ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৪ ১৪২৮

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৩, ২৮ মে ২০২১
আপডেট: ২১:১৯, ২৮ মে ২০২১

আব্বাস উদ্দিন ছিলেন নামাজে, নজরুল লিখলেন ‘দিলাম তোমার চরণ তলে হৃদয় জায়নামাজ’

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা বিদ্রোহী কবি হিসেবেই চিনি। তবে কাব্যপ্রেমীরা জানেন, নজরুল শুধু বিদ্রোহ নয়, বিচরণ করেছেন ধর্মীয়, মানবতা এমনকি প্রেমের বিষয়ে। সাহিত্যের সকল শাখাতেই ছিলো তার অবাধ চলাফেরা। কবিতা, গীতিকাব্য, গান, শিশুতোষ ছড়া কিছুই বাদ যায়নি। 

তবে এর মধ্যেও এক শ্রেণির নজরুলপ্রেমীদের চোখে তিনি সম্মানের শিখরে আছেন শুধু তার রচিত কিছু গজলের জন্য। তৎকালীন সময়ে এই গজলগুলো ছেলেবুড়ো সকলের মুখে মুখেই প্রচলিত ছিলো। এমনই এক গজল রচনার উল্লেখযোগ্য কাহিনী দেওয়া হয়েছে আইনিউজের এই প্রতিবেদনে-

সেসময়কার জনপ্রিয় শিল্পী আব্বাস উদ্দিন একদিন অনেক খোঁজাখুঁজি করে নজরুলকে না পেয়ে সকালে তার বাসায় গেলেন। বাসায় গিয়ে দেখলেন নজরুল গভীর মনোযোগ দিয়ে কী যেন লিখছেন। নজরুল ইশারায় আব্বাস উদ্দিনকে বসতে বললেন। আব্বাস উদ্দিন অনেকক্ষণ বসে থাকার পর জোহরের নামাজের সময় হলে তিনি উসখুস করতে লাগলেন। নজরুল বললেন ‘কি তাড়া আছে, যেতে হবে?’ আব্বাস উদ্দিন বললেন, ‘ঠিক তাড়া নেই, তবে আমার জোহরের নামাজ পড়তে হবে। আর এসেছি একটা ইসলামি গজল নেওয়ার জন্য।’

নামাজ পড়ার কথা শুনে নজরুল তাড়াতাড়ি একটি পরিষ্কার চাদর তার ঘরের আলমারি থেকে বের করে বিছিয়ে দিলেন। জোহরের নামাজ শেষ করার সাথে সাথে নজরুল আব্বাস উদ্দিনের হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই নাও তোমার গজল।’

আব্বাস উদ্দিন বিস্ময়ের সাথে দেখলেন তার নামাজ পড়তে যে সময় লেগেছে ঠিক সেই সময়ের মধ্যে নজরুল সম্পূর্ণ একটি নতুন গজল লিখে ফেলেছেন। সেটিই হলো বিখ্যাত সেই গজল, ‘হে নামাজি আমার ঘরে নামাজ পড় আজ/ দিলাম তোমার চরণ তলে হৃদয় জায়নামাজ...’।

পাঠকদের সুবিধার্তে নজরুলের এই বিখ্যাত গজলটি দেওয়া হলো:

হে নামাজী! আমার ঘরে নামাজ পড় আজ।
দিলাম তোমার চরণ-তলে হৃদয় -জায়নামাজ।
আমি গুনাহগার বে-খবর,
নামাজ পড়ার ন্ই অবসর
(তব) চরণ-ছোঁয়ায় এই পাপীরে কর সরফরাজ।।
তোমার ওজুর পানি মোছ আমার পিরান দিয়ে
আমার এ ঘর হোক মসজিদ তোমার পরশ নিয়ে।
যে শয়তানের ফন্দিতে ভাই,
খোদায় ডাকার সময় না পাই
সেই শয়তান যাক দূরে, শুনে তকবীরের আওয়াজ।।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়