ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬,   বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১২:০০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
আপডেট: ১৩:০৫, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

কৃষিশ্রমিক ১০ হাজার হাঁস!

পরিবেশগত যেকোনো দূষণই ক্ষতিকর। আবার দূষণরোধে রাসায়নিকের ব্যবহারও সমান হুমকির।  এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম ব্যাংককের নাখোন প্যাথম এলাকায় প্রায় ১০ হাজার হাঁসের একটি পাল দিয়ে জমি পরিষ্কার করছেন এক কৃষক। ব্রিটিশ জাতের বাদামি রঙের হাঁসগুলোর ঠোঁটে বিশেষ এক ধরনের গুণ রয়েছে। ঠোঁট দিয়ে মাটির গর্ত থেকে পচে যাওয়া খড়গুলো নিমিষেই পরিষ্কার করতে সক্ষম তারা। সেই সঙ্গে রয়েছে নখেরও ভালো কর্মদক্ষতা। ঠোঁট ও নখ দিয়ে লাগাতার পরিষ্কার করতে পারে ক্ষতিকর বিভিন্ন কীট ও পোকামাকড়। মাত্র ২০ দিন বয়স থেকেই মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয় হাঁসগুলো। ডিম দেওয়ার উপযোগী হিসেবে বিবেচনার ঠিক পাঁচ মাস আগপর্যন্ত তারা চাষাবাদের কাজ করে।

জানা গেছে, নাখোম প্যাথনের কৃষকদের বহুদিন আগের রেওয়াজ এটি। এর মাধ্যমে জমির ক্ষতিকর জীবাণু ও পোকামাকড় ধ্বংস করে থাকেন তারা। এতে করে পরিত্যক্ত জমিটি পুনর্ব্যবহারে বাড়তি খরচের দরকার হয় না। দরকার হয় না কোনো রাসায়নিক বা জীবাণুনাশকেরও। এতে করে দুই ধরনের লাভই হয় কৃষকের। একদিকে যেমন হাঁসগুলোর আহারের ব্যবস্থা হয় অন্যদিকে জমিগুলোও পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়। তাছাড়া হাঁসগুলো একসঙ্গে হাঁটায় হালচাষের কাজটাও সহজ হয়ে যায়।

আপিওয়াত চালার্মক্লিন নামে স্থানীয় এক কৃষক জানান, হাঁসের খামারটির মালিকানা তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে বাবার থেকে পেয়েছেন। পরিত্যক্ত জমিগুলোতে হাঁস পালন করে প্রতি বছরই বেশ লাভবান হচ্ছেন তিনি। জমি থেকে পর্যাপ্ত আহার গ্রহণের পর একদিকে হাঁসগুলো যেমন ডিম দেওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে অন্যদিকে জমিতে ফসল ফলানোর খরচও অনেক কম হয়। তিনি আরও জানান, খামারে তিনটি হাঁসের পাল রয়েছে। একেকটি পাল সপ্তাহে প্রায় ৭০ হেক্টর জমি পরিষ্কার করতে পারে। মাঝেমধ্যে অন্যের জমি পরিষ্কারেও হাঁসগুলো ব্যবহার করেন আপিওয়াত চালার্মক্লিন। বছরে তিনবার চাষের সুযোগ পান থাইল্যান্ডের কৃষকরা। খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায়ই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে জমি। ফলে ফসল কাটার পর দ্রুত জমিগুলো প্রস্তুত করে তুলতে হয়। হাঁসের পাল ব্যবহার করে জমিগুলো দ্রুত প্রস্তুতের পাশাপাশি ব্যয় সংকুলানে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়