ঢাকা, সোমবার   ১৬ মে ২০২২,   জ্যৈষ্ঠ ২ ১৪২৯

ডোরা প্রেন্টিস

প্রকাশিত: ২০:১৪, ১৮ জানুয়ারি ২০২২
আপডেট: ২০:৪৯, ১৮ জানুয়ারি ২০২২

`রাজাদের শহর` রেইন্সঁ

ঐতিহ্যবাহী রেইন্সঁ শহর। ছবি : লিমা খান

ঐতিহ্যবাহী রেইন্সঁ শহর। ছবি : লিমা খান

বিস্কিট রোজ নামে পরিচিত সুস্বাদু গোলাপি বিস্কিট রেইন্সঁ  শহরের একটি বিশেষত্ব। শ্যাম্পেনে এই বিস্কিট ভিজানো এখানের একটি পুরনো প্রথা।

রেইন্সঁ শহরটি প্যারিস থেকে প্রায় ১২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। এটি শ্যাম্পেন-আর্ডেন অঞ্চলের রাজধানী। শ্যাম্পেন উৎপাদনে এটি সর্বাধিক জনপ্রিয়। এই অঞ্চল ঝকঝকে সাদা-ওয়াইনের জন্যই বেশি পরিচিত। রেইন্সঁ শহরের বড় বড় শ্যাম্পেন কোম্পানিগুলো তাদের ভূগর্ভস্থ ভান্ডার ও আঙ্গুরক্ষেত পরিদর্শনে গেলে, সাদা-ওয়াইনের স্বাদ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানায়।

ঐতিহ্যবাহী রেইন্সঁ
রেইন্সঁ শহরটি ফরাসি রাজতান্ত্রিক ইতিহাসে রাজাদের রাজ্যাভিষেকের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে বিশেষ অবস্থানে রয়েছে। এজন্য এই শহরকে প্রায়ই ফরাসিতে 'লা সিতে দে স্যাক্র' (La Cité des Sacres ) বা 'লা সিতে দে রোয়া (La Cité des Rois ) নামে ডাকা হয়। বাংলায় যাকে বলে 'রাজাদের শহর'।
লা ক্যাথেড্রাল দো রেইন্সঁ (La Cathedrale de Reims)। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, ফরাসি রাজারা এই ক্যাথেড্রালেই মুকুট পড়তেন। 

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, জার্মানরা এই ক্যাথেড্রালে বোমাবর্ষণ করেছিলো। যার ফলে এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী যুদ্ধকালীন সময়ে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত ক্যাথেড্রালটি  ফ্রান্সে সংগঠিত জামার্ন  বিরোধী প্রচারের কেন্দ্রীয় চিত্রগুলোর অন্যতম একটি হয়ে ওঠে। বস্তুত জার্মান বোমা হামলার মূল লক্ষ্য ছিলো প্রতীকী স্মৃতিস্তম্ভগুলো ধ্বংস করে দিয়ে ফরাসি জনগণের মনোবল ভেঙ্গে দেয়া।

লো প্যালে দু তো (Le Palais du Tau) নামক এই  প্রাসাদটি রেইন্সেঁর ক্যাথেড্রালে রাজ্যাভিষেকের সময় ফরাসি রাজাদের  বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হত। বর্তমানে এটি একটি যাদুঘর। এতে বর্তমানে বিগত শতাব্দীর ফরাসি রাজাদের রাজ্যাভিষেকের রাজকীয় পোশাক, মূর্তি এবং ক্যাথেড্রালের ধনসম্পদ প্রদর্শন করা হয়।

লো মুউজে স্যাঁ- রেমি (Le Musée Saint-Rémi) ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত পুরাতন একটি মঠ বর্তমানে স্যাঁ রেমি মিউজিয়াম নামে পরিচিত। এতে বর্তমানে মধ্যযুগের সময়কার দেয়ালের জন্যে তৈরি বিশেষ নকশাবিশিষ্ট পর্দা (Tapestrie), আসবাবপত্র, গহনা, মৃৎশিল্প, অস্ত্র, কাঁচের ওপর করা বিভিন্ন কারুকাজ এবং ভাস্কর্য রয়েছে।

১৯৯১ সালে এই ক্যাথেড্রাল, তো প্রাসাদ এবং স্যাঁ রেমির মঠটি  তাদের অসামান্য গথিক স্থাপত্যশৈলী (দ্বাদশ থেকে ষোড়শ  শতাব্দী  পর্যন্ত পশ্চিম ইউরোপে প্রচলিত এক বিশেষ স্থাপত্যরীতি) এবং ফরাসি রাজতন্ত্রের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে  ইউনিস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে তালিকাভুক্ত হয়।

সারেন্ডার মিউজিয়াম 

সারেন্ডার মিউজিয়াম (Museum of Surrender), এই মিউজিয়ামটি হল সেই ভবন যেখানে ১৯৪৫ সালে ৭ই মে জেনারেল আইজেন হাওয়ার এবং মিত্র বাহিনী (the Allies)–এর কাছে   জার্মান সশস্ত্র বাহিনী নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করেছিল। 

প্রতি বছর জুন মাসে এই শহরে 'লে ফেত জয়ানিক' নামক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। যা ১৪২৯ সালে রেইন্সঁ শহরে আর্কের জোয়ান (Joan of Arc)-এর আগমন এবং ক্যাথেড্রালে ফরাসি রাজা চার্লস সপ্তম-এর রাজ্যাভিষেককে স্মরণ করে আয়োজন করা হয়। 

ফ্রান্সে রেইন্সঁ শহরে ক্যাথেড্রাল চত্বর আলোকিত করে ক্রিসমাসের বড় বাজার বসে। যা মার্কশে দো নোয়েল নামে পরিচিত। এখানের দোকানগুলি শৈল্পিক পণ্য, আলংকারিক সামগ্রী, তৈজসপত্র এবং উৎসবের যাবতীয় পসরা সাজিয়ে বসে।

শ্যাম্পেনে বিস্কিট ভিজানো হয় রেইন্সঁ শহরে

বিস্কিট রোজ নামে পরিচিত সুস্বাদু গোলাপি বিস্কিট রেইন্সঁ  শহরের একটি বিশেষত্ব। শ্যাম্পেনে এই বিস্কিট ভিজানো এখানের একটি পুরনো প্রথা।

বিস্কিট রোজ ও শ্যাম্পেন। ছবি : সংগৃহীত

মূল লেখা : হাসনাত জাহান  
অনুবাদ : ডোরা প্রেন্টিস
সূত্র :  উইকিপিডিয়া
ছবি : লিমা খান

Green Tea
সর্বশেষ
জনপ্রিয়