ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৮ ১৪২৭

সুস্মিতা পূজা ও অনিক ভট্টাচার্য

প্রকাশিত: ০০:২৩, ২৭ জানুয়ারি ২০২১
আপডেট: ০০:৪১, ২৭ জানুয়ারি ২০২১

মেয়াদ শেষে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনের কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নজরদারির অভাবে ধীর গতিতে চলছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ। চুক্তি অনুযায়ী কাজের মেয়াদ শেষে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভারতের কালিন্দি রেল নির্মাণ কোম্পানি। এ অবস্থায় প্রকল্পটির বাকি কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আরো দেড় বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু বর্ধিত মেয়াদেও কাজ শেষ করা নিয়ে তৈরী হয়েছে সংশয় এবং ব্যয় বাড়ার শঙ্কা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন চালু করা হয় ১৮৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর। তারপর ১৯৫৮-৬০ সালে ওই রেলপথটি পুনর্বাসন করা হয়। রেল চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ২০০২ সালের ৭ জুলাই বন্ধ হয়ে যায় কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল যোগাযোগ। এতে কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা এবং সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন সংকটে পড়েন।

পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে ২০১০ সালের পর ভারত এবং বাংলাদেশ বন্ধ লাইনটি চালুর উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ২৬ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেকে) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকার অনুমোদিত প্রকল্প পরবর্তিতে সংশোধন করে ৫৪৪ কোটি টাকা ধরা হয়। প্রকল্প ব্যয়ের ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং বাকি ৭৫ শতাংশ ভারতের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে সরকার। কাজের ঠিকাদারি পায় ভারতীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কালিন্দি রেল নির্মাণ কোম্পানি।

বন্ধ হবার দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০১৮ সালে আগস্টের ১০ তারিখ থেকে পূণর্বাসনের কাজ শুরু হয়। কাজের মেয়াদ ধরা হয় দুই বছর। কাজের মধ্যে রয়েছে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে শাহবাজপুর জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার মেইন লাইন ও ৭ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার লুপ লাইন মিলে মোট ৫২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার রেলপথ। ব্রডগেজ ও মিটার গেজের দ্বৈত লাইন ছাড়া রয়েছে ছয়টি স্টেশন নির্মাণ এবং ৫৯টি সেতু কালভার্ট। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কাজের মেয়াদ শেষ হয়। এই সময়ে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে কুলাউড়া এবং জুড়ী উপজেলায় গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন রেলব্রিজ ভাঙার কাজ করছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে এক্সভেটর দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের লাইন পরিষ্কার করে মাটির কাজ করা হচ্ছে। পুরনো লাইনের ইট পাথর ট্রাকে করে সরিয়ে নিয়ে লাইনের পাশে রাখা হচ্ছে। এক্সভেটর অপারেটর মো. সিরাজ জানান, তিনি রেলপথের আগাছা পরিস্কার করে পুরনো পাথর তুলে দিচ্ছেন। ট্রাকটরে করে সেগুলো লাইনের পাশে রাখা হচ্ছে। তার পেচনে রুলার দিয়ে লাইন শক্ত করা হচ্ছে। কুলাউড়া স্টেশন থেকে তারা এক সপ্তাহে প্রায় সাত কিলোমিটার কাজ করেছেন।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কালিন্দী রেল নির্মাণ কোম্পানির ফিল্ড সুপার ভাইজার মো. মন্তাজ আলী জানান, কোভিডের কারণে কাজ বন্ধ ছিলো সম্প্রতি আবার শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় একশ জনের মত শ্রমিক কাজ করছেন। বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বলতে পারবোনা তবে এখন দ্রুত কাজ চলছে।

রেলওয়ে কুলাউড়া সেকশনের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (কার্য) মো. জুয়েল হোসেন বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজের অগ্রগতি এক তৃতীয়াংশের কম। কোভিডের কারণে কিছু দিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবার শুরু হয়েছে প্রকল্পের কাজ। বর্তমানে ব্রিজ কালভার্ট এবং লাইনে মাটির কাজ চলছে। এছাড়া ছয়টি স্টেশনের মধ্যে চারটির নির্মাণ কাজ চলছে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এ লাইন চালু হলে ভারত বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক রেলওয়ে নেটওয়ার্ক এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পর্যটনের প্রসার ঘটবে। লাইন দিয়ে কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত পাঁচটি ট্রেন চলাচল করবে। লোকাল ট্রেন ছাড়াও আন্ত:নগর ট্রেন চলবে। একই সঙ্গে ভারতীয় ট্রেনও চলাচল করবে এ পথে।

শত বছরের পুরনো এই রেলপথটি চালু হলে স্থানীয় ২৪টি চা বাগানসহ বৃহত্তর বড়লেখা-জুড়ী-কুলাউড়া ও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহণ ও যাতায়াতের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। উদ্ধার হবে রেলওয়ের বেহাত হওয়া কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সচল হবে জুড়ী, দক্ষিণভাগ, কাঁঠালতলী, বড়লেখা, মুড়াউল ও শাহবাজপুর রেলস্টেশন। 

আইনিউজ/এইচকে

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়