ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮

জাহাঙ্গীর জয়েস

প্রকাশিত: ১৩:২৪, ১২ অক্টোবর ২০২১
আপডেট: ১৪:০৮, ১২ অক্টোবর ২০২১

চোখ খুলে তাকান, হৃদয় দিয়ে দেখুন

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতীকী ছবি, ইনসেটে লেখক।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতীকী ছবি, ইনসেটে লেখক।

বিশ্বনেতা বা দেশ-নেতাদের হৃদয় গলবে? বন্ধ হবে কী পাহাড় জঙ্গল ধ্বংস করা? আন্তর্জাতিক আইনকানুনকে অমান্য করে নদীতে বাঁধ নির্মাণ? সাগরে, মরুভূমিতে অস্ত্র পরীক্ষা? যুদ্ধ? 

'...নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা'- বিশ্বকবির দেখা এই রূপ কী শেষ পর্যন্ত শুধু বইয়ের পাতায়ই থাকবে, বাস্তবে নয়?

১৮ আশ্বিন (৩ অক্টোবর ২০২১) শেষ বিকেল। কালো আকাশ। বিজলি চমকাচ্ছে। প্রচণ্ড শব্দে মেঘ ডাকছে। বৃষ্টি হচ্ছে। বুঝার উপায় নেই বর্ষা না বৈশাখ। অথচ শরৎকাল। তার আগের দিন ১৭ আশ্বিন ১৪২৮ (২ অক্টোবর ২০২১) শেষ রাতে এরচেয়েও ভয় ধরানো অবস্থা ছিলো। এই শরতে কয়েকজন লোক মারা গেছেন বজ্রপাতে। এ ব্যাপারে মুরব্বিদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বলেন, আশ্বিন মাসে এরকম এর পূর্বে ঘটেছে বলে তাঁদের মনে পড়ে না।

২৮ সেপ্টেম্বর বজ্রপাতে মারা গেছেন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নালুয়া চা বাগানের বড় বাবু মুন্ডা নামের এক কিশোর। (আজকের পত্রিকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১)। ২ অক্টোবর, শনিবার সকালে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন হায়াতুন মিয়া। তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটা হাওরে মাছ ধরছিলেন। ( প্রথম আলো, ৩ অক্টোবর ২০২১)

একই দিনের প্রথম আলোতে আরেকটি সংবাদ আছে, ১ অক্টোবর, শুক্রবার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু বিপর্যয় ঠেকাতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।

দুই মহাদেশের দুই দেশের এই বজ্রপাত এবং বিক্ষোভের কারণ কিন্তু একই। সেটা হলো বহুল আলোচিত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বছরের পর বছর, দশকের পর দশক ধরে যতো আলোচনা হচ্ছে, সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে যা পত্র পত্রিকা, বই পড়ুয়া লোকজন জানতেন তা এখন সাধারণ মানুষও দেখতে পাচ্ছেন। দ্রুত বাড়ছে বন্যা, ভূমিকম্প, ঘুর্ণিঝড়, ধূলো ঝড়, খরা, অতি বৃষ্টি, দাবদাহসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যেখানে বৃষ্টি হতো না সেখানে বন্যা হচ্ছে। দেশের এক প্রান্তে ঠাণ্ডা অন্যপ্রান্ত দাবদাহে পুড়ে যাচ্ছে। বিশ্বের শীর্ষ শীত প্রধান দেশের একটি, সবচেয়ে বেশি বরফ পড়ে এমন একটা দেশ, যেখানে প্রায়ই তুষার ঝড় হয়ে থাকে সেখানে ৫ দিনের গরমে ৫শর ওপর মানুষ মরে গেলো! গত ২৯ মে সিলেটে এক দিনে ৬ বার ভূমিকম্প হয়েছে। তার আগে পিছে প্রায়ই ওই শহরে ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে। যারা এসব বিষয় নিয়ে ভাবেন তারা জানেন, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি সম্পর্কে কিন্তু কার্যত আনন্দিত হওয়ার মতো কোনো সুসংবাদ নেই। তাপমাত্রা কমানোর যে প্রতিশ্রুতি আসে তা শেষ পর্যন্ত অধিকাংশই মানেন না। এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসেন। যদিও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবারো চুক্তিতে ফিরেছেন। 

বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম সায়েন্স টাইমসের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে এই শতকের (২১০০) মধ্যেই পৃথিবীর ক্ষয়টি মারাত্মকভাবে দেখা দেবে। জাতিসংঘের বিজ্ঞানীরাও বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের বসবাসযোগ্য এই পৃথিবী আগামী চারশো বছরের মধ্যে হয়ে যাবে বসবাস অনুপযোগী একটি অচিন গ্রহ। (আজকের পত্রিকা, ৩০ সেপ্টেম্বর) 

এসব প্রতিবেদন এবং হুশিয়ারিতে কী বিশ্বনেতা বা দেশ-নেতাদের হৃদয় গলবে? বন্ধ হবে কী পাহাড় জঙ্গল ধ্বংস করা? আন্তর্জাতিক আইনকানুনকে অমান্য করে নদীতে বাঁধ নির্মাণ? সাগরে, মরুভূমিতে অস্ত্র পরীক্ষা? যুদ্ধ? 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন আমাজানে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ আছে। বায়ু দূষণে বছরে মারা যাচ্ছে ৭ লাখের বেশি মানুষ! পৃথিবীর ফুসফুস প্রশান্তমহাসাগরও কী দূষিত হচ্ছে না? ভোগ আর ক্ষমতার দাপটে কী হেরেই যাবে গ্রেটা থানবার্গরা? সত্যিই চুরি হয়ে যাবে অনাগত সময়?

জাহাঙ্গীর জয়েস, কবি ও লেখক

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়