ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৭ ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০১, ১৮ মে ২০২১
আপডেট: ২৩:৩৮, ১৮ মে ২০২১

রোজিনার বিরুদ্ধে যেসব নথি চুরির অভিযোগ, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে রাখার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মামলা করা হয়।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ‘নির্যাতন করা হয়নি। একই সাথে জানিয়েছেন, রোজিনা ইসলাম টিকা আমদানি সংক্রান্ত এমন কিছু নথি ‘সরিয়েছিলেন’ যেগুলো প্রকাশ হলে দেশের ‘বিরাট ক্ষতি’ হতে পারত।

মঙ্গলবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

জাহিদ মালিক সাংবাদিকদের বলেন, সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে যেটুকু তিনি শুনেছেন, তাতে স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের অনুপস্থিতিতে সোমবার দুপুরে তার কক্ষে ঢুকেছিলেন রোজিনা।

তিনি বলেন, ওখানে যে ডিউটিতে ছিল, সে দেখল যে একজন ব্যক্তি ওখানে ফাইলের ছবি তুলতেছে, ফাইল কিছু বের করে ব্যাগে ঢুকাইছে, শরীরেও ঢুকাইছে। তখন সে চিল্লাচিল্লি করছে, আমাদের মহিলা অফিসাররা আসছে, এসে তারা ধরছে যে ‘আপনি কেন এইসব করছেন?’ তখন তার কাছ থেকে ওই কাগজ আর ফাইলগুলো নিছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে পুলিশে খবর দিছে, পুলিশ কর্মকর্তারা আসছে, তারা এটা টেকওভার করছে। প্লাস মোবাইলটাও নিছে, মোবাইলেও অনেক ছবি পাইছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই জিনিসটা দুঃখজনক। কেননা এই ফাইলগুলো ছিল টিকা সংক্রান্ত। আমরা যে রাশিয়ার সাথে টিকার চুক্তি করছি, চায়নার সাথে টিকার চুক্তি করছি। সেগুলো নন ডিসক্লোজার আইটেম। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বলেছি, আমরা এটা গোপনে রাখব, এগুলো বলব না।

তিনি বলেন, সেইগুলো যদি বাইরে চলে যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলাম এবং আমরা টিকা নাও পেতে পারি। এতে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিরাট ক্ষতি হতে পারে। এগুলো সিক্রেট ডকুমেন্ট, বাইরে যাওয়া ঠিক হয় নাই।

রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে ‘শারীরিকভাবে হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু।

ওই অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, যেটা শুনলাম, তাকে অনেকক্ষণ আটকাইয়ে রাখছে। এটা পুলিশ ছিল… সে নিজেই শুয়ে পড়ছে, বসে পড়ছে। তাকে নিতে পারছিল না। শারীরিকভাবে কোনো নির্যাতন বা আঘাত করা হয়নি। এটা সঠিক নয়।

রোজিনা ইসলাম ওই অফিস থেকে কোনো নথি সরানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর তার সহকর্মীরা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করায় এখন ‘অন্যায়ের’ শিকার হচ্ছেন এই সাংবাদিক।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির রিপোর্টিংয়ের জন্য তো আজকের ঘটনা না। ওটা ওখানের ঘটনার, এর উপরই পরবর্তী ঘটনা ঘটতেছে।

তিনি বলেন, সিনিয়র অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ও ডেপুটি সেক্রেটারি লেভেলের দুইজন ছিল, প্রাথমিকভাবে তারাই ডিল করছে। পরে যখন রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয় আসছে, তখন তারা পুলিশ ডেকেছে।

বর্তমান সরকার যেখানে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করার নিয়ম করেছে, সেখানে রোজিনার বিরুদ্ধে কেন ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলা দেওয়া হল- সেই প্রশ্ন রেখেছিলেন একজন সাংবাদিক।

উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি তো আইনজ্ঞ না। আইনের বিষয়ে কিছু বলব না।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৭ মে) সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। 

পুলিশ জানায়, সোমবার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিবের কক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে এবং শরীরে লুকিয়ে নথিপত্রের তথ্য চুরি অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় মামলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আইনিউজ/এসডিপি

সংশ্লিষ্ট খবর

সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে সাংবাদিককে থানায় হস্তান্তর

অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন

অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন নাকচ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করলেন সাংবাদিকরা

‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে’

সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তা: ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

সাংবাদিক রোজিনাকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ

সাংবাদিক রোজিনার জামিন না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যের ব্রিফিং বর্জন

‘সাংবাদিককে হেনস্তা করে দেশের ভাবমূর্তি অনেক বেশি ক্ষুণ্ন হয়েছে’

সাংবাদিক রোজিনাকে হেনস্তার প্রতিবাদে ১১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়