ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৫ ১৪২৭

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:১৯, ২৭ জানুয়ারি ২০২১
আপডেট: ২১:২৫, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

বাক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে কুষ্ঠরোগী বিশ্ববতীর অসহায় জীবনযাপন

বিশ্ববতী দেববর্মা ও তার মেয়ে শীলা দেববর্মা

বিশ্ববতী দেববর্মা ও তার মেয়ে শীলা দেববর্মা

আদিবাসী বিশ্ববতী দেববর্মা। বয়স হবে প্রায় ৬৫ বছর। কুষ্ঠ রোগ নিরাময়ের আশায় দীর্ঘ বিশ বছর আগে হবিগঞ্জের ত্রিপুরা বস্তি থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার হীড চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন। চিকিৎসার সুবিধার্থে নিজ এলাকায় না গিয়ে কমলগঞ্জে থেকে যান। সেই থেকে হীড কর্তৃপক্ষের সহায়তায় একটি ঘরে বসবাস করছেন।

কয়েক বছর পূর্বে মারা যান বিশ্ববতীর স্বামী মনিন্দ্র দেববর্মা।  স্বামীর মৃত্যুর পর বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে শীলা দেববর্মাকে নিয়ে বিশ্ববতী অসহায় অবস্থায় দিন অতিবাহিত করছেন। প্রতিদিন দুমুঠো আহারের জন্য তাকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে গ্রামে গ্রামে ছুটে যেতে হয় প্রতিনিয়ত।  

কুষ্ঠরোগী বিশ্ববতীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্বামীকে নিয়ে চুনারুঘাট থানার তেলিয়াপাড়া পাহাড়ি এলাকার গরমছড়িতে বসবাস করতেন। প্রায় ২০ বছর আগে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য কমলগঞ্জে অবস্থিত যক্ষা ও কুষ্ঠরোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হীডে আসেন চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসার সুবিধার্থে এখানে থেকে যান। তাদের নিজের বসবাস করার জায়গা না থাকায় হীডের দয়ায় জরাজীর্ণ একটি ঘরে তারা বসবাস করেন। 

তিনি বলেন, কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাত-পায়ের আঙুলসহ নাক হারিয়েছি। স্বামী মারা যাবার পর থেকে বাক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করছেন।

কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নাগরিক নয় বলে তিনি বা তার মেয়ে কেউই পান না কোনো সরকারি ভাতা। বিষয়ে তিনি বলেন, এখন বয়স বাড়ছে আগের মত শরীরে শক্তি না থাকায় পঙ্গু দুটি পা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করাও সম্ভব হয় না। এজন্য মাঝে মাঝে না খেয়ে দিন রাত পার করতে হয়। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে বহুবার গিয়েছি একটি ভাতার কার্ডের জন্য কিন্তু তাও কপালে জোটেনি।

এ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে বুধবার বিকেলে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানের মুঠোফোনে ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

যক্ষা ও কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হীড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববতী তার দুই হাত-পায়ের আঙুলসহ নাক হারিয়েছে। চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর তার যাওয়ার কোনো জায়গা না থাকায় সংস্থা তাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

তিনি মনে করেন কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কিংবা স্থানীয় চেয়ারম্যানের একটু সুনজরে আসলে হয়তো ফিরতে পারে অসহায় ষাটোর্ধ্ব শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা মা ও তার একমাত্র বাক প্রতিবন্ধী মেয়ের স্বচ্ছলতা।

কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা প্রানেশ চন্দ্র বর্মা বলেন, এই নারী ও তার বাক প্রতিবন্ধী মেয়ের কথা তারা জানতেন না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

আইনিউজ/এম.আর/এসডিপি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়