ঢাকা, শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

হেলাল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৫:৪৪, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১
আপডেট: ১৬:০২, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে প্রকৃতির মেছো বিড়াল

ছবি: রণজিৎ জনি

ছবি: রণজিৎ জনি

মেছো বিড়ালকে মেছো বিড়াল নামের চাইতে ‘মেছো বাঘ’ বলেই চেনেন বেশিরভাগ মানুষ। আর এই ‘মেছো বাঘ’ বলার কারণেই আজ বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীদের তালিকায় যোগ হয়েছে মেছো বিড়ালের নাম। অথচ প্রাণীটি জলাভূমির মাছ, ব্যাঙ, কাঁকড়া ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকদের উপকার করে।

মেছো বিড়ালকে আঞ্চলিকভাবে ‘মেছো বাঘ’ নামে ডাকলেও এর প্রকৃত নাম মেছো বিড়াল। মেছো বাঘ নামে ডাকার কারণে এটি জনসাধারণের কাছে শুধু শুধু হিংস্র প্রাণী হিসেবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো মেছো বিড়াল মানুষকে আক্রমণ করে না। মানুষ দেখলে ভয়ে পালিয়ে যায়।

তবে এর খাদ্য আর মানুষের খাদ্য প্রায় এক বলে প্রায়শই এটি মানুষের পাশাপাশি অবস্থানে চলে আসে। এর জন্য সাধারণ মানুষও মিথ্যা আতঙ্কে ‘মেছো বিড়াল’ হত্যা করেন। ফলে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে মেছো বিড়াল। মেছো বিড়ালকে এখন আর হাওরবেষ্টিত অঞ্চলে খুঁজে পাওয়া যায় না।

বাংলাদেশের হাওড়-বাওড় ও জলাভূমিপূর্ণ এলাকায় আগে মেছো বাঘ দেখা গেলেও এখন আর দেখা মিলে না। মৌলভীবাজারের বাইক্কার বিলের জঙ্গলেও আগে প্রায়শ মেছো বাঘ দেখা যেতো। কিন্তু এখন বাইক্কা বিলে সহজে দেখা যায় না মেছো বিড়াল।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী- ফাঁদ পেতে মেছো বিড়াল শিকার, হত্যা, পাচার কিংবা ক্রয়-বিক্রয় করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদন্ড অথবা ১ লাখ টাকা জরিমানার শাস্তির বিধান রয়েছে।

বন্যপ্রাণী গবেষকরা মেছো বিড়ালের অস্তিত্ব ধ্বংসের পেছনে দুইটি কারণের কথা বলছেন। এর একটি মেছো বিড়ালের খাদ্য আর মানুষের খাদ্য প্রায় এক। মেছো বিড়াল মাছ খায় বলে অনেকেই এটি মাছ খেয়ে শেষ করে ফেলছে এই ভাবনা থেকে প্রাণীটিকে হত্যা করেন।

দ্বিতীয় কারণটি হলো মেছো বিড়ালকে ঘিরে ছড়ানো মিথ্যা আতঙ্ক। প্রায় অঞ্চলেই মেছো বিড়ালকে ‘মেছো বাঘ’ বলা হয়ে থাকে। পেছনে বাঘ নামটি থাকায় অনেকেই এটিকে বাঘের মতোন হিংস্র ভেবে পিটিয়ে হত্যা করেন।

বন্যপ্রাণী গবেষকদের মতে, মেছো বিড়াল সম্পর্কে আগে মানুষকে সচেতন করতে হবে। মেছো বাঘ মানুষকে আক্রমণ করে না বরং দেখলে ভয়ে পালিয়ে যায়। একইসাথে মেছো বাঘ রক্ষায় পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্ব দিবে।

আইনিউজ/এইচএ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়