ঢাকা, বুধবার   ১০ জুন ২০২৬,   জ্যৈষ্ঠ ২৬ ১৪৩৩

জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৫৪, ১ আগস্ট ২০২১
আপডেট: ১৩:১১, ১ আগস্ট ২০২১

জুড়ীতে ধাত্রীর ভুল চিকিৎসায় নবজাতকসহ প্রসূতির মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় জুলেখা বেগম নামের এক ধাত্রীর ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলাব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম শিলুয়া গ্রামের রুনা বেগম (১৯) এর প্রথম সন্তান প্রসবের ব্যাথা শুরু হলে গত বৃহস্পতিবার রাতে ধাত্রী জুলেখা বেগম ৪ হাজার টাকা কন্ট্রাক্টে ওই প্রসূতি মহিলার বাড়ীতে যান। সারা রাত চেষ্টা করেও ডেলিভারী করাতে পারেনি। রুনা বেগম মৃত সমছ উদ্দিনের ছেলে জয়নুল ইসলামের স্ত্রী।

এ সময় জয়নুল ইসলাম বারবার প্রসূতি স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বল্লেও ধাত্রী জুলেখা তার কথায় কর্ণপাত করেননি বরং ধমক দিয়ে বলেন, হাজার হাজার রোগীর ডেলিভারী করাইলাম এটাতো কোন বিষয় না। দেরি হলেও নরমাল ডেলিভারি হবে বাড়িতেই।

কিন্তু শুক্রবার ভোর বেলা পর্যন্ত চেষ্টা করতে করতে যখন প্রসূতি অজ্ঞান হয়ে পড়ে তখনই হঠাৎ করে বলেন, গাড়ী আনেন তাকে হাসপাতালে নিতে হবে। প্রসূতিকে যখন জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলো ততক্ষণে প্রসূতি ও তার গর্ভজাত নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে প্রসূতির স্বামী জয়নুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী রুনা বেগম সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন, তার গর্ভজাত শিশুটিও ভালো অবস্থানে ছিলো, তাই ওই রাতে আমার স্ত্রীর প্রথম সন্তান প্রসবের ব্যাথা শুরু হলে ধাত্রী জুলেখা বেগমকে ৪ হাজার টাকা কন্ট্রাক্টে আমার বাড়ীতে নিয়ে আসি। সারা রাত চেষ্টা করেও ডেলিভারি করাতে পারেনি ধাত্রী জুলেখা। এ সময় আমি বারবার ধাত্রী জুলেখাকে বলি যে, আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে আমার কথায় কোন পাত্তা দেয়নি বরং আমাকে ধমক দিয়ে বলেন, হাজার হাজার রোগীর ডেলিভারী করাইলাম এটাত কোন বিষয় না। আপনারা চুপ থাকুন। শুক্রবার ভোর বেলা আমার স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে যখন হাসপাতালে নিয়ে যাই, তখন হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আমার স্ত্রী যদি এতই অসুস্থ হলো, তাহলে কেন জুলেখা এত বড় ঝুঁকি নিলো?

জানতে চাইলে এ বিষয়ে ধাত্রী জুলেখা বেগম আইনিউজের এ প্রতিনিধিকে বলেন, জুড়ীতে হাজার হাজার প্রসূতির ডেলিভারী করালাম, পুরস্কারও পেলাম তা নিয়ে কোন পত্রিকায় লিখলো না সাংবাদিকরা আর আজ এটা নিয়ে এত হইচই কেন করছেন আপনারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. সমরজিৎ সিংহ বলেন, ওই প্রসূতি হাসপাতালে আসার আগেই মারা গেছে। এ বিষয়ে যদি প্রসূতির পরিবার কোন লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আইনিউজ/সাইফুল ইসলাম সুমন/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়