ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ মে ২০২১,   বৈশাখ ৩০ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:২৬, ৯ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ২১:০৫, ১০ এপ্রিল ২০২১

জান্নাতের ডায়েরি

মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেন আল্লাহ?

আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার বিনিময়ে ২০১৯ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরার সঙ্গে গোপন সম্পর্ককে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্কে রূপ দেন রিসোর্ট কাণ্ডে আলোচিত হেফাজত নেতা মামুনুল হক। জান্নাতের তিনটি ডায়েরি অনুযায়ী তাদের মধ্যে চলতি বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরাসরি বিয়ের তথ্য নেই।

মামুনুল সম্পর্কে জান্নাত লিখেছেন, সাদা-সাদা জামা পড়লেই আর বড় মাওলানা হলেই মানুষ হয়না। মুখোশধারীও হয়। মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেন আল্লাহ?

২০১৮ সালের ১০ই আগস্ট স্বামী খুলনার মাদ্রাসা শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে তালাক দেন জান্নাত আরা। তাদের সংসারে রয়েছে দুইছেলে। বিচ্ছেদের পর বাবার বাড়িতে গেলেও, কিছুদিন পর থেকে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের জিম্মায় জান্নাত আরা।

অবিবাহিতা উল্লেখ করে ৮ মাস ধরে ঢাকার নর্থ সার্কুলার সড়কের এই বাড়ির ৪র্থ তলার একটি কক্ষে সাবলেট থাকতেন জান্নাত।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই বাড়ির মূল ভাড়াটিয়া সালমা খান জানান, মামুনুল হকের সাথে যে মেয়ে ধরা পড়ছে, ওই মেয়েটা আমার বাসায় সাবলেট থাকত। সে পার্লারে জব করতো, পরে পার্লারের জব ছেড়ে দিছে।

জান্নাতের তিনটি ডায়েরিতে ২০১৮র আগস্ট থেকে ২০২১ এর মার্চ অর্থাৎ ত্রিশ মাস ধরে মামুনুল হকের সাথে সম্পর্কের বয়ান রয়েছে পাতায় পাতায়। দেশের একটি বেসরকারি চ্যানেল ডিবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে শহীদুল ও জান্নাতের বড় ছেলে আবদুর রহমান জামি নিশ্চিত করেছে ডায়েরির হাতের লেখা তার মায়েরই।

জামি

মায়ের ডায়েরি পড়ে ক্ষুব্ধ জামি আরও বলে, মা যখন খুলনায় আসে, তখন আমাকে বলে আমার কাছে কিছু ডায়েরি আছে তা তোমার পড়া উচিত। কিন্তু সেটা এখন না, যখন সময় আসবে তখন।

মায়ের বিষয়ে জামি বলে, মা তার জীবনের প্রতিটি মোমেন্ট ডায়েরিতে লিখে গেছেন। আমার মায়ের সাথে মামুনুল কি করেছে সেটা আমার মা নিজেই লিখে দিয়ে নিজে পড়তে বলে গেছেন।

জামি জানায়, ডায়েরির পাতায় জান্নাত লিখে গেছেন তার জীবনের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি মামুনুল।

ডায়েরির সত্যতার বিষয়ে জামি উল্লেখ করে, একজন নারীর বিচ্ছেদ, তার সন্তানের জন্মতারিখ ডায়েরি সেটা তো অন্যকেউ লিখে যাবেনা। সে তার কষ্টের কথা লিখছে। তার পার্সোনাল ডায়েরি তার ঘর থেকেই পাওয়া।

প্রথম ডায়েরির পাতায় জান্নাত লিখেছেন, আমাকে নিয়ে কারও মাথাব্যাথা নেই, শরীরের দাবিদার আছে।

এছাড়াও লিখেছেন, মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেনো আল্লাহ? সব জেনে মামুন সাহেব যা করেছেন, আমি শুধু তার টাকা ফেরত দিতে চাই। আল্লাহ কবুল করো। 

দুজনের সম্পর্ক নিয়ে জান্নাত লিখেছেন, মাস শেষ বাসা ভাড়া, কখনোও খুব বিপদে নক দিলে সাড়া পাই। কিন্তু দেখা মেলেনা।

দ্বিতীয় ডায়েরিতে জান্নাত লিখেছেন, আমাদের সাথে শুধু প্রেম হয়েছিলো। কোনও ভালোবাসা ছিলো না। ছিলো শুধু ক্ষণিকের আবদার পূরণের আমেজ।

অনুশোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন, আল্লাহ আমি কি করবো, কি করলে পাপমুক্ত হবো! আল্লাহ তুমি আমায় মাফ করে দাও, এই লোক আমায় টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে, আমার কিছু করার নাই।

‘মাঝে মাঝে মনে হয় আমি তাকে খুব ঘৃণা করি। আবার কখনোও মনে হয় ভালোবাসি। তবে হ্যাঁ, আমার লাইফটা সে নরক বানিয়ে ফেলেছে।‘

ডায়েরিতে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জান্নাত লিখেছেন, টাকা দিয়ে আমার দেহ কিনেছিলেন। আজ আপনার টাকা আমি ফেরত দিতে চাই। শুধু আমার সময় ফেরত চাই। কেন করেছিলেন এমন? আপনার অনেক টাকা ছিলো, পাওয়ার ছিলো তাই?

কয়েকপাতা পরপরই জান্নাত লিখেছেন, আল্লাহ আমায় ক্ষমা করে দাও।

ডায়রির সত্যতা নিশ্চিত করতে ক্ষুব্ধ জামি বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করে এটা জান্নাত আরার লেখা না, আমি পুরো জাতির সামনে বলতেছি আমি ঢাকা শহরের মাঝখানে মামুনুল হকের পা ধরে মাফ চাইবো। যা শাস্তি দেওয়া হয় মাথা পেতে নিবো। কিন্তু, এটা যদি সত্যি হয়, তাইলে মামুনুল কি করবে সেটা তাকে বলতে হবে।

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়