ঢাকা, শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৮

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২২, ২১ জানুয়ারি ২০২১
আপডেট: ২০:৩০, ২১ জানুয়ারি ২০২১

আমি ভ্যাকসিন নেব না, যা হবার হবে

'আমি ভ্যাকসিন নেব না; যা হবার হবে- এইটা হচ্ছে বাঙালির নতুন ভাব' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একজন ব্যবহারকারী এটি লিখে পোস্ট করছেন। এটি আসলে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিকেই ইঙ্গিত করে।

এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত বেশ কিছু করোনার টিকা নেয়ার পরে শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রায় সাড়ে চারশোর মতো মানুষ টিকা নেয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া ভ্যাকসিন ট্রায়ালে অংশ নেয়া একজনের মৃত্যুও হয়েছে।

সব ঘটনা মিলিয়ে করোনার ভ্যাকসিনের প্রতি মানুষের শুরুর দিকে যে আগ্রহ ছিলো তা আর নেই। বরং কেউ কেউ ভ্যাকসিন নিতে চাচ্ছেন না পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয়ে।

তাই ফেসবুকে দেয়া এই পোস্টটিকে আইনিউজের আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয় করে নিলাম। এক নজরে দেখে নেবো কেউ কেউ কেন ভ্যাকসিন নিতে চাচ্ছেন না? বা বাংলাদেশে কেন অনেকেই ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন? জানার চেষ্টা করবো এর পেছনের কারণ-

অক্সফোর্ডের টিকায় গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সঙ্গে আলাপকালে এক নারী দাবি করেন, অক্সফোর্ডের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর থেকে তাঁর স্বামীর দেহে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তিনি নিজের সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলেছেন। এতে তাঁর কর্মক্ষমতাও কমে গেছে।

ওই নারী এনডিটিভিকে বলেছেন, অক্সফোর্ডের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর থেকে তাঁর স্বামীর দেহে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তিনি নিজের সৃজনশীলতা হারিয়ে ফেলেছেন। এতে তাঁর কর্মক্ষমতাও কমে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি থেকে পাওয়া কাজ ফসকে গেছে। কারণ ওই কাজটি করার জন্য যে মনোযোগ ও সৃজনশীলতা প্রয়োজন ছিল, তা তিনি দেখাতে পারছিলেন না। বর্তমানে অনলাইনে অর্থ লেনদেনের মতো তুলনামূলক সহজ কাজও তিনি করতে পারছেন না।

ভারতে টিকা নেয়ার পর ঝামেলা, ২ জনের মৃত্যু!

নতুন বছরের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে তিন দিনে ৩ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ৫৮০ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সাতজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

এছাড়াও টিকা নেওয়ার পর দুজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও ওই দুজনের মৃত্যুর সঙ্গে করোনার টিকার কোনো যোগসূত্র নেই বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা বললেন

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক আজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, "যে কোনো ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে যেভাবে ঔষধের প্রতিক্রিয়া থাকে। তারপরও আমরা ভ্যাকসিন নিচ্ছি দীর্ঘকাল যাবত।

"কাজেই এখানেও রিঅ্যাকশন হতে পারে। ইতোমধ্যেই আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়া আছে যে যেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টিকা দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, কেউ যদি অসুস্থ বোধ করে তাদের চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি," স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান।

আছে সংশয়, আছে মুক্তি!

করোনার টিকা নেয়ার পরে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দেশেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া গেছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়ার এটি প্রতিরোধে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও মূলত এই ভ্যাকসিনি করোনার বিরুদ্ধে একটি বড় সমাধান। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনগুলোর মধ্য দিয়েই হয়তো বিশ্ববাসী মহামারী করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাবে।

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়