ঢাকা, রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ২ ১৪২৮

মাহাবুবা খান ইশিতা

প্রকাশিত: ১৯:৫৮, ৩০ মে ২০২১
আপডেট: ১২:৩৬, ১ জুন ২০২১

ইতিহাসের নিরপেক্ষ, নির্ভীক, বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ

আলোচ্য বইটির প্রচ্ছদ।

আলোচ্য বইটির প্রচ্ছদ।

বন্ধু এবং লেখক আলমগীর শাহরিয়ারের লেখা এ বছর অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত "রবীন্দ্রনাথ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতা" বইটি পড়লাম। লেখক বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সহপাঠী ও বন্ধু হওয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বইটি নিয়ে একটা বিশেষ আগ্রহ ছিল। প্রারম্ভেই স্বীকার করে নিই ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব সাধারণ একজন পাঠক যার জ্ঞান ও জানাশোনার পরিধি সীমিত। তারপরও বন্ধু আলমগীরের লেখা বইটি পড়ে কিছু কথা লিখতে ইচ্ছে হলো।

বইটা যখন পড়তে শুরু করলাম আর যত গভীরে ঢুকলাম ততই বিস্মিত হলাম লেখকের লেখার মুন্সিয়ানা ও অসাধারণ দক্ষতা দেখে! বইটি একটি গবেষণাগ্রন্থ। কাজটি করতে গিয়ে লেখক আলমগীর যে কতটা ধৈর্যশীলতার সঙ্গে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তা বইটি পড়ে সহজেই অনুমেয়। নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ভিত্তিক, যুক্তিপ্রমাণ সাপেক্ষ, বিশ্লেষণধর্মী একটি লেখা। এরকম জটিল, সংবেদনশীল বিষয়বস্তু নিয়ে লেখার সৎ সাহস আর দক্ষতা ধারণা করি খুব কম উদীয়মান লেখকই সাম্প্রতিককালে দেখিয়েছেন।

 আমি নিজেও একজন রবীন্দ্রানুরাগী। তারপরও লোকমুখে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন এরকম একটা প্রচার-প্রচারণার কথা অনেকদিন ধরেই শুনে এসেছি এবং অপপ্রচারের প্রাবল্যে আমি নিজেও অনেকের মত ধারণাটি বিশ্বাস করতাম। বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা মানুষটিকে নিয়ে এরকম আরো অনেক যে সকল ভ্রান্ত ধারণা বাঙালি মুসলমানরা মনে ধারণ করে চলেছে তার পেছনের কারণ এবং সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা লেখক বইটিতে করেছেন তাঁর যুক্তিযুক্ত বিচারভঙ্গি আর বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা দিয়ে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির পূর্বাপর অনেক অজানা ইতিহাস জানলাম যা বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র সৃষ্টির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ গ্রন্থ পাঠে জানা যায় এই উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস কত পুরোনো। একই সঙ্গে নেপথ্যের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট। লেখক অত্যন্তু নিরপেক্ষ এবং নির্ভীকভাবে উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িকতার প্রকৃত ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছেন এবং তার উত্তরণের পথ খুঁজেছেন। 

রবীন্দ্রনাথ তো বিশ্বকবি । তিনি স্থান, কাল, পাত্র, জাতি, ধর্মের ঊর্ধ্বে। তাঁকে নিয়ে জানার আগ্রহ এবং অধিকার সকলের আছে। শৈশব কৈশোর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন পর্যন্ত বইপড়ার যে একটা আগ্রহ আর অভ্যাস ছিলো সময়ের আবর্তে নানা কাজ আর ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে এবং গত কয়েক বছরে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্তি বাড়ায় বইপড়ার নিয়মিত অভ্যাস এবং আগ্রহে অনেক ভাটা পড়েছে। তাই অনেক দিন পর এতো ঝরঝরে, প্রাঞ্জল ও সাবলীল বাংলায় রচিত একটা চমৎকার বই পড়ে দারুণ লাগলো। এজন্য লেখককে আন্তরিক ধ্যন্যবাদ। 

পরিশেষে বন্ধু এবং লেখক আলমগীর শাহরিয়ারকে আবারো ধন্যবাদ জানাতে চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে এত অসাধারণ এবং সাহসী একটা কাজ আমাদের উপহার দেওয়ার জন্যে। জাতির বাতিঘরখ্যাত আমাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে নিঃসন্দেহে এ প্রকাশনাটি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। লেখকের জন্য অনেক শুভকামনা। বইটির বহুল প্রচার ও প্রসার কামনা করছি। তাঁর কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরো অনেক গবেষণাধর্মী ও সৃজনশীল লেখা পাঠকরা উপহার পাবে সেই অপেক্ষায় রইলাম।

 মাহাবুবা খান ইশিতা, সাবেক ফ্যাকাল্টি, স্কলাস্টিকা।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়