ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

মো. পিয়ারা মিয়া

প্রকাশিত: ২০:৫০, ১০ ডিসেম্বর ২০২১
আপডেট: ২০:৫১, ১০ ডিসেম্বর ২০২১

মুক্তিযোদ্ধা পিয়ারা মিয়ার লেখা ‘আমার মুক্তিযুদ্ধ’

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা। সংগৃহীত ছবি

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা। সংগৃহীত ছবি

১৯৪৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ছাতক বাজারের বাগবাড়িতে আমার জন্ম। লেখাপড়া শুরু করি বর্তমান বাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে ছাতক হাই স্কুলে ভর্তি হই। ১৯৬০ সালে অষ্টম শ্রেণি পড়াকালে স্কুল বাদ দেই। চার বছর পর ১৯৬৫ সালে আবার ক্লাস এইটে ভর্তি হই; কিন্তু দশম শ্রেণিতে টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে শিক্ষাজীবনের ইতি টানি। তখন থেকে রাজনীতি আমাকে টানতে থাকে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করি।

১৯৭১ সালে মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ রেডিওতে শুনে উৎসাহিত হয়ে মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেই। তখন ছাতক সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় যেখানে আমি যোগদান করি।

২৭শে মার্চে ছাতকে তৎকালীন ইপিআর ও ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর নিকট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তাদের কাছে বন্দুক চালনা শিখি। পরবর্তী সমময় ভারতীয় ক্যাপ্টেন চ্যাটার্জি বাবুর পরবর্তী নির্দেশে আমরা ৭দিন পাথরঘাটা বি.এস.এফ ক্যাম্পে এক্সপ্লোসিভ প্রশিক্ষণ নেই। 

মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন অপারেশন

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়ার পর ছাতক প্রায় মাসখানের জনপ্রতিনিধির নির্দেশে কাজ চলে। ছাতক তখন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং শিল্পাঞ্চল হিসেবে খ্যাত। যুদ্ধের শুরুতে ছাতক কাগজের মণ্ড কারখানা ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরির বাঙিালি শ্রমিকরা স্বাধীনতার পক্ষে যোগ দেয়। তখন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা মানিক মিয়া অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। শতশত মানুষ রাস্তায় নেমে পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান দিতে থাকে আর স্বাধীনতার জন্য মিছিল করে। ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে তখন চারদিক ভাসতে থাকে। জননেতা আব্দুল হক এমএলএ, মদরিছ আলী বিএ, হেমেন্দ্র দাশ পুরকায়স্থ প্রমুখ নেতৃত্বে থাকতেন।

তৎকালীন সুনামগঞ্জের ছাতক থানা ২৬ মার্চ থেকে পরবর্তী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্ত রাখা সম্ভব হয়। তখন একমাস পালাক্রমে রাস্তায় টহল চলে। এই একমাস গেরিলা কায়দায় ট্রেনিংও চলেছিল। সিলেট থেকে পাক সেনাদের অত্যাচার, নির্যাতন এবং মানুষ হত্যার খবর আসতে থাকে। আমরা দুঃচিন্তায় পড়ি। ছাতকে বড় ব্যারিকেড দেওয়ার চেষ্টা চলে। কারণ ছাতক-গোবিন্দ দিয়ে পাক সেনারা সুনামগঞ্জ পৌছানোর খবর পাওয়া যায়। এই পথ ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। বুঝা যাচ্ছে পাকদের প্রবল আক্রমণে ধেয়ে আসবে।

আমি এবং আমার সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দীন বুলি, আব্দুল কবির, স্বরাজকুমার দাস, শ্যামসুন্দর রায়, আমিনুল ইমলাম ও দোলন সহ ১৫/১৬ জন যুবক পাকহানাদর বাহিনীকে প্রতিহত করতে লামাকাজি ফেরিঘাটে অবস্থান নেই। পাকহানাদার বাহিনী যাতে নদী পার হয়ে না আসতে পারে সে লক্ষ্যে লামাকাজির নদী পারাপারের ২টি ফেরী আমরা ডুবিয়ে দেই। আবার  দুইদিন পরে আমরা লামাকাজি ফেরিঘাট দেখতে যাই। তখন পাক সেনাদের সাথে আমাদের গুলি বিনিময় হয়। তারা তখন ফেরি ডুবানো দেখে আসতে না পেরে ওপারে পজিশন নিয়ে জড়ো হয়। ২৭শে এপ্রিল ছাতকের লালপুরের কাঠের নির্মিত ব্রিজের পাটাতন পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দেই।

