ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২,   মাঘ ১৩ ১৪২৮

রিপন দে

প্রকাশিত: ১৫:৩১, ২০ ডিসেম্বর ২০২১
আপডেট: ১৫:৩২, ২০ ডিসেম্বর ২০২১

পর্যটকে বিপর্যস্ত লাউয়াছড়ায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আসছে

বিজয় দিবসের সঙ্গে সাপ্তাহিক দুই দিন মিলিয়ে টানা তিন দিনের ছুটিতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করেন প্রায় ৭ হাজার পর্যটক। এই তিন দিন শতশত যানবাহনের কারণে একটু পর জ্যাম লেগেছে লাউয়াছড়ার ভেতর দিয়ে চলা সড়ক পথে সাথে ছিল উচ্চ স্বরের সাউন্ড। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশবাদীদের দাবি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। ছোট এই বনের জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। মাত্র তিন দিনে ৭ হাজার পর্যটকের প্রবেশ আবার ভাবিয়েছে গবেষকদের। জোরালো হচ্ছে তাদের দাবি। এ দিকে বনবিভাগ বলছে তারাও পর্যটক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কাজ করছেন। খুব দ্রুত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যে কেউ চাইলেই প্রবেশ করতে পারবে না। অনলাইনে রেজিস্টেশনের মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক পর্যটক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকার ১৯৯৬ সালে ১ হাজার ২৫০ হেক্টরের চিরহরিৎ ও মিশ্র চিরহরিৎ লাউয়াছড়া বনটি জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। এই বনে উল্লুক, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, বনমোরগ, বনরুই, মায়া হরিণ, মেছো বাঘ, বন্য শূকর, অজগরসহ অনেক প্রজাতির বিরল, বিপন্ন ও বিপন্ন প্রায় প্রাণী আছে। এখানে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রকারের উভচর প্রাণী, ৬ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। উদ্ভিদ ও প্রাণীবৈচিত্র্যে ভরপুর এ বনের ভেতর পর্যটকরা আসতে শুরু করেন প্রকৃতি ও প্রাণীদের জীবন উপভোগ করতে কিন্তু দিনে দিনে এটি একটি সাধারণ পর্যটকস্থানের রুপ নিয়েছে। অসচেতন পর্যটক বনের ভেতরে ঢুকে প্লাস্টিকের আবর্জনা ফেলেন। চিৎকার চেচামেচি করেন। বন্যপ্রাণীদের ঢিল ছুড়েন। তার উপর লাউয়াছড়ার প্রধান যে ফটক মুলত সেদিক দিয়েই পর্যটকরা প্রবেশ করেন এবং এই রাস্তা দিয়ে ভেতরে গিয়ে রেললাইনের পাশে একই জায়গায় জটলা করে চিল্লাচিল্লি করেন যা প্রাণীদের বিরক্ত করে। অনেকে আবার গাড়িতে উচ্চ স্বরে স্পিকার বাজিয়ে লাউয়াছড়ার সড়কে ঘুরেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন গবেষকরা। 

আরও পড়ুন- ৩ দিনে লাউয়াছড়ায় ৬ হাজার পর্যটকের আগমন, রাজস্ব আয় প্রায় ৩ লাখ

বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞ ও জাবির প্রানীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান জানান, উচ্ছ্বসরের শব্দ প্রানীদের আতংকিত করে।তাদের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে। দুপুর বেলা বেশিরভাগ প্রাণী বিশ্রামে থাকে সেই সময়ে শব্দ করলে তাদের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয় ফলে তাদের সব কিছুতেই এর প্রভাব পরে।

এই দিকে বনের ভেতর প্লাস্টিক ও নানা আবর্জনার বিরক্ত আরেক গবেষক হাসান আল রাজি চয়ন। তিনি জানান, গবেষণার কাজে প্রায়ই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যাওযা হয় কিন্তু যখন দেখি পর্যটকরা ময়লা ফেলছেন চিতকার করছেন তখন খুব খারাপ লাগে। লাউয়াছড়া বন্যপ্রানীদের ঘর তাদের ঘরে তাদেরকে নিরাপদে থাকতে দিতে হবে তাই পর্যটক নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। পর্যটকদের ধারণা নেই একটি কৃত্রিম পার্ক আর সংরক্ষিত বনের তফাৎটা কি? তারা একই আচরণ করেন সব জায়গায় তাই লাউয়াছড়ার দ্রুত পর্যটক নিয়ন্ত্রণ করা হউক। একইসাথে তিনি বন বিভাগকে একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিটের বিষয়ে ভেবে দেখার কথা বলেছেন। এতে করে বনের ভেতরে ডাস্টবিনে ফেলা বর্জ্যগুলো বন থেকে দূরে কোথাও নষ্ট করে ফেলা যাবে।

আরও পড়ুন-  লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়

বাংলাদেশের মাংসাশী প্রাণীর গবেষক ও ঢাবির প্রভাষক মুনতাসির আকাশ জানান, বাঘ ও চিতা বাঘ না থাকলেও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে নানা রকম মাংশাসী প্রানী আছে । এর মাঝে চিতা বিড়াল, মেছো বিড়াল, সোনালি বিড়াল অন্যতম। ছোট এই বনে হাজার হাজার পর্যটক বনের পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেখানে পর্যটকদের নীরবে প্রকৃত উপভোগ করার কথা সেখানে এত উচ্চস্বরে হই-হুল্লোড় প্রাণীদের অসুবিধার সৃষ্টি করে। অতি দ্রুত পর্যটকদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। সেই সাথে পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন বিকাশে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

 গবেষকদের দাবির পক্ষে বনবিভাগও । তারা জানিয়েছেন দ্রুত তারা পর্যটক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন ।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, আমার গবেষক ও পরিবেশবাদীদের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্ব দিয়ে ভাবছি। বেশি চিল্লাচিল্লিতে প্রাণীরা মানসিক অস্থিরতায় ভুগে সেটা আমরা জানি। তাই একটি প্রাথমিক পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি। প্রতিদিন এক হাজারের বেশি পর্যটক লাউয়াছড়ায় ঢুকতে পারবে না। অনলাইনে রেজিস্টেশন করে আসতে হবে। তবে স্থানীয়দের কথা বিবেচনা করে কিছু টিকেট কাউন্টারে রাখা হবে যেনো উপস্থিত টাইমে টিকেট কেটে ঢুকতে পারেন। হয়তো এমন হতে পারে ৫০০ থাকল অনলাইনে আর ৫০০ সরাসরি মুল ফটকে। এখন এই পরিকল্পনা মন্ত্রালয়ে পাঠানো হবে । উপর মহল যাচাই বাচাই করে দেখবেন এবং তা গ্রহণযোগ্য মনে হলে তবেই এটা বাস্তবায়ন হবে ।

আইনিউজ ভিডিও 

হাতির আক্রমণে হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু 

মানুষ হত্যা করেছে মা হাতিকে, দুধের জন্য কাঁদছে বাচ্চা হাতিটি

লাউয়াছড়ায় ক্ষিপ্রগতির সাপখেকো শঙ্খিনী সাপ

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়