ঢাকা, শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:৩৩, ৩ এপ্রিল ২০২১
আপডেট: ২২:৩৪, ৩ এপ্রিল ২০২১

শ্রীমঙ্গলের হরিণ রহস্য: বনে অবমুক্ত নাকি কারও ভোজে?

উদ্ধারকরা হরিণ

উদ্ধারকরা হরিণ

শ্রীমঙ্গলে একটি হরিণ নিয়ে নানা রহস্য দানা বাঁধছে। হরিণটির অবস্থান পরিষ্কার না হওয়াতে প্রশ্ন উঠেছে এর উদ্ধার পরবর্তী অবমুক্ত করা নিয়ে।

হরিণটির ব্যাপারে বন বিভাগকে অপেক্ষায় রেখে ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতির উপস্থিতিতে অবমুক্তের দাবি করছে উদ্ধারকারী পক্ষ। তবে বনবিভাগ বলছে তাদেরকে বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে লুকিয়ে অবমুক্ত করার মধ্যে রহস্য থাকতে পারে এবং এভাবে অবমুক্ত করা আইনবিরোধী। অন্যদিকে অবমুক্ত করার দাবি করলেও নেই কোন ছবি বা ভিডিও ।

জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের টি মিউজিয়াম রিসোর্টের পাশে পড়ে থাকতে দেখে একটি হরিণকে স্থানীয় কয়েকজন দেখতে পেয়ে সেটিকে উদ্ধার করে পশু হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় শুক্রবার সন্ধ্যায়।

পশু হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. কর্ণ চন্দ্র মল্লিক জানান, হরিণের গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। যারা হরিণটি নিয়ে এসেছিল তারা সংখ্যায় ৮/৯ জন ছিল। তারা আমাকে জানিয়েছে টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়ামের পাশে হরিণটি আহত হয়ে পরেছিল। আমি চিকিৎসা শেষ করে বন বিভাগকে ফোন দিলে উদ্ধারকারী ছেলেরা তাড়াহুড়ো করে দ্রুত হরিণটি নিয়ে সিএনজি যোগে চলে যায়। এরপর আর কি ঘটেছে জানি না।

এদিকে বনবিভাগের স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আসতে আসতে একটু দেরি হয়। টি মিউজিয়াম রিসোর্টে পৌঁছে তাদেরকে ফোন দিলে তারা জানায় যে হরিণটি অবমুক্ত করার জন্য নিয়ে আসছে। কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে যখন আবার যোগাযোগ করি তখন একটা ছেলে একা আসে। তখন সম্ভবত সাড়ে আটটা বাজে। সে জানায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মসুদের উপস্থিতিতে হরিণটি অবমুক্ত করা হয়েছে। পরে আমার অফিসে ছাত্রলীগের সভাপতি এসে লিখিত দেন যে, তার উপস্থিতিতে হরিণটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

তবে যারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল এবং হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়েছিল তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে- একজনের নাম সাগর অন্যজন আলাল।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি মসুদুর রহমান মসুদ জানান, রাত তখন ৯টা বাজে আমি এই রাস্তা দিয়ে ফিরছিলাম হঠাৎ দেখি দুইটা ছেলে কি একটা যেন ছেড়েছে । আমি কাছে এসে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাকে বলে হরিণ অবমুক্ত করেছি। তখন তাদেরকে আমি প্রশ্ন করি বন বিভাগকে না দিয়ে নিজেরা কেন অবমুক্ত করল। তারা বলে ভয়ে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। এরপর রাতে বন বিভাগ যোগাযোগ করলে তাদেরকে জানাই যে তারা অবমুক্ত করেছে। তখন বন বিভাগ লিখিত চাইলে লিখিত দিই। এর ভেতরে কি হয়েছে না হয়েছে আমি আর কিচ্ছু জানি না।

হাসপাতালের চিকিৎসকের বক্তব্য- হরিণটি নিয়ে যাওয়ার সময় তারা ৮/৯ জন ছিল কিন্তু ছাত্রলীগের স্থানীয় সভাপতি হরিণ অবমুক্ত করার সময় দুজনকে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। এছাড়া হরিণটি অবমুক্ত করার সময়ের দাবি নিয়েও গরমিল পাওয়া যায়। হাসপাতাল থেকে তাড়াহুড়ো করে বন বিভাগের লোকজন আসার আগেই হরিণ নিয়ে চলে যাওয়া এবং অবমুক্ত করা নিয়ে অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- হরিণটি অবমুক্ত করা হয়েছে নাকি কারও ভোজে চলে গেছে?

আইনিউজ/রিপন দে/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়