ঢাকা, রোববার   ২০ জুন ২০২১,   আষাঢ় ৬ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৭, ৩১ মে ২০২১
আপডেট: ২৩:১৭, ৩১ মে ২০২১

তদন্ত করার কথা বলে গৃহবধূকে থানায় ডেকে যৌন হয়রানি, এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

অভিযুক্ত এসআই আসাদুল ইসলাম

অভিযুক্ত এসআই আসাদুল ইসলাম

প্রতিবেশির সঙ্গে ছিলো বিরোধ, এই নিয়ে পুলিশের কাছে ছুটে যান এক গৃহবধূ। থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। কিন্তু দেখা যায়, ঘরের শত্রুই বিভীষন। সেই জিডির তদন্ত করতে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী গৃহবধূকে থানায় ডেকে যৌন হয়রানি করেন। এমন অভিযোগই পাওয়া গেছে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায়।

জিডি তদন্তের নামে ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে যৌন হয়রানির অভিযোগে পুলিশের উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসির) বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (২৪ মে) বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন যৌন হয়রানির শিকার ওই গৃহবধূ। তবে এক সপ্তাহ পর আজ সোমবার (৩১ মে) বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর দাবি, পুলিশের চাপের মুখে এতদিন কাউকে বিষয়টি জানাতে পারেননি। 

বাদীর আইনজীবী আসাদুজ্জামান হাওলাদার জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

মামলার এজাহার উল্লেখ করা হয়েছে, নগরীর ধান গবেষণা রোড এলাকার বাসিন্দা ওই গৃহবধূ গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে একটি জিডি করেন। তা তদন্তের দায়িত্ব পান কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আসাদুল ইসলাম। তিনি জিডির বিষয়টি তদন্তের জন্য বাদীকে থানায় ডেকে নেন।

১৬ অক্টোবর বাদী থানায় গেলে এসআই আসাদুল নানা অজুহাতে তার রুমে বাদীকে বসিয়ে রাখেন। এরপর দস্তখত গ্রহণের অজুহাতে এসআই আসাদুল বাদীর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন এবং ঘাড়ে চুমু দেন। এর প্রতিবাদ জানালে মামলার আসামি বাদীকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরেন এবং বিবাহ করার আশ্বাস দেন। এ সময় বাদীর স্বামী এসে পড়লে এসআই আসাদুল ওই নারীকে ছেড়ে দেন।

এ ঘটনার পরপরই বাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালে তিনি বিচার করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। ওসি তখন জানান অভিযোগের বিষয়ে একজন নারী এএসআই তদন্ত করবেন। যৌন হয়রানির শিকার গৃহবধূ ওই এএসআইয়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে জানতে পারেন তিনি কিছুই জানেন না। মূলত অসত্য অজুহাতে কালক্ষেপণ করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে থানায় লিখিত এজাহার দিতে চাইলে তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। মামলায় থানার সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যালোচনা করলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও বাদী উল্লেখ করেছেন। 

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, মামলার বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে আমরাও খতিয়ে দেখছি।

সূত্র: ঢাকাপোস্ট

আইনিউজ/এসডি

Green Tea
সারাবাংলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়