ঢাকা, বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১৫ ১৪৩৩

এ জে লাভলু, বড়লেখা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৩, ২৩ জুলাই ২০২১
আপডেট: ২৩:১৯, ২৩ জুলাই ২০২১

প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে হাকালুকি হাওরে পর্যটকদের ভিড়

হাকালুকির হাওরে পর্যটকরা। ছবি: এ জে লাভলু।

হাকালুকির হাওরে পর্যটকরা। ছবি: এ জে লাভলু।

পশ্চিম দিগন্তে লাল আভা ছড়িয়ে হেলে পড়েছে সূর্য। এই আনন্দে যেন আকাশে খেলা করছে মেঘদল। সেই আনন্দে তাল মিলিয়ে বাতাসও বইছে বেশ জোরেশোরে। হাওরের অথৈ জলে ভেসে চলছে ছোট-বড় নৌকা। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) বিকেলে হাওরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াচ টাওয়ার থেকে সেই দৃশ্য মুগ্ধ হয়ে দেখছেন পর্যটকরা। বর্ষাকালে হাকালুকি হাওরের রূপ এমনই।

তাইতো করোনাকালে দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্দি থাকা মানুষ একটু প্রশান্তির পরশ পেতে এবারের ঈদুল আজহার ছুটিতে হাকালুকি হাওরে ছুটে এসেছিলেন। তবে বেশিরভাগ পর্যটকই স্বাস্থ্য বিধি মানেননি। এদিকে হাওরে পর্যটকের ভিড় হওয়ায় স্থানীয় নৌকা চালকদের আয়-রোজগার বেড়েছে। 

হাকালুকি হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য। ছবি: ছবি: এ জে লাভলু।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগের হাকালুকি বিট অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বন্ধ রয়েছে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রগুলো। দীর্ঘদিন ধরে ঘরবন্দি মানুষ হাঁপিয়ে ওঠেছেন। তারা একটু প্রকৃতির পরশ পেতে চাইছেন। এ কারেণে ঈদের ছুটিতে মানুষ বেড়াতে আসছেন হাকালুকি হাওরে। ঈদের দিন বুধবার (২১ জুলাই) পরদিন বৃহস্পতিবার সেখানে প্রায় ৮ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।

তবে শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে লকডাউন শুরু হওয়ায় সেখানে পর্যটকের তেমন সমাগম হয়নি। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাওরপাড়ের হাল্লা গ্রামে সড়কের উপর সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে অনেকগুলো গাড়ি। আশপাশের উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাওরে ছুটে এসেছেন নানা বয়সী মানুষ। সড়কের পাশ ঘেঁষে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে ছোট-বড় নৌকা। মানুষজন দর কষাকষি করে সেসব নৌকায় উঠে হাওরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ওয়াচ টাওয়ার থেকে কেউ কেউ পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। সাঁতার কাটছেন। তবে তাদের বেশিরভাগ পর্যটকই স্বাস্থ্য বিধি মানছেন না। বন বিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমিশিম খাচ্ছেন। 

হাওরে ঘুরতে আসা পর্যটক ফাহিম আহমদ বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে ওঠেছি। দীর্ঘদিন ধরে সব পর্যটন কেন্দ্রগুলোও বন্ধ। কোথাও যাওয়া হয়নি। ঈদের কারণে  সেই  সুযোগটা হয়েছে। তাই হাওরে আমরা বন্ধুরা মিলে ঘুরতে এসেছি। হাওরের পানিতে নেমে গোসল করেছি। এখানকার পরিবেশ মনোমুগ্ধকর।  

তাওহিদ সারোয়ার মান্না ও সুলতান আহমদ বলেন, বর্ষাকালে হাওরে প্রায় আসা হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে প্রকৃতির কাছাকাছি কোথাও যাওয়া হয়নি। ঘরে থাকতে অস্বস্থি লাগছে। প্রাণভরে একটু শ্বাস নিতে পারছি না। তাই এখানে এসেছি। একটু প্রশান্তি পেতে। ভালো সময় কেটেছে। শেষ বিকেলে সূর্য ডোবার দৃশ্য। আকাশে মেঘের খেলা। হাওরের জলে নৌকার বয়ে চলা দৃশ্য দেখে মন জুড়িয়ে গেছে। 

স্থানীয় নৌকাচালক সুনাম উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে নৌকার চাহিদা বাড়ে। এই  সময় মানুষজন হাওরে ঘুরতে আসেন। তখন আমাদের বাড়তি আয়-রোজগার হয়। 

বন বিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা (জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট) তপন চন্দ্র দেবনাথ শুক্রবার বিকেলে বলেন, ঈদের দিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুদিনে প্রায় ৮ হাজার পর্যটক হাওরে ঘুরতে আসছেন। লকডাউন শুরু হওয়ায় আজ শুক্রবার পর্যটক খুব কম। যারা আসছেন, তারা আশপাশের এলাকার। তাদের ফিরিয়ে দেওয়া  হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি।

আইনিউজ/এজে লাভলু/এসডি

Green Tea
সিলেট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়