ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২০, ১০ জুন ২০২১
আপডেট: ২১:৪৫, ১০ জুন ২০২১

সাবেক এমপির পরিচয়ে মৌলভীবাজারে চাঁদাবাজি

মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটি প্রতারক চক্র মানবিক সহযোগিতার নামে চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু টাকাও প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে।সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে মৌলভীবাজার-২ আসনের (কুলাউড়া) সাবেক এমপি আব্দুল মতিনের পরিচয়ে চাঁদা দাবি করে প্রতারক চক্রটি।

এ ব্যাপারে শহরের রেস্ট-ইন হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার সত্যজিৎ আচার্য্যের সাথে আইনিউজের কথা হয়।

তিনি জানান, বুধবার (৯ জুন) সকালে শহরের রেস্ট-ইন হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার সত্যজিৎ আচার্য্যের কাছে ০১৭১২১৫৫২৩৫ নাম্বার থেকে একটি কল আসে। সাবেক এমপি আব্দুল মতিন পরিচয় দিয়ে জনৈক ব্যক্তি হোটেলের মালিকের নাম্বার চায়। তারা জানায় একজন ক্যান্সারের রোগীর জন্য কিছু সহযোগিতা লাগবে। তাই সে যোগাযোগ করতে চায়। তার উত্তরে ম্যানেজার জানান, এভাবে নাম্বার দেওয়ার অনুমতি নেই। আমি বসের সাথে কথা বলে আপনাকে জানাব। তিনি এখন ইংল্যান্ড আছেন। 

গত রাতে তিনি ইংল্যান্ডে অবস্থানরত মালিকের সাথে কথা বললে তিনি নাম্বার দিয়ে দিতে বললেন। এরপর প্রতারক চক্র ইংল্যান্ডে যোগাযোগ করে। হোটেলটির মালিক তার ম্যানেজারকে মোটা অংকের কিছু টাকা ক্যন্সার রোগীর চিকিৎসার জন্য দিয়ে দিতে বলেন। প্রতারক চক্র এরই মধ্যে একটি বিকাশ নাম্বারও দেয় (০১৭১৫৭০৬৯১৫)। 

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) সকালে ম্যানেজার সত্যজিৎ টাকা দেওয়ার জন্য কল দিলে নাম্বার বন্ধ পান। পরবর্তীতে বিকাশের নাম্বারে কল দিলেও সেটাও বন্ধ পান। বেশ কয়েকবার বন্ধ পাওয়ার পর তাঁর সন্দেহ হয়। তখন তিনি স্থানীয় এলাকায় কথা বললে তারা সাবেক এমপি আব্দুল মতিনের মোবাইল নাম্বার দেন। এই নাম্বারে যোগাযোগ করার পর ম্যানেজার জানতে পারেন আব্দুল মতিন কখনো ফোন দেননি। এরা ছিল প্রতারক চক্র। 

তবে প্রতারক চক্র ধরা পরার আগেই কয়েকজন ব্যবসায়ীর থেকে বেশ কিছু টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার মধ্যে শহরের মেসার্স প্রীতি আয়রন এন্ড স্টিল থেকে ২০ হাজার এবং শমশেরনগর রোডের এক ব্যবসায়ীর থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। 

এ ব্যাপারে সাবেক এমপি আব্দুল মতিন বলেন, এরা প্রতারক চক্র। যারা আমার নাম বিক্রি করে এভাবে প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেব। 

এর আগেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন মানবিক অজুহাত দেখিয়ে একটি চক্র সহযোগিতার নামে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়াউর রহমান জানান, এরকম অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজি কোনভাবেই মানা যায়না।

আইনিউজ/এইচকে/এসডি

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়