ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৭ জুলাই ২০২২,   আষাঢ় ২৩ ১৪২৯

সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:০২, ৩০ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ২৩:২৭, ৩০ জানুয়ারি ২০২২

লুঙ্গি নিয়ে লিখতেই পুরুষজাতি ক্ষেপে আগুন

নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের আক্ষেপ- কত সিরিয়াস বিষয়ে নিয়ে লিখেছেন। কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই তেমন তিনি দেখেননি। যেইনা মজাচ্ছলে লুঙ্গি নিয়ে লিখেছেন, অমনি পুরুষজাতি ক্ষেপে আগুন।

তিনি রোববার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯ টা ১০মিনিটে দেওয়া এক ফেসবুকে এই আক্ষেপেরে কথা লিখেন।

তিনি ঐ পোস্টে লিখেছেন-

কত সিরিয়াস বিষয় নিয়ে দিন রাত লিখছি। কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই তেমন। যেইনা মজাচ্ছলে লুঙ্গি নিয়ে লিখলাম, অমনি পুরুষজাতি ক্ষেপে আগুন। আমাদের উপমহাদেশীয় সমাজের অধিকাংশ পুরুষ বিশ্বাস করে ধর্ষণের কারণ মেয়েদের পোশাক। তারাও সরবে না হলেও নীরবে বিশ্বাস করে পুরুষের লুঙ্গি নিয়ে কথা বলার অধিকার কোনও মেয়ের নেই। আমি  লুঙ্গি নিয়ে কথা বলার স্পর্ধা দেখিয়েছি বলে আমাকে নানা ভাবে হেনস্থা করছে।  

কেউ কেউ বলছেন, 'প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি পুরুষের পোশাক লুঙ্গি'। তাদের কোনও ধারণা নেই যে বাঙালি পুরুষের নির্দিষ্ট কোনও পোশাক নেই। পোশাকের বিবর্তন প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। প্রাচীনকালে বাংলার পুরুষেরা গাছের বাকলপরতো। পরে কার্পাস তুলোর সুতোয় বানানো সেলাইবিহীন পোশাক পরতো, মূলত ল্যাংগোট পরতো। আরও পরে এসেছে ধুতি, তখন খাটো ধুতি পরতো। লুঙ্গি তো এই সেদিনকার।

কোনও কোনও বিজ্ঞ বলছেন  'পোশাক ব্যাপার নয়, প্যান্ট পাজামা পরেও পুরুষেরা অশ্লীল আচরণ করতে পারে, সমস্যা মানসিকতায়, পোশাকে নয়।' আমার যেন জানতে বাকি রয়েছে  প্যান্ট-পরা পুরুষদের অশ্লীলতা সম্পর্কে, তাদের নারীবিদ্বেষী মানসিকতার ব্যাপারে। খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, এক ভিড়ের বাসে এক লোক প্যান্টের জিপার খুলে তার সবেধন নীলমণিটি বের করে এক মেয়ের দিকে তাকিয়ে মাস্টারবেট করলো, বীর্যবানটির রসকষ ছিটকে পড়েছিল বাসে-বসা অনেকের গায়ে। পুরুষের 'মানসিকতা'  নিয়ে মেয়েদের জ্ঞান দেওয়ার জন্য অন্তত পুরুষের  দরকার নেই --তা সেই পুরুষেরা জানে না, যারা আগ বাড়িয়ে জ্ঞান দেয়।

ছোটবেলা থেকেই মেয়েরা, বিশেষ করে বাংলায় যাদের জন্ম, দেখেছে হাটে মাঠে ঘাটে কীভাবে অচেনা ছেলেরা  লুঙ্গি উঠিয়ে  তাদের মূল্যবান ধন সম্পদ দেখিয়ে ফ্যাক ফ্যাক করে সশব্দে হাসে, এবং এই ভেবে তৃপ্তি পায় যে মেয়েদের বেশ অপমান করা গেল। মেয়েরা বড় হয়েও দেখে, লুঙ্গি পরা অনেক লোকই  তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বার বার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করে। এটি দেখে মেয়েরা যে অস্বস্তিতে ভোগে, তা  তারা একেবারেই জানে না, মনে হয় না।  লুঙ্গি পরলেও আণ্ডারওয়্যার পরা উচিত বলে আমি মনে করি। লুঙ্গি সম্পর্কে আমার মতটি 'সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত মত'। আমি বলিনি লুঙ্গিকে  আইন করে নিষিদ্ধ করা হোক। এমনিতে এটি একদিন  বিলুপ্ত হবে,  শাড়ি যেমন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হচ্ছে।

পোস্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন

এর আগে তিনি শনিবার (২৯ জানুয়ারি) ফেসবুক পুরুষের লুঙ্গি নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন- পুরুষের লুঙ্গিটাকে তাঁর খুব অশ্লীল পোশাক বলে মনে হয়।

সেই পোস্টে তসলিমা নাসরিন লিখেছিলেন

পুরুষের লুঙ্গিটাকে আমার খুব অশ্লীল পোশাক বলে মনে হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে যে পুরুষেরা লুঙ্গি পরে, তাদের বেশির ভাগই  কোনও আণ্ডারওয়্যার পরে না, লুঙ্গিটাকে অহেতুক খোলে আবার গিঁট দিয়ে বাঁধে। কখনও আবার  গিঁট ঢিলে হয়ে হাঁটুর কাছে বা গোড়ালির কাছে চলে যায় লুঙ্গি। তাছাড়া লুঙ্গি পরার পরই শুরু হয় তাদের অঙ্গ চুলকানো। ডানে বামে পেছনে সামনে এত কেন চুলকোয় কে জানে। সামনে মানুষ থাকলেও তারা অঙ্গ অন্ড কিছুই চুলকোনো বন্ধ করে না, না চুলকোলেও ওগুলো ধরে রাখার, বা ক্ষণে ক্ষণে ওগুলো আছে কি না পরখ করে দেখার অভ্যেস কিছুতেই ত্যাগ করতে পারে না। পরখ করার ফ্রিকোয়েন্সিটা অবশ্য মেয়েদের দেখলে বেশ বেড়ে যায়।

পোস্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আইনিউজ/এমজিএম

Green Tea
সোশ্যাল মিডিয়া বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়