ঢাকা, রোববার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ৪ ১৪২৮

আইনিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ৩০ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ১৩:২২, ৩০ আগস্ট ২০২১

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ আর নেই

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রবিবার  দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। গত ৩১ জুলাই থেকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

চলতি বছরের এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অশীতিপর এই সাহিত্যিক। সেই সময় শহরের একটি হোটেলে থাকেন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়। ৩৩ দিন লড়াইয়ের পর করোনামুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন বুদ্ধদেব। তবে আবার অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও আর বাড়ি ফেরা হলো না তার।

শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার পাশাপাশি বুদ্ধদেবের মূত্রনালীতে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল বলে জানা গেছে। এছাড়া তার লিভার এবং কিডনিতেও সামান্য সমস্যা ছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর ফের কোভিড পরীক্ষা করা হলে তাতে সংক্রমণ ধরা পড়েনি। দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভোগা বুদ্ধদেব বয়সজনিত নানা সমস্যাতেও ভুগছিলেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বুদ্ধদেব গুহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ১৯৩৬ সালের ২৯শে জুন কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন মি. গুহ। তাঁর শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের বরিশাল ও রংপুরে। তাঁর শৈশবের নানা অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তাঁর লেখালেখিতে উঠে আসে। তাঁর লেখা উপন্যাস ও ছোটগল্পগুলো ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

তিনি আনন্দ পুরস্কার-সহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। মাধুকরী ছাড়াও তার পাঠকপ্রিয় উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে 'কোয়েলের কাছে' ও 'সবিনয় নিবেদন'। তাঁর দুটো রচনা 'বাবা হওয়া' এবং 'স্বামী হওয়া'-র ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে পুরস্কারজয়ী বাংলা চলচ্চিত্র 'ডিকশনারি'।

শিশু সাহিত্যিক হিসেবেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল - তাঁর তৈরি জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ঋজু'দা এবং তার সহযোগী রুদ্র। বুদ্ধদেব গুহ পেশায় ছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। এছাড়া ধ্রুপদী সঙ্গীত ও ছবি আঁকায় দক্ষতা ছিল তার।

বর্ষীয়ান সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ বহু কালজয়ী উপন্যাসের স্রষ্টা। তার উল্লেখযোগ্য লেখা— ‘জঙ্গল মহল’, ‘বাবলি’, ‘মাধুকরী’, ‘কোজাগর’, ‘হলুদ বসন্ত’, ‘একটু উষ্ণতার জন্য’, ‘কুমুদিনী’, ‘খেলা যখন’, ‘চানঘরে গান’ সাহিত্যজগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

‘হলুদ বসন্ত’ উপন্যাসের জন্য ১৯৭৬ সালে তিনি পান আনন্দ পুরস্কার। কিশোর সাহিত্যেও তার অবদান অনস্বীকার্য। তার সৃষ্ট ‘ঋজুদা’ বা ‘ঋভু’র মতো চরিত্র আকৃষ্ট করে রেখেছে কয়েক প্রজন্মের বহু কিশোর-কিশোরীর মনকে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়