ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩০ নভেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ১৫ ১৪২৮

সীমান্ত দাস, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৫৭, ২১ অক্টোবর ২০২১
আপডেট: ১২:২৯, ২১ অক্টোবর ২০২১

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা এই ইকবালের পরিচয় কী?

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা সেই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এখন তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তার নাম ইকবাল হোসেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কে এই ইকবাল?

জানা যায়, কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্কর পুকুর এলাকার নূর আহমদ আলমের ছেলে ইকবাল। তার বাবা মাছের ব্যবসা করেন। পুলিশের একাধিক সংস্থার তদন্তে এবং সিটিটিভির ফুটেজ দেখে ইকবালকে শনাক্ত করা হয়।

ইকবালের মা বিবি আমেনা বেগম জানান, তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। ইকবাল সবার বড়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই মাদক সেবন শুরু করে। ১০ বছর আগে বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করেছেন ইকবাল। তার এক ছেলে। বিয়ের পাঁচ বছর পর স্ত্রীর সঙ্গে ইকবালের ডিভোর্স হয়। তারপর চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে বিয়ে করেন। এই সংসারে এক ছেলে এক মেয়ে। ইকবালের স্ত্রী-সন্তান এখন কাদৈর গ্রামে থাকেন।

ইকবাল যে মাদকসেবী, তার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় অনেকেই। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ সোহেল বলেন, ১০ বছর ধরে ইকবালকে চিনি। প্রায় সময় আমার কার্যালয়ের আশপাশেই থাকে। রঙমিস্ত্রির কাজ করতো। মাঝে মধ্যে নির্মাণ শ্রমিকের কাজও করতো। ইয়াবা সেবন করে। 

ইকবাল হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র

তিনি আরও বলেন, ইকবালকে নিয়ে অনেকেই অভিযোগ দিতো। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়। কোনও দলের কর্মী কিংবা সমর্থকও নয়। কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। আমার মনে হয়, তার মানসিক অসুস্থতাকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষ কাজটি করেছে। পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ঘৃণা প্রকাশ করছে। তবে ওই ঘটনার পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে ইকবাল হোসেন নামের এক যুবককে। ইকবালের সহযোগী হিসেবে অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, ইকবাল গ্রেপ্তার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত...

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ আইনিউজকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যে ব্যক্তি কোরআন রেখেছে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে পুলিশ।

রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে কোনো একসময়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

এতে দেখা যায়, কোরআন শরিফটি রাখার পর হনুমানের মূর্তির গদা কাঁধে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন প্রধান অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি রাত তখন সোয়া ৩টার মতো।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ

গত ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়াদিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া যায়। এরপরই দেশের কয়েক স্থানে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ জন নিহত হয়।

পরদিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হিন্দুদের মন্দির, মণ্ডপ ও দোকানপাটে হামলা–ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে হামলায় দুই জন নিহত হন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু বসতিতে হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এরইমধ্যে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আইনিউজ/এসডি

মহানবীর ব্যঙ্গচিত্র আঁকা সেই কার্টুনিস্ট মারা গেলেন যেভাবে

মৌলভীবাজারে ধরা পড়েছে ভার্চুয়াল জগতের এক সক্রিয় জঙ্গি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়