ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১৫ ১৪২৭

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩:০১, ৩০ নভেম্বর ২০২০
আপডেট: ২৩:১৯, ৩০ নভেম্বর ২০২০

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন কমলগঞ্জের শুকুর মনি

নতুন ঘরের সামনে মনি বাউরি

নতুন ঘরের সামনে মনি বাউরি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা বাগানের আদমটিলা শ্রমিক বস্তির চা শ্রমিক বুদু বাউরী ও সুজলা বাউরীর মেয়ে শুকুর মনি বাউরী।  শুকুর মনি বাউরী জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী। বেশ কয়েক বছর ধরেই বাবা ও মা  চা শ্রমিকের কাজ করেন না। বাবা ঠিক মতো চোখে দেখেন না। মা সুজলা দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে কষ্ট করে তিনজনের সংসার চালান। তাদের বসত ঘরও ছিল ঝরাজীর্ণ। বৃষ্টির সময় ঘর ভিজে যেতো পানিতে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাইলট প্রকল্পে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চা শ্রমিকদের জন্য টেকসই আবাসন প্রকল্পের আওতায় কমলগঞ্জে ৫টি ইউনিয়নের অক্ষম ও অসহায় এমন ৫ জনকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা সমাজ সেবা বিভাগ বাস্তবতা যাচাই করে শমমেরনগর চা বাগানের আদমটিলা শ্রমিক বস্তির প্রতিবন্ধী শুকুর মনি বাউরী (২৫)-এর জন্য একটি ঘর বরাদ্দ করা হয়।  

ইতোমধ্যেই সমাজ সেবা বিভাগ ৪ লাখ ৭২৯ টাকা ব্যয়ে পাকা দেয়ালের টিন শেড একটি বাড়ি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন চা শ্রমিকদের জন্য টেকসই আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয় শুক্রবার (২৭ নভেম্বর)।

শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে  প্রতিবন্ধী শুকুর মনি বাউরীর ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদ।

সরকারিভাবে নির্মিত একটি বসতঘর পেয়ে গৃহে প্রবেশ করল প্রতিবন্ধী শুকুর মনি বাউরী। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হকের সভাপতিত্বে অনিমেশ পাল লিটন ও আব্দুল খালিক শিপলুর সঞ্চালনায় ঘরের উদ্বোধন ও চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারমান বিলকিছ বেগম, কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা প্রাণেশ বর্মা, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান, শমশেরনগর চা বাগানের ডেপুটি ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম।

শনিবার দুপুরে প্রতিবন্ধী শুকুর মনি বাউরীর বাসায় গেলে সে বলে, বাবা মা চা বাগানের শ্রমিকের কাজ ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে কষ্টের মাঝে তাদের জীবনযাপন চলছিল। এখন সরকারি উদ্যোগে একটি ভালো বসত ঘর পেয়ে তারা খুবই খুশী। এজন্য প্রধানমন্ত্রী, সাংসদ, উপজেলা প্রশাসন, সমাজ সেবা বিভাগ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শুকুর মনির মা সুজলা বাউরী বলেন, বেকার হয়ে গেলেও তিনি দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে কোন রকমে সংসার চালাচ্ছিলেন। তবে একটি বসত ঘরের অভাব ছিল। সেটিও সরকারিভাবে করে দেওয়া হল। এ যে কি আনন্দের বিষয় তা তিনি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিলেন না।  তিনি প্রধানমন্ত্রী, সাংসদ ও যারা এ ঘর নির্মাণে সহায়তা করেছেন তাদের সবার জন্য আশির্বাদ করেন। 

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এ প্রকল্পে সারা জেলায় ৩১টি গৃহ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সাংসদ উপাধ্যক্ষ ড. এম এ শহীদের প্রচেষ্টায় কমলগঞ্জে ৫টি চা বাগানে ৫ জন অসহায়দের জন্য ঘর বরাদ্দ হয়। এর মাঝে শমশেরগর চা বাগানের প্রতিবন্ধী শুকুর মনি বাউরী একজন। আগামীতে পর্যায়ক্রমে আরও অসহায়রা এভাবে ঘর পাবেন।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়