ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জানুয়ারি ২০২২,   মাঘ ৭ ১৪২৮

অমলেন্দু কুমার দাশ

প্রকাশিত: ১৬:৪৯, ২৬ অক্টোবর ২০২১
আপডেট: ১৮:০৭, ২৬ অক্টোবর ২০২১

বন্দী প্রত্যাবর্তন ও কিছু মানবিক উদ্যোগ (২য় পর্ব)

ভারতে বাংলাদেশ সরকারের ৬ টি মিশন রয়েছে। প্রধান মিশন নয়াদিল্লীতে। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে আসামের গৌহাটিতে সহকারী হাই কমিশনারের দপ্তর চালু হয়েছে। অপরদিকে বাংলাদেশে ভারতের ৩টি মিশন রয়েছে যার প্রধান মিশন ঢাকা বারিধারাতে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে ড. শাহ্ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর সহকারী হাই কমিশনার পদে গৌহাটি মিশনে যোগদান করলে এই বছরেই আমরা বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিককে আসামের বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে মুক্ত করে দেশে ফেরাতে সক্ষম হই।

ড. মনসুর গৌহাটিতে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসাম রাজ্যের বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্প গোয়ালপাড়া, কুকড়াঝাড়, তেজপুর, জোড়হাট ও শিলচর থেকে দীর্ঘদিনের বন্দী বাংলাদেশি নাগরিকরা মুক্তির পথ পেয়েছে। বন্দীরা অধিকার বি ত হয়ে অবহেলায়, মানসিক যন্ত্রণায় তিলে তিলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যখন মৃত্যুর দিকে যাচ্ছিল তখন এই মহান মানুষটির কারণেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ও নিরুদ্দেশ ব্যক্তিরা আমার সহায়তায় স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরেছে।

ড. মনসুর সত্যিকারের একজন মানব দরদী। ড. মনসুরের অনুপ্রেরণা, আন্তরিকতা, মানবিকতা না থাকলে এই কঠিন কাজ করা সম্ভব হতো না। এরকম একজন মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন অফিসারের সাথে কাজ করে ৩ মার্চ, ২০২১ পর্যন্ত প্রায় ২ শতাধিক অসহায় বাংলাদেশি বন্দীকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি নিজে আনন্দিত ও গর্বিত।

ছবিতে বাংলাদেশে ৩০জন নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনকালে জকিগঞ্জ স্থলবন্দরে  স্বজনদের সাথে মিলনকালীন সময়ে তাদের সাথে আমি।

ভারত ও বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলে বন্দী ভারতীয় ও বাংলাদেশি নাগরিক যারা মেয়াদ অতিরিক্ত সাজা ভোগ করছেন তাদের খোঁজ নেওয়া, দুই দেশের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদেরকে নির্দিষ্ট তারিখে বর্ডারে নিয়ে এসে নিরুদ্দেশ বা পরিবার থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা ব্যক্তিকে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া পর্যন্ত আমাদের অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা স্বজনদের মিলনের আনন্দাশ্রু দেখে এ দীর্ঘ যাত্রার কষ্টটা ভুলে যাই। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। উভয় দেশের লোকজন অবৈধভাবে এপাড়-ওপাড় হওয়ার পর যখনই তারা সীমান্তরক্ষী বা আইনশৃঙ্ঘলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়ে তখনই তারা অপরাধী হিসেবে জেলে বন্দী হয়। ফলশ্রুতিতে তাদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। সীমান্তে এ অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করা প্রয়োজন। সীমান্তে সীমান্তরক্ষীদের আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সকলপ্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। বন্দী প্রত্যাবর্তনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় একজন বন্দীর সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সে তার নিজ দেশে ফেরত যেতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বন্দীকে মানসিক যন্ত্রণায় তিলে তিলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়।

অনন্য এ কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আমি এই কথাগুলি লিখছি। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা উভয় দেশের সরকারের কোনো সমালোচনা বা ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে এমন কোনো চিন্তাধারা থেকে লিখি নাই। এই লেখার উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণের  মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, যাতে এই ঘটনাগুলোর আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আমি সরকারি চাকুরীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবা বা স্বেচ্ছাশ্রম হিসেবে সামাজিক ও মানবিক কাজগুলি করে থাকি। অনেকেরই ধারণা হতে পারে এই কাজগুলি আমি আমার সরকারি দায়িত্ব হিসেবে করছি বা টাকার বিনিময়ে করছি, কিন্তু সত্যটা অন্যরকম। আমি ২০১৭ সাল থেকে স্বেচ্ছায়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে বিনা পারিশ্রমিকে ভারত-বাংলাদেশের বন্দীদের মুক্তির জন্য কাজ করছি।

আমি দীর্ঘদিন ধরে লোকজ সংস্কৃতি রক্ষার্থে তথ্য সংগ্রহ ও সম্পাদনার কাজ করছি। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৯টি।

বন্দী প্রত্যাবর্তনে আমাকে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া, আমার ফেসবুক শুভানুধ্যায়ী ।

ছবিতে রোকেয়া বেগমকে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকালে শেওলা সুতারকান্দি স্থলবন্দরে বন্দী স্ত্রীর সাথে স্বামী ও পুত্রের মিলনকালীন সময়ে তাদের সাথে আমি।

ছবিতে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকালে শেওলা সুতারকান্দি স্থলবন্দরে ভাইয়ের সাথে ভাইয়ের মিলনকালীন সময়ে তাদের সাথে আমি।

মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাহেবের সাথে আমি।

জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ তোফায়েল ইসলাম এবং জেলা ও দায়রা জজ শেখ আবু তাহের আমার হাতে সম্মাননা তোলে দিচ্ছেন।

ড. শাহ মোহাম্মদ তানভীর মনসুর আমাকে সম্মাননা প্রদান করছেন।

(আগের পর্ব পড়তে ক্লিক করুন)

 অমলেন্দু কুমার দাশ, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং লেখক, লোকগবেষক ও সমাজকর্মী

  • খোলা জানালা বিভাগে প্রকাশিত লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। eyenews.news-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে eyenews.news আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।
Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়