ঢাকা, সোমবার   ০৮ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২২, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

দুইটা মন্দ কথা বলি, কিছু মনে করবেন না...

বাংলাদেশের প্রতিটা শিশুর জন্যে সরকারি চিকিৎসা সেবার ব্যাবস্থা আছে? বাংলাদেশের প্রতিটা শিশুর জন্যে কি সরকারি প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে যাওয়ার সুযোগ আছে? উত্তরটা আপনি জানেন- নাই। বাংলাদেশের প্রতিটা শিশুর জন্যে আমরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যাবস্থা করতে পারিনি। স্কুলের কথাও আপনারা জানেন। আর যেটুকু সুযোগ আছে সেখানেও রয়েছে বৈষম্য। যতটুকু শহর আর গ্রামের শিশুদের জন্যে যেসব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্ক্রুল আছে সেগুলির মান ইত্যাদির মধ্যে আকাশ পাতাল ফারাক। আর পাহাড়ের শিশুদের অবস্থা কি জানেন?
 
আমাদের রেজাউল করিম সুমন বান্দরবানের পাহাড়ে বসবাসকারী শিশুদের অবস্থা নিজের চোখে দেখে এসেছে। এসে ফেসবুকে পোষ্ট লিখেছে। লোকজনের দরোজায় দরোজায় গিয়ে হাত পেতেছে, সাধারণ কিছু ওষুধ পত্র যদি লোকে দেয় তাইলে সেগুলি ওরা দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে যেতে পারে। তাতে যদি দুই একজন শিশুর প্রাণ বাঁচে। একটু উপরের দিকের গ্রামগুলিতে দেখা যায় দশ বিশ মাইলের মধ্যে কোন ডাক্তারই নাই এমন কি একজন মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্টও নাই। ওষুধের দোকান নাই- হাসপাতাল তো দূরের কথা। সামান্য অসুখ বিশুখে শিশুরা দিনের পর দিন কষ্ট পায় ভুগতে থাকে আর মারাও যায়।
 
রাষ্ট্র হিসাবে আমরা অনেক তো উন্নত হয়েছি। রাস্তার খরচ, সেতুর খরচ, আসমানে রকেট মারার খরচ এগুলির কথা আপনারা জানেন। অনেক টাকা আমাদের। আমাদের চোরেরাও এখন শত কোটি টাকার নিচে চুরি করে না। বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত ফরেইন কারেন্সি রিজার্ভের কথা আমরা মাঝে মাঝেই শুনতে পাই। আমাকে কি আপনারা বলতে পারেন, যেখানে আমরা আমাদের সকল শিশুদের জন্যে ন্যুনতম স্বাস্থ্য সেবার ব্যাবস্থাও করতে পারিনি, মৌলিক শিক্ষার ব্যবস্থাও করতে পারিনি, সেখানে আমরা আমাদের কোন উন্নয়ন নিয়ে গর্ব করবো?
 
সম্প্রতি বান্দরবানের নাইতং পাহাড়ে ম্রোদের জীবন যাপন বিপন্ন করে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের বিরুদ্ধে চিম্বুক থেকে বান্দরবান শহর পর্যন্ত একটি লং মার্চ করেছে। এক দেড় হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে সুশৃঙ্খলভাবে কাউকে বিরক্ত না করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড়ি রাস্তা ধরে হেঁটে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা সেই লং মার্চ সরাসরি দেখেছি। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে লং মার্চটা দেখেছি। কালারফুল একটি মিছিল। কিছু মানুষ দেখলাম নিতান্তই হতদরিদ্র- এমন কি পায়ে একজোড়া জুতাও নাই।
 
সেই লং মার্চেও এই শ্লোগানটা দেখেছি- আমরা হাসপাতাল চাই, আমরা স্কুল চাই, আমরা ফাইভ স্টার হোটেল চাই না। এই দাবীটা কি আপনাদের কাছে খুব বেশী অন্যায্য মনে হয়? ওখানকার পাহাড়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে শত শত বছর ধরে বাস করে যে ম্রো জনগোষ্ঠীর লোকেরা, ওরা দাবী জানাচ্ছে ওদেরকে যেন উচ্ছেদ করা না হয় আর ওদের বাচ্চাদের জন্যে যেন স্কুল হয় আর হাসপাতাল হয়- এইটা কি কোন অন্যায় দাবী?
 
এইবার মন্দ কথাটা বলি। আমাদের নগরবাসী শিক্ষিত মধ্যবিত্তের লোকেরা, আপনারা কেমন মানুষ বলেন তো! বান্দরবানের পাহাড়ে এইরকম একটা অন্যায় হচ্ছে, লোকজন পথে নেমেছে, আর আপনারা কেউ এইটা নিয়ে কিছু বলছেন না কেন? কতো রকমের ফেসবুক পোষ্ট দেখি আপনাদের! ঐ এক আল জাজিরা নিয়ে কতো কথা! আর কতো ঢং ঢাং! আপনাদের কি কখনো মনে হয় না যে পাহাড়ের শিশুদের জন্যে মুখ খুলে দুইটা কথা বলা দরকার! কেমন মানুষ আপনারা! এতোগুলি লোকের জীবন যাপন হুমকির মুখে, কিছু বলবেন না আপনারা? কেমন মানুষ আপনারা!
 
এক কথা থেকে আরেক কথা চলে আসে। মেজাজও আজকাল ঠিক থাকে না। মাঝে মাঝে লোকজনকে ধমক দিচ্ছি, গালি দিচ্ছি, কটু কথা বলছি। আপনারা আমার ফেসবুক বন্ধু, আপনাদেরকেও দুইটা মন্দ কথা বলয়ে দিলাম। রাগ করবেন না ভাই।
 
লেখক- ইমতিয়াজ মাহমুদ অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
 
  • বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কলামিস্ট ইমতিয়াজ মাহমুদের ফেসবুকে দেয়া পোস্ট থেকে সংগৃহীত। লেখার বিষয়, মতামত, মন্তব্য লেখকের একান্ত নিজস্ব। আইনিউজ- এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে যার মিল আছে এমন সিদ্ধান্তে আসার কোন যৌক্তিকতা সর্বক্ষেত্রে নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনিউজ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় গ্রহণ করে না।

 

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়