ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

স্পোটস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৮, ২৫ নভেম্বর ২০২১

ম্যারাডোনা চলে যাওয়ার এক বছর

ডিয়াগো ম্যারাডোনা

ডিয়াগো ম্যারাডোনা

আর্জেন্টিনার কিংবদন্তী ফুটবলার ডিয়াগো ম্যারাডোনা। অনেকের কাছে তিনি ফুটবলের ঈশ্বর। কিন্তু বড্ড অসময়েই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর নিজের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ফুটবল দুনিয়ায় অবিসংবাদিত এই সম্রাট। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মৃত্যুর মাসখানেক আগেই মার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অপসারণ করা হয়েছিল জমে থাকা রক্ত। ডাক্তাররা বলেছিলেন, শঙ্কামুক্ত।

হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বুয়েন্স আয়ার্সে নিজের বাড়িতেও ফিরে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়িতেই কেউ না থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে বিছানার ওপর পড়েছিলেন তিনি। দীর্ঘক্ষণ পর তার কেয়ারটেকার এসে দেখলেন মৃত ম্যারাডোনাকে।

বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় রয়েছেন ম্যারাডোনা

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে যদিও এখনও অনেক রহস্য রয়েছে। ঠিক কি কারণে, কিভাবে মারা গেলেন সেটাও অনেকটাই অস্পষ্ট। যে কারণে অনেককেই পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এখনও তদন্ত চলমান তার মৃত্যু নিয়ে। 

ম্যারাডোনার বিদায়ের এই এক ব্ছরে ফুটবল বিশ্বে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। সবচেয়ে বড় যেটা, সেটা হচ্ছে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছে। ১৯৮৬ সালে তার হাত ধরে বিশ্বকাপ, ১৯৯৩ সালে যে সর্বশেষ কোপা জিতেছিল আর্জেন্টাইনরা, এরপর তো শুধু খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল লা আলবিসেলেস্তেদের।২৮ বছর পর শিরোপা মেসিদের হাতে উঠলেও ম্যারাডোনা দেখে যেতে পারেননি। 

তার হাত ধরে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেটিনা 

ম্যারাডোনা নেই। তবে, ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তার ভক্তরা তাকে স্মরণে রেখেছেন নানা আয়োজন-অনুষ্ঠানে। ম্যারাডোনা যতটা না আর্জেন্টাইন, তার চেয়েও বেশি যেন নাপোলির।

ইতালিয়ান ক্লাবটি তাদের সর্বশেষ ম্যাচেও মাঠে নেমেছে ম্যারাডোনার ছবি আঁকা জার্সি পরে। আজ নাপোলি স্টেডিয়ামের সামনে বসবে তার পূর্ণ আকৃতির ব্রোঞ্জমূর্তি।

নাপোলি তাদের স্টেডিয়ামেরও নাম বদলে দিয়েছে। সেটি এখন দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা স্টেডিয়াম। সেই স্টেডিয়ামের সামনে তো ম্যারাডোনার আবক্ষ মূর্তিই শোভা পায়।

ফুটবলের ঈশ্বর ম্যারাডোনা 

৮ বছর বয়সে ক্লাব পর্যায়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন ম্যারাডোনা। ১৯৭৫ সালে যোগ দেন আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স ক্লাবে। টানা ৬ বছর এই ক্লাবের হয়ে খেলেছেন তিনি। এর মাঝে ১৯৭৭-৭৯ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনা আন্ডার টোয়েন্টি দলের হয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন সাবেক এই ফুটবলার।

১৯৭৭ সালে জাতীয় দলে নাম লেখান দিয়াগো ম্যারাডোনা। জাতীয় দলের হয়ে ফিফা বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার চারটি আসরে অংশ নেন তিনি। ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার এই খেলোয়াড়ের নেতৃত্বেই ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ পায় আর্জেন্টিনা।

জাতীয় দলের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ক্লাবের হয়ে লড়েছেন আর্জেন্টিনার সাবেক এই খেলোয়াড়। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বোকা জুনিয়র্স, বার্সালোনা, নাপোলি, সেভিয়া এবং নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেছেন তিনি।

মেসির সঙ্গে ম্যারাডোনার সম্পর্কটা সব সময়ই মধুর ছিল 

দুইবার স্থানান্তর ফির বিশ্ব রেকর্ড রয়েছেন ম্যারাডোনার। ১৯৮২ সালে বোকা জুনিয়র্স থেকে বার্সালোনায় স্থানান্তরের সময় ৫ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড গড়েন তিনি। এরপর ১৯৮৪ সালে বার্সালোনা ছাড়ার সময় ৬.৯ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড গড়েন তিনি।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ আসরে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বর্ণ পদক জিতেছিলেন ম্যারাডোনা। ওই প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচই তাকে স্মরণীয় করে রাখবে বলে বিশ্বাস করেন ফুটবলের বিশ্ব তারকা এবং বিশেজ্ঞরা। ওই ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় আর্জেন্টিনা; আর দলের হয়ে দুটি গোলই করেন ম্যারাডোনা। প্রথম গোলটি বিতর্কিত হলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি শতাব্দীর সেরার গোল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল।

কোপার শিরোপা মেসিদের হাতে উঠলেও ম্যারাডোনা দেখে যেতে পারেননি

ম্যারাডোনাকে ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের অন্যতম হিসেবে মনে করা হয়। ১৯৯১ সালে ইতালিতে ড্রাগ টেস্টে কোকেইন পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়ায় ১৫ মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইফিড্রিন টেস্টে আবারও ইতিবাচক ফলাফলের জন্য প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয় তাকে।

শত বিতর্ক সত্ত্বেও ফিফা বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় রয়েছেন ম্যারাডোনা। এই তালিকায় তার সঙ্গে আরও আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তী ফুটবলার পেলে।

আইনিউজ/এসডিপি 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়