ঢাকা, বুধবার   ০৮ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৭

ডা. সুমাইয়া বিনতে মিজান

প্রকাশিত: ২২:৪৯, ২৭ জুন ২০২০
আপডেট: ২৩:৩৭, ২৭ জুন ২০২০

চুল পড়া রোধে করণীয়

মানুষের সৌন্দর্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল চুল, সেই চুল যদি পড়ে যায় সেটা কম বেশী সবার জন্যই কষ্টদায়ক। কিন্তু একটু সচেতনতাই পারে আকালে চুল পড়া থেকে আপনাকে রক্ষা করতে ।

চুল পড়া প্রতিরোধ করতে হলে তাই সবার আগে জানতে হবে চুল পড়ার কারণ। সাধারণত দিনে ১০০ টা চুল পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার এতে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। কিন্তু যখন এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় তখনই চিন্তার বিষয়। তাই চুল পড়ার প্রতিকার এর পাশাপাশি এর কারণ সংক্ষেপে জেনে নেওয়া দরকার ।

যেসব কারণে সাধারণত চুল পড়ে

বংশগত : সাধারণত কারণ গুলোর মধ্যে বংশগত কারণে চুল পড়াটাই সর্বাধিক।পরিবারের কারো যদি পূর্বে এই সমস্যা থেকে থাকে তাহলে পরবর্তী সদস্যদের এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে । এই ধরণের চুল পড়াকে সাধারণত আমরা বলে থাকি “এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া” ছেলের বেলায় আমরা বলি “মেইল প্যাটার্ন এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া” আর মেয়েদের বেলায় “ফিমেইল প্যাটার্ন এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া”। সাধারণত চুল পড়ার ধরণ এবং পারিবারিক ইতিহাস থেকে জানা যায় এটি “এন্ড্রোজেনেটিক এলোপেসিয়া” কি না । এর প্রকোটতা সাধারণত বয়স এর সাথে সাথে বাড়তে থাকে।

হরমোনাল পরিবর্তন : শরীরের কোন হরমোনাল পরিবর্তনের কারণেও চুল পড়া বাড়তে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রেগনেন্সি, মেনোপোজ,ল্যাকটেশনাল পিরিয়ড এ শরীরে কিছু হরমোনাল পরিবর্তন আসে। তখন চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে !

পুষ্টিহীনতা বা নিউট্রিশনাল ডেফিশিয়েন্স : খাবারে সঠিক পুষ্টি উপাদান না থাকলে শরীরের পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়।সেক্ষেত্রেও অনেক সময় চুল পড়া বেড়ে যায় ।

এই তিনটি কারণ ছাড়াও আরো কিছু কারণ চুল পড়ার জন্য দায়ী। যেমন পরিবেশ, আবহাওয়া, অতিরিক্ত, দুশ্চিন্তা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। মাথায় চর্মরোগ ছাড়াও মানবদেহের কিছু রোগ এবং ঔষধের পার্শ্বপতিক্রিয়ার কারণে অনেক সময় চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে।

চুল পড়ার কারণ যেমন আছে তেমনি একটু সচেতন হলে চুল পড়ে অকাল এ টাক প্রতিরোধ করা সম্ভব। চুল পড়ার প্রতিকার পেতে হলে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে !

যখনই আপনার মনে হবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চুল পড়ছে অপেক্ষা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন অভিজ্ঞ ডার্মাটোলজিষ্টের শরণাপন্ন হয়ে উনার নির্দেশ মত পদক্ষেপ নিতে হবে। একজন অভিজ্ঞ ডার্মাটোলজিষ্ট আপনার চুল পড়ার কারণ যাচাই করে আপনাকে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারবেন ।

সেক্ষেত্রে আপনার কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে এবং আপনার চুল এবং স্কাল্প এর ধরণ বুঝে চুলের প্রসাধনী দেওয়া হবে। যদি চুল পড়ার কারণ কোন রোগ থেকে হয় সেক্ষেত্রে ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হবে। যদি কোন ভিটামিনের অভাব থাকে তাহলে সুষম খাবার ও সাথে কিছু ভিটামিন সাপলিমেন্টেশন প্রয়োজন হয় ।

এছাড়া বর্তমানে চুল পড়া কমানোর জন্য যে আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে তা হল “PRP”। PRP মানে হলো “প্লাটিলেট রীচ প্লাজমা” এটি অত্যান্ত জনপ্রিয় এবং কার্যকরী একটি চিকিৎসা। এছাড়াও রয়েছে ক্রায়োথেরাপী,স্টীম সেল থেরাপী, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থেরাপী ইত্যাদি। এবং সার্জীকাল প্রসিডিউরের মধ্যে যে চিকিৎসা রয়েছে তা হল হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট বা চুল প্রতিস্থাপন।

বর্তমানে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট এর সবচেয়ে আধুনিক চিকিৎসার নাম DHI (Direct Hair Implantation)। সুতরাং যখনই চুল পড়া জনিত সমস্যায় ভুগবেন একজন বিশেষজ্ঞ ডার্মাটোলজিষ্ট দেখিয়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে অকালে টাক পড়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সেই সাথে জীবন যাত্রার মান উন্নত করা,চুল পরিষ্কার রাখা,পরিমিত সুষম খাবার এবং প্রচুর পানি পান করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 

ডাঃ সুমাইয়া বিনতে মিজান
(Medical officer and asthetic dermatologist,
Laser Treat,Dhaka)
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়