ্ত শিক্ষা, লেখাপড়া ও আলোর সুযোগ না পেয়ে অনেক শিশু-কিশোর ধীরে ধীরে মূলধারা থেকে ছিটকে পড়ছে। দারিদ্র্য যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তাদের পিছু ছাড়ছে না। এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে পড়ছে পুরো একটি জনগোষ্ঠী।

যদি এনজিওগুলো সত্যিকার অর্থে সৎ, স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করত, যদি সহায়তার অর্থ ও সুযোগগুলো সরাসরি চা শ্রমিকদের হাতে পৌঁছে দিত, তাহলে আজ চা শ্রমিক সমাজ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমানের ক্ষেত্রে অন্তত কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হতো।

কিন্তু বাস্তবতা হলো- কোটি কোটি টাকার গাফলতি, অব্যবস্থাপনা ও দায়হীনতার কারণে চা শ্রমিকদের জীবনে আজও কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। উন্নয়নের নামে এভাবে অবহেলা ও প্রতারণা শুধু নৈতিক ব্যর্থতাই নয়, এটি একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক অন্যায়। যার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই রাষ্ট্র, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা তথাকথিত উন্নয়ন অংশীদার কারওই।

ইএন/এসএইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়