ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪২, ২৭ জুন ২০২১
আপডেট: ২৩:৪৬, ২৭ জুন ২০২১

মৌলভীবাজারে আনারসের ভালো ফলন, কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না চাষীরা

জেলার কমলগঞ্জে আনারস বাজার। (ছবি: কমলগঞ্জ প্রতিনিধি)

জেলার কমলগঞ্জে আনারস বাজার। (ছবি: কমলগঞ্জ প্রতিনিধি)

উৎপাদন ও বাজারজাতে মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবসায়ী সবসময় লাভবান হয়ে থাকে। মার খায় চাষীরা। চাষীরা বাজারের বিদ্যমান দামে বিক্রি করতেই হয়। পচনশীল পণ্য বাজারে দাম যা ই থাকুক বিক্রি করতেই হয়। আর ব্যবসায়ীরা বাগান বা আড়ৎ যেখান থেকেই ফল ক্রয় করেন খুচরা বাজারে নির্দিষ্ট লাভেই বিক্রি করেন।

মৌলভীবাজারের পাহাড়ি এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে আনারসের চাষ। জেলায় এবছর ফলটির ভালো ফলন হলেও করোনা সতর্কতায় আসছেন না দুর দূরান্তের ব্যবসায়ীরা। সে কারণে স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করতে হচ্ছে রসালো এই ফল। যার কারণে কাঙ্খিত দাম না পাওয়ার দাবি চাষীদের। অন্যদিকে পরামর্শ ও সহায়তায় স্থানীয় কৃষি বিভাগকে পাশে না পাওয়ার অভিযোগ জানাচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন আনারস বাগান ও আড়তে গিয়ে দেখা যায়, বাজার ভর্তি আনারস। বিভিন্ন বাগান থেকে জিপ ও ছোট ট্রাকে করে ফল নিয়ে আসা হচ্ছে এবং খুচরো ও পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।

চাষী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরাসরি বাগান থেকে চাষীরা নিয়ে আনারস আড়তে নিয়ে বিক্রি করেন। স্থানীয় পাইকার ছাড়াও ঢাকা, সিলেট, রাজশাহীসহ দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা এসব বাজার থেকে ফল কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এ গতবছর থেকে কোভিডের কারণে দূর-দূরান্তের কোনো ব্যবসায়ী নেই বাজারে। যার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই একমাত্র ভরসা। বছরের অন্য সময় ফসলের ভালো দাম মিললেও ভরা মৌসুমে বাজারে জোগান বেশি হয়। তখন দাম পড়ে যায় এবং সংরক্ষণের অভাবে অনেক ফসল নষ্ট হয়। তাদের দাবি জেলায় হিমাগার স্থাপনের।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসূত্র জানায়, এবছর শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকায় মিষ্টি ও রসালো ফল আনারসের ভালো ফলন হয়েছে। শ্রীমঙ্গল ছাড়াও জেলার কুলাউড়া, জুড়ি ও কমলগঞ্জের পাহাড়ী এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লাগানো ১হাজার ৩শ ৮১টি বাগান মিলে এবছর জেলায় প্রায় সাড়ে ১২শ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। যা গত বছর ছিলো এক হাজার ২০১ হেক্টর।

হানি কুইন, জায়ান্ট কিউ এই দুই জাতের সাথে স্থানীয় জাতের কিছু জলঢুপ আনারস চাষ হয়েছে। আনারসের সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শ্রীমঙ্গলে ৬শ হেক্টর। কুলাউড়া উপজেলায় ৩শ হেক্টর এবং কমলগঞ্জে ৩শ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ১৮টন করে হিসেব করে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৫০২ মেট্রিক টন। যা গতবছর ছিলো ২০ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। বাগান মালিক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও বাজারজাতের সাথে যুক্ত সবমিলে রয়েছেন ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলের মান ও আকার ভালো হয়েছে। উৎপাদন ইতিবাচক তারপরও ফলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় কিছুটা বিপাকে চাষীরা। 

শ্রীমঙ্গলের ডলুবাড়ী এলাকার কয়েকজন চাষী জানান, গত বছরের মতো এবারও আমরা ভালো ফলন পেয়েছি। আনারসের উৎপাদন ও সাইজ ভালো হয়েছে। লোকসান হয়েছে বলব না তবে দামটা তুলনামূলক কিছুটা কম পেয়েছি।

ডলু বাড়ির আরেক চাষী আনকার মিয়া বলেন, গত বছর কিছুটা লোকসান হয়েছিলো কিন্তু এবার ভালো হয়েছে। করোনার প্রভাবে বাজারে অন্য বছরের মতো দূরান্তের ব্যবসায়ী আসতে না পারায় স্থানীয় বাজারে চাহিদা কিছুটা কমেছে ফলটির। 

কমলগঞ্জের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, ভরা মৌসুমে এমনিতেই দাম কিছুটা কম থাকে। গত বছর যে আনারস ৪০-৫০টাকায় বিক্রি হয়েছে এবছর সেটি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাষীরা জানান, ফল ফসল উৎপাদন ও বাজারজাতে মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যবসায়ী সবসময় লাভবান হয়ে থাকে। মার খায় চাষীরা। চাষীরা বাজারের বিদ্যমান দামে বিক্রি করতেই হয়। পচনশীল পণ্য বাজারে দাম যা ই থাকুক বিক্রি করতেই হয়। আর ব্যবসায়ীরা বাগান বা আড়ৎ যেখান থেকেই ফল ক্রয় করেন খুচরা বাজারে নির্দিষ্ট লাভেই বিক্রি করেন।

জেলায় এবছর ফলটির বেশ ভালো ফলন।

ব্যবসায়ী জানান, করোনাকালে ফলের বাজারে দাম কমার অন্য একটি কারণ, বাবার বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি আম কাঁঠাল পাঠানো হচ্ছে না। যেটি সিলেটের আদি ও পুরনো ঐতিহ্য। স্থানীয় ভাবে যেটিকে ’জৈঠারী’ বলা হয়। প্রতিবছর এই মৌসুমে বাবার বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি জৈঠারীর ফল পাঠানোর রেওয়াজের কারণে বাজারে আম কাঁঠাল আনারসের চাহিদা থাকতো  গেলো দু’বছর ছেদ পড়েছে স্থানীয় প্রাচীন সেই প্রথায়। 

শ্রীমঙ্গল আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জেলার আড়ৎ ও বাজারগুলোতে ভরা মৌসুমে প্রতিদিন অর্ধ কোটি টাকার আনারস বেচাকেনা হলেও কভিডকালে কিছুটা কমেছে। তবে গেলো রোজায় বেচাকেনা ভালো ছিলো জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী জানান, এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে চাষীরা দামও পাচ্ছে ভালো। আনারসের চাষ বৃদ্ধিতে তারা চাষীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি।

আইনিউজ/এএ।এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়