আমরা বুঝতে পারি পাক সেনারা শক্তি বৃদ্ধি করেছে এবং আসবে। ২৮শে এপ্রিল পাক বাহিনী দালালদের সহায়তায় জলপথ, সড়কপথ ও রেলপথ ধরে অগ্রসর হয়ে ছাতক আক্রমণ করে। আমাদের হাতে ভারী অস্ত্র ছিল না। আমি ও আমার সাথী যোদ্ধারা ছাতক রেল স্টেশনে পজিশন নিয়ে যুদ্ধ করি। পাক সেনারা চারদিকে আগুন ধরায়। তাদের মুহুর্মুহু গুলিতে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় আমাদের পক্ষের একজন ইপিআর’ নায়েক শহীদ হয়েছিলেন। আমরা পাকিস্তানী সৈন্যদের শক্তির কাছে টিকে থাকতে পারিনি। যুদ্ধের এক ফাঁকে আমরা নদী পার হয়ে যে যার যার মতো করে পায়ে হেঁটে যাত্র শুরু করি। 

অতঃপর আমি ও আব্দুল কবির একসাথে পায়ে হেঁটে বাউসা গ্রামের আব্দুন নূরের বাড়িতে রাত্রিযাপন করি। ভোরে সুরমা নদী পার হয়ে চেলা সীমান্তে পৌঁছলে বি.এস.এফ এর বাঁধার মুখে সীমান্ত পাড়ি দিতে পারিনি। সন্ধ্যার দিকে কোন উপায় না পেয়ে কুমিল্লারপাড়া নামক গ্রামে রাত্রি যাপন করি। ভোরে মেঘালয় রাজ্যের ভোলাগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি এবং সন্ধ্যার দিকে সেখানে পৌঁছি। সেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষারত সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হাজী মদরিছ আলী বিএ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং কমরেড মানিক মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে দেখা হয়। পরদিন ১লা মে আমাদের কমিটি ও ভোলগঞ্জের স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি নেতৃবৃন্দের সম্মতিক্রমে ভোলাগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমাদের প্রথম ক্যাম্প স্থাপিত হয় এবং সাথি যোদ্ধা নিজাম উদ্দীন বুলি ও সেদিন আমাদের  সঙ্গে যোগদান করেন। তখন থেকে আমরা সবাই স্কুলে  একসাথে অবস্থান করি। সে সময় পাকহানাদার বাহিনীর নারকীয় হত্যাকাণ্ড চললেও তখন আনুষ্ঠানিক মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং শুরু হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কনভেনার এম.এন.এ আব্দুল হকের নির্দেশে মুক্ত এলাকায় আমরা মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহে করি। পরে আমরাও যুদ্ধের চেলা-পাথরঘাটে ট্রনিং গ্রহণ করি। ট্রেনিং শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের ৬ জনের প্রথম ব্যাচ ভোলাগঞ্জে আসে। তারপর হতে দফায় দফায় ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা আসতে থাকে।

কোম্পানী কমান্ডার ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে মোট ২৫ জন যোদ্ধা তেলিখালে প্রথম অপারেশন করতে তেলিখাল অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। এই দলে আমি ছিলাম। রাত প্রায় সাড়ে দশটার দিকে আমরা নদীর পশ্চিম হয়ে পাক বাহিনীর উপর আক্রমণ শুরু করি। উভয়পক্ষের গোলাগুলির সময় এক পর্যায়ে টু ইি মর্টার মিস ফায়ার হয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা তালুকদার ঘটনাস্থলেই শহীদ হন এবং আমির হোসেন, এমদাদ, মুশফিক চৌধুরী, আকরাম হোসেন ও মির্জা সহযোদ্ধা গুরুতর আহত হন।

জুনের মাঝামাঝি সময়ে বি.এস.এফ মারফত খবর পেয়ে ও মুজিবনগর সরকারের নির্দেশে কালাসাধক পাকিস্তানী ভিওপি ক্যাম্প জ্বালিয়ে দেই এবং ঘটনার ৫দিন পর কালাসাধক ভিওপি ক্যাম্পের বাংকার ভেঙ্গে ফেলি এবং ২ বস্তা  এক্সপ্লোসিভ পাথরঘাটা ক্যাম্প থেকে নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার নুরুল হকের নেতৃত্বে আমরা ৯/১০ জন মুক্তিযোদ্ধা গোবিন্দগঞ্জ-তাজপুরের আড়াইশ ফুট রেললাইন এক্সপ্লোসিভ দিয়ে উড়িয়ে দেই। রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটার পর রাজাকাররা মুক্তিবাহিনীর উপস্থিতি টের পায়। ভয়ে তারা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। কিছুক্ষণ গুলির জবাব দিয়ে আমরা নৌকা ভাসিয়ে দেই। নৈনগাঁওয়ের কাছে এসে পাক বাহিনীর এম্বুসের মধ্যে পড়ি। কোনরকম ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া কৌশলে আমরা বেরিয়ে যেতে সক্ষম হই। এই অ ল সমম্পর্কে আমাদের জানা থাকায় খুব অসুবিধায় পড়তে হয়নি।

