Bilas Moulvibazar, Bilas

ঢাকা, সোমবার   ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫,   ভাদ্র ১৬ ১৪৩২

ডা. মৌমিতা তৃষা

প্রকাশিত: ০০:০৫, ১১ ডিসেম্বর ২০২০

আহারে, সাধের পদ্মা সেতু

মার্চ, ২০১৭। জীবনে প্রথমবারের মতো খুলনা থেকে মৌলভীবাজার যাচ্ছি। রনির সাথে। আমার প্রথম লঞ্চ যাত্রা। তীব্র স্রোত সেদিন। পথের মধ্যে লঞ্চ ভীষণভাবে দোলা শুরু করলো। আমি সাঁতার জানিনা। বসা সব যাত্রী উঠে দাঁড়িয়ে গেছে। আমি রীতিমতো কাঁদছি। ভাবছি, আমার বাসায় যাওয়া বুঝি আর হলো না! মাকে দেখা আর হলো না! রনি খানিক অভ্যস্ত। সাঁতার পারে। আমার হাত শক্ত করে ধরে বলছে, লঞ্চ ডুবলে আমাকে না টেনে ধরে থাকবা। আমি নিয়ে যাবো।

আমার প্রথম লঞ্চ যাত্রা। তীব্র স্রোত সেদিন। পথের মধ্যে লঞ্চ ভীষণভাবে দোলা শুরু করলো। আমি সাঁতার জানিনা। বসা সব যাত্রী উঠে দাঁড়িয়ে গেছে। আমি রীতিমতো কাঁদছি। ভাবছি, আমার বাসায় যাওয়া বুঝি আর হলো না!

তারপর জুলাই, ২০১৯ থেকে শুরু হলো সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে যাওয়া-আসা। আমি দিন দুয়েক ছুটিছাটা পেলেই দৌড় দেই খুলনায়। একা। প্রতিবার জীবন হাতে নিয়ে ছুটে চলা। আমি যেদিন যাওয়া-আসা করি সেদিন বিকেলে নদী পার না হওয়া পর্যন্ত রনি ঘুমায় না। নদী পার হবার পর তিনটি ফোন আসে আমার কাছে। একটা বাপির, একটা মার, আর একটা রনির। আমার এক জার্নিতে রনি, মা, বাপি তিনটা মানুষ পুরোটা সময় চিন্তায় থাকে। চতুর্থ ফোন যেনো না আসে তাই আমার মাকে জানাই-ই না। পৌঁছে বলি, আমি চলে আসছি, মা।

আহারে, সাধের পদ্মা সেতু। যানবাহন চলাচল শুরু হতে হয়তো ২০২২ হয়ে যাবে। তাও। কতটা বছর ধরে অপেক্ষা করে আছি! এটা আমার মত অনেকের জন্যেই শুধু একটা সেতু না। ধন্যবাদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

আহারে, সাধের পদ্মা সেতু। যানবাহন চলাচল শুরু হতে হয়তো ২০২২ হয়ে যাবে। তাও। কতটা বছর ধরে অপেক্ষা করে আছি!

আইনিউজ/এইচকে

Green Tea
সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