আমাদের পরবর্তী অপারেশন চলে কোম্পানীগঞ্জের গো-খাল। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের গুলিতে পাক হানাদারদের একজন ক্যাপ্টেনও নিহত হন। ১০ আগস্ট সাব-সেক্টর কমান্ডার কয়েছ চৌধুরী আমাকে ও নিজাম উদ্দিন বুলিকে চেলা ক্যাম্পে নিয়ে  যান। সেখানে ক্যাপ্টেন চ্যাটার্জি বাবুর সাথে আমাদের পরিচয় হয়। তিনি বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত একখানা পতাকা এবং একটি চিরকুট হাতে দিয়ে আমি ও নিজাম উদ্দীন বুলিকে পাথরঘাটা ক্যাম্প থেকে আর্মস ও গোলাবারুদ নিয়ে কমান্ডার নুরুল হকের নেতৃত্বে ১৩ ই আগস্ট দিবাগত রাত ছাতক রেলস্টেশনে বাংলাদেশের মানচিত্র সংবলিত পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দেন। আমরা অতি গোপনে নোৗকা দিয়ে ছাতকে গিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ওড়াই। সে দিন ছিল পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। 

এরপর ছাতক কালাারুখা ও খাঁরগাঁওয়ের মাঝখানে ট্রেন উড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে দুটি এন্টি ট্যাংক মাইন পুঁতে রাখি। ৪ ডিসেম্বর এস.এন.এ আব্দুল হক এক চিরকুট লিখে পাঠান। তাঁর নির্দেশে আমরা ভোলাগঞ্জ রওয়ানা দেই। তার নির্দেশে ৬ ডিসেম্বর তাদের সাথে কোম্পানিগঞ্জের পাড়–য়া বাজারে আসি এবং সেদিনই পাড়–য়া থেকে আমরা ছাতক অভিমুখে যাত্রা করি। সকাল ৭টার দিকে ছাতক থানা ঘাটে এসে পৌঁছি। এ সময় মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ের মুখে পাক হানাদার বাহিনী ছাতক ছেড়ে হাসনাবাদ অবস্থান করছিল। এদিন ছাতক মুক্ত দিবস ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন অপারেশনে যাওয়া আসার পথে বলিউরা ক্যাম্প ইনচার্জ আব্দুস সামাদ এর সাথে আমাদের সাক্ষাত হয়। ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় উদযাপন করি। বিজয় ঘোষিত হওয়ার পরপরই দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে ভাবতে লাগলাম আজ আমরা মুক্ত। আনন্দে সাথী যোদ্ধাগণ একে অন্যকে জড়িয়ে ধরলাম। ভুলে গেলাম নয় মাসের দুঃখ কষ্টের দিনগুলোর কথা। একাত্তরের রণাঙ্গণের সহযোদ্ধাদের মধ্যে নিজাম উদ্দীন বুলি (বাগবাড়ি), আব্দুর রহমান (গিলাতলি) আমির হোসেন (বড়খাল), বদিউর রহমান (গিলাতলি), সুুরুজ আলী (রাজারগাঁও)সহ আরও অনেক সহযোদ্ধা ছিলেন- তাদের নাম মনে নেই।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট সপরিবারে নিহত হলেন বঙ্গবন্ধু। তারপর দেশে শুরু হলো বঙ্গবন্ধু অনুসারীদের ধরপাকড়। আমাকে কাদের বাহিনীর লোক বলে আমার নামে বিজিপি ক্যাম্পে রিপোর্ট করা হয়। আমি বাড়ি ছাড়া হয়ে থাকি বেশ কিছুদিন। আমার ছোট ভাই আচ্ছা মিয়াকে ধরে নিয়ে যায় আওয়ামীলীগ করতো বলে। তাকে অনেক টর্চার করা হয়। অনেকদিন পর তাকে বেইলে আনা হয়। এভাবে আমাদের দিন চলে যায়।  যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলাম তাও বাস্তবায়িত হলো না। পাকিস্তানী দালাল রাজাকার  আলবদর, আল সামসরা এ দেশের মন্ত্রী হলো। বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে আবারও আমাদের মূল্যায়ন করতে শুরু করলো।

আজ আমরা মুক্তিযোদ্ধাগণ সম্মান ও মর্যাদার আসনে উপবিষ্ট। আমার আশা স্বাধীন সার্বভৌম এ রাষ্ট্রে একদিন জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনেতিক মুক্তি আসবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়িত হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাসে উদ্বুদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে।

[বীর মুক্তিযোদ্ধা পেয়ারা মিয়া ২০০০ সালে পরলোকগমন করেছেন। লেখাটি দীপংকর মোহান্ত-এর সৌজন্যে প্রাপ্ত]

  • খোলা জানালা বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। eyenews.news-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে eyenews.news আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

দেখুন আইনিউজের ভিডিও সংবাদ

মৌলভীবাজারের বিস্ময় বালিকা : ১৯৫ দেশের রাজধানীর নাম বলতে পারে

মৌলভীবাজারের সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ভারত সরকারের পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত

প্রকৃতির সন্তান খাসি - খাসিয়া জনগোষ্ঠী

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